মাদক-জুয়ার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোই কাল, না ফেরার দেশে শিক্ষক আরিফুল
লালমনিরহাট প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২২ আগস্ট ২০২৬, ০৬:২৮ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
মাদক ও অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়াই যেন কাল হয়ে দাঁড়াল লালমনিরহাটের মেধাবী শিক্ষক আরিফুল ইসলামের জন্য। হামলার পর ২১ দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে শুক্রবার রাতে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালের আইসিইউতে মারা গেছেন তিনি। তাঁর মৃত্যুতে এলাকায় নেমে এসেছে শোক, পাশাপাশি বিরাজ করছে তীব্র ক্ষোভ।
নিহত আরিফুল ইসলাম ৪১তম বিসিএসের নন-ক্যাডার কর্মকর্তা ছিলেন। তার এই মর্মান্তিক প্রয়াণে পুরো লালমনিরহাট জুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং এলাকায় তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে।
স্থানীয় সূত্র ও মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, নিজ এলাকা ও কর্মপরিবেশে মাদক, জুয়া এবং বিভিন্ন অনাচারের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন শিক্ষক আরিফুল। সমাজকে কলুষমুক্ত করতে তিনি ও স্থানীয় সচেতন ব্যক্তিরা অপরাধীদের বারবার সতর্ক করেছিলেন। কিন্তু অন্ধকারের এই কারবারিরা তার এই ন্যায়সংগত অবস্থান মেনে নিতে পারেনি।
আরও পড়ুন: ‘এত উত্তেজনা শরীরের পক্ষে ভালো নয়’, ছাত্রলীগ নেত্রীকে ছাত্রদল নেত্রী
গত ১ আগস্ট প্রতিদিনের মতো কর্মস্থল থেকে বাড়ি ফেরার পথে ওঁৎ পেতে থাকা দুর্বৃত্তরা তার ওপর অতর্কিত ও নৃশংস হামলা চালায়। দেশীয় অস্ত্রের আঘাতে তার মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম হয়।
প্রাথমিকভাবে স্থানীয় হাসপাতাল এবং পরবর্তীতে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার চিকিৎসা চলে। অবস্থার মারাত্মক অবনতি ঘটলে তাকে দ্রুত ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়। এভারকেয়ার হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই চালিয়েও তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
আরিফুলের ওপর হামলার ঘটনায় তাঁর বাবা গত ২ আগস্ট রহিদুলকে প্রধান করে ১০ জনের বিরুদ্ধে একটি মামলা করেন। সেই মামলায় ৮ জন আদালত থেকে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। প্রধান অভিযুক্ত রহিদুলকে গত ১২ আগস্ট রাতে ঢাকার হাতিরঝিল নয়াটোলা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে র্যাব।
এদিকে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, শিক্ষক আরিফুল যখন হাসপাতালের বেডে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছিলেন, ঠিক সেই সময়ে তার পরিবারে নতুন অতিথি হিসেবে জন্ম নেয় এক নবজাতক সন্তান। সমাজকে আলোকিত করার পণ নেওয়া এই শিক্ষক নিজের নবজাতক সন্তানের মুখটি পর্যন্ত দেখে যাওয়ার সুযোগ পাননি।
শিক্ষকের ওপর হামলার বিচার ও অপরাধীদের ফাঁসির দাবিতে এর আগে স্থানীয় এলাকাবাসী ও শিক্ষার্থীরা মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেন। তবে শুক্রবার রাতে মৃত্যুর সংবাদটি লালমনিরহাটে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী অভিযুক্তদের কয়েকটি বাড়িঘরে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। খবর পেয়ে পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
এ বিষয়ে আদিতমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)নাজমুজ সাকিব সজিব ভোরের কাগজ সাংবাদিক জানান, শিক্ষকের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় জনতা ক্ষিপ্ত হয়ে কয়েকটি বাড়িতে ভাঙচুর ও আগুন দেয়।
বর্তমানে এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পূর্ণ পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। পুরো ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সরাসরি জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।
