তিস্তার আকস্মিক বন্যায় সড়ক ভেঙে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন
এস আই সবুজ, পাটগ্রাম (লালমনিরহাট)
প্রকাশ: ০৭ আগস্ট ২০২৬, ১২:০১ এএম
ছবি : ভোরের কাগজ
লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার দহগ্রাম ইউনিয়নে তিস্তা নদীর আকস্মিক বন্যায় আঞ্চলিক সড়ক ভেঙে যাওয়ায় প্রায় ২ হাজার পরিবারের চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। বুধবার (৫ আগস্ট) সন্ধ্যায় তিস্তার পানি বেড়ে বন্যা দেখা দিলেও বৃহস্পতিবার পানি নেমে যাওয়ার সময় সড়কের ব্যাপক ক্ষতি হয়।
স্থানীয়দের ভাষ্য, উজান থেকে নেমে আসা ঢলে বুধবার সন্ধ্যা থেকে তিস্তা নদীর পানি প্রায় ২ থেকে ৩ ফুট বৃদ্ধি পায়। এতে দহগ্রাম ইউনিয়নের অন্তত ১০টি এলাকা প্লাবিত হয়। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে পানি ধীরে ধীরে কমতে শুরু করে।
বন্যায় ইউনিয়নের ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সৃষ্টিয়ারপাড়, সিসটিয়ারপাড়, আঙ্গোরপোতা, ডাঙ্গাপাড়া, মিস্ত্রিপাড়া, প্রধানপাড়া, ওলেরপাড় ও সাকোয়াপাড়া এলাকা পানিতে তলিয়ে যায়।
স্থানীয়দের দাবি, প্রায় ৫০০ একর আমন ধানের জমি বন্যার পানিতে ডুবে যায়। তবে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মতে, কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পানি নেমে যাওয়ায় ফসলের উল্লেখযোগ্য কোনো ক্ষতি হয়নি।
পানি সরে যাওয়ার সময় দহগ্রাম ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সৃষ্টিয়ারপাড় এলাকায় সাকোয়া নদীর ওপর নির্মিত সেতুর দুই পাশের সংযোগ সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এছাড়া ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সিসটিয়ারপাড় থেকে আঙ্গোরপোতা ও পাটগ্রামগামী আঞ্চলিক পাকা সড়কের প্রায় ২০ ফুট অংশ ভেঙে প্রায় ১০ ফুট গভীর গর্তের সৃষ্টি হয়েছে।
এতে ইউনিয়নের ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের প্রায় ২ হাজার পরিবারের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। শিশু, বৃদ্ধ ও গৃহপালিত পশু নিয়ে এসব পরিবারের সদস্যরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।
দহগ্রাম ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা সালাম মিয়া (৪৫) বলেন, “সকালে এসে দেখি রাস্তা ভেঙে গেছে। এ রাস্তা ঠিক না করলে চলাচল করা সম্ভব না। ভাঙা রাস্তার পাশ দিয়ে চলাচলের সময় গর্তে পড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে অনেক পরিবার সমস্যায় পড়েছে।”
পাটগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তানভীর হোসেন বলেন, “বন্যায় রাস্তা ভেঙে যাওয়ার বিষয়টি জানার পর সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীর সঙ্গে কথা বলেছি। তারা দ্রুত লোকজন নিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক মেরামতের ব্যবস্থা করবেন বলে জানিয়েছেন।”
