৫০ টাকার নিচে আলু ছাড়া মিলছে না কোন সবজি
বিপাকে নিম্ন আয়ের মানুষেরা
মো. রাজীব চৌধুরী রাজু, নীলফামারী
প্রকাশ: ০৪ আগস্ট ২০২৬, ০৮:০৬ পিএম
ফাইল ছবি
নীলফামারীতে গত কয়েক দিনের টানা ভারি বর্ষণে সরবরাহ কম দেখিয়ে লাগামহীন ভাবে বাড়ছে চালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম। এতে করে বিপাকে পড়েছে নিম্ন আয়ের মানুষেরা।
সরেজমিনে, জেলার সদর উপজেলার সাহেব বাজার, নতুন বাজার, শাখামাছা বাজারসহ বেশ কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, শুধুমাত্র আলু ছাড়া ৫০ টাকার নিচে মিলছে না চলতি মৌসুমে বাজারে সরবরাহকৃত কোন সবজিই।
স্থানীয় খুচরা বাজার গুলোতে প্রতিকেজি পটল বিক্রয় হচ্ছে ৬০ থেকে ৭০ টাকায়, প্রতিকেজি কাঁকরোল বিক্রয় হচ্ছে ৬০ টাকা দরে। প্রতিকেজি বেগুন বিক্রয় হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকা দরে। এছাড়াও, বিভিন্ন প্রকার চালে কেজি প্রতি বেড়েছে ৫ থেকে ৭টাকা। দাম বাড়লেও স্থিতিশীল থাকছে না চালের বাজার। ফলে, বিপাকে পড়েছেন নিম্ন আয়ের মানুষজন।
এদিকে, দাম বৃদ্ধির ঝাঁল বেড়েছে কাঁচা মরিচের। জেলা সদরের কাঁচা বাজার গুলোতে প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ খুচরা বিক্রয় হচ্ছে ৩শ ৩০ থেকে ৩শ ৫০ টাকা দরে। এছাড়াও চলতি ভরা বর্ষা মৌসুমেও জেলা শহরের মাছের বাজার গুলোতে দেশীয় প্রজাতির মাছের দাম যেন আকাশ ছোঁয়া। দেশীয় মাছ নিম্নবিত্তদের পাশাপাশি মধ্যবিত্তদেও ক্রয় ক্ষমতার বাহিরে যেতে বসেছে বলে মন্তব্য করছেন জেলা সদরের সাহেব বাজারে আসা ক্রেতাদের অনেকেই।
শুধু দেশীয় প্রজাতির মাছই নয়, পাল্লা দিয়ে দাম বেড়েছে দেশীয় মুরগীসহ ফার্মের সোনালী ও ব্রয়লার মুরগীরও। প্রতিকেজি দেশীয় মুরগী বিক্রয় হচ্ছে ৬শ ৫০ টাকা দরে। সোনালী মুরগী প্রতিকেজি ৩শ ৩০ টাকা ও ব্রয়লার মুরগী প্রতি কেজি বিক্রয় হচ্ছে ১৮০ থেকে ২শ টাকা দরে। প্রতিকেজি গরুর মাংস ৭শ ৫০ টাকা এবং প্রতি কেজি খাসির মাংস ১০৫০ থেকে ১১শ টাকা দরে বিক্রিয় হচ্ছে খুচরা বাজার গুলোতে। মুল্য বৃদ্ধির তালিকায় রয়েছে ভোজ্য তেলসহ গৃহস্থালীতে ব্যবহার্য প্রায় প্রত্যেকটি পণ্যের।
মঙ্গলবার (৪ আগষ্ট) সকালে জেলা সদরের সাহেব বাজারে সদাই নিতে আসা রিক্সা চালক আব্দুল গণি মিয়া বলেন, “গতকাল ৪টি ফার্মের মুরগীর ডিম ৪৮ টাকায় কিনছিলাম। আজ ওই ৪টি ডিমের দাম ৫২ টাকা নিলো।”
ওই বাজারে সদাই নিতে আসা আরিফুল ইসলাম নামের অপর এক ক্রেতা বলেন, ভরা এই বর্ষা মৌসুমেও বাজারে দেশীয় প্রজাতির মাছের দাম আকাশ ছোঁয়া, কেজি প্রতি সর্বনিম্ন ৫শ টাকার নিচে মিলছে না দেশীয় প্রজাতির কোন মাছ।
জেলা প্রশাসনের সূত্র গুলো বলছে, পণ্যের দাম বৃদ্ধিসহ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে নানা অসঙ্গতি পেয়ে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনার মাধ্যমে ইতিমধ্যে অনেক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করা হয়েছে এবং এটি চলমান রয়েছে।
