থমকে গেলো সোনাহাট স্থলবন্দর, বন্ধ পাথর আমদানি
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২২ জুলাই ২০২৬, ০৭:৫৩ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
কুড়িগ্রামের সোনাহাট স্থলবন্দর দিয়ে অনির্দিষ্টকালের জন্য ভারত থেকে পাথর আমদানি বন্ধ রেখেছেন আমদানিকারকরা। এতে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও শ্রমিকরা সংকটে পড়ার পাশাপাশি সরকার প্রতিদিন বিপুল রাজস্ব হারাচ্ছে।
জানা গেছে, ভারতের গোলকগঞ্জ স্থলবন্দরে পাথর ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেট, হঠাৎ দাম বৃদ্ধি ও চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কমিয়ে দেওয়ার প্রতিবাদে গত ১৮ জুলাই থেকে সোনাহাট স্থলবন্দরের ব্যবসায়ীরা পাথর আমদানি বন্ধ রেখেছেন।
বন্দর সংশ্লিষ্টরা জানান, সাধারণত প্রতিদিন গড়ে ১০০টি ভারতীয় ট্রাক পাথর নিয়ে বন্দরে প্রবেশ করলেও গত ছয় দিন ধরে একটি ট্রাকও আসেনি।
দেশীয় আমদানিকারকদের অভিযোগ, ভারত থেকে কয়েক দিন ধরে নিম্নমানের ও তুলনামূলক ছোট পাথর পাঠানো হচ্ছে, যা 'রিভার স্টোন বোল্ডার' মানের নয়। এসব পাথরের আকার ও মান চাহিদামতো না হওয়ায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলো তা কিনতে আগ্রহ দেখাচ্ছে না।
আমদানিকারকদের দাবি, আগে প্রতি টন 'রিভার স্টোনে'র দাম ছিল ১১ ডলার, যা দেশে পৌঁছাতে খরচ পড়ত প্রায় ১ হাজার ৩০০ টাকা। বর্তমানে দর বেড়ে ১৩ দশমিক ৫ ডলার হওয়ায় প্রতি টনের খরচ দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ হাজার ৬৭০ টাকা। তা ছাড়া খনি থেকে সরাসরি ট্রাকে তোলায় পাথরে মাটি ও বালুর পরিমাণও বেশি থাকছে। মূলত এসব কারণেই আমদানি বন্ধ রেখেছেন তারা।
শ্রমিক হাশেম আলী ও আছর উদ্দিন বলেন, পাথর না আসায় কাজ নেই। পরিবার নিয়ে কষ্টে দিন কাটছে।
ট্রাকচালক ফরিদুল ইসলাম বলেন, ‘পাথর আমদানি বন্ধ থাকায় আয়-রোজগার অনেক কমে গেছে।’
আমদানি-রপ্তানিকারক সমিতির সহ-সাধারণ সম্পাদক আবু হেনা মাসুম বলেন, ‘ভারত থেকে নিম্নমানের পাথর আসায় ঠিকাদাররা তা কিনছেন না। তাই আপাতত পাথর আমদানি বন্ধ রয়েছে।’
সোনাহাট স্থলবন্দরের কাস্টমস ক্লিয়ারিং অ্যান্ড ফরওয়ার্ডিং (সিঅ্যান্ডএফ) এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর আলম আকমল বলেন, ‘ভারতে রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে পাথর ব্যবসায় সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য বেড়েছে। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম, পাথরের মানও খারাপ। এর সঙ্গে দাম বেড়ে যাওয়ায় ব্যবসায়ীরা আমদানি বন্ধ রেখেছেন।’
সোনাহাট স্থলবন্দরের সহকারী পরিচালক (ট্রাফিক) আমিনুল হক বলেন, ‘দুই দেশের ব্যবসায়ীদের সমস্যার কারণে পাথর আমদানি বন্ধ রয়েছে। এতে সরকার প্রতিদিন বিপুল পরিমান রাজস্ব হারাচ্ছে।’
