নিয়োগ পরীক্ষায় নম্বর কমিয়ে ভাইভাতে বাড়ানোর প্রতিবাদ, বেরোবিতে বিক্ষোভ
বেরোবি প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:৪৯ পিএম
ছবি: ভোরের কাগজ
নিয়োগ পরীক্ষার লিখিত অংশে নম্বর কমিয়ে ভাইভায় নম্বর বাড়ানোর মাধ্যমে দলীয়করণ, ঘুষ-বাণিজ্য ও দুর্নীতির সুযোগ তৈরির অভিযোগে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) শিক্ষার্থীরা।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটক থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়। পরে মিছিলটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় মূল ফটকে এসে শেষ হয়।মিছিল শেষে সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করেন শিক্ষার্থীরা।
এ সময় বক্তারা নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা নিশ্চিত করার দাবি জানান। তারা অভিযোগ করেন, লিখিত পরীক্ষার নম্বর কমিয়ে ভাইভায় বেশি নম্বর রাখলে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় পক্ষপাতিত্ব ও অনিয়মের সুযোগ তৈরি হবে এবং নিয়োগে দলীয়করণ বৃদ্ধি পাবে।এ সময় শিক্ষার্থীরা নিয়োগ পরীক্ষায় ভাইভাতে আগের প্রক্রিয়া বহাল রাখার দাবি জানান এবং না মানলে আন্দোলনের হুশিয়ারি দেন।
বিশ্ববিদ্যালয় শাখা শিবিরের সেক্রেটারি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৪তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ইমরান বলেন, “সরকারি চাকরির ভাইভা পরীক্ষায় প্রায় ৪০০ শতাংশ নম্বর বৃদ্ধি করা হয়েছে। এর পেছনে একটাই কারণ রয়েছে—তারা দলীয় ক্যাডারদেরই চাকরি দিতে চায়। তারা মেধাবীদের বঞ্চিত করে নিজেদের দলীয় ক্যাডারদের চাকরি দিতে চায়। আমরা শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে তাদের হুঁশিয়ার করে বলতে চাই, কোনোভাবেই এ ধরনের প্রহসন মেনে নেওয়া হবে না।

অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান বলেন, ২৪ শে যেই ছাত্র সমাজ রাস্তায় নেমে এসে জীবনের ঝুঁকি নিয়েছিল, রক্ত দিয়েছিল জীবন দিয়েছিল। তার বিনিময়ে এই বিএনপি সরকার ক্ষমতায় এসেছে। কাজেই আমাদের সকলের প্রত্যাশা ছিল দেশবাসীর প্রত্যাশা ছিল এই বিএনপি যেহেতু ছাত্র সমাজের রক্তের উপর দিয়ে ক্ষমতায় এসেছে তারা অন্ততপক্ষে আর যাই করুক বা না করুক অন্ততপক্ষে এই নিয়োগ ব্যবস্থা স্বচ্ছ করবে। কিন্তু আমরা দেখতে পাচ্ছি তারা ক্ষমতায় আসার পরে একের পর এক বন্দি ফিকির করছে কিভাবে নিয়োগ ব্যবস্থা অস্বচ্ছ করা যায়। কিভাবে দুর্নীতির কুয়ার ভিতরে এই চাকরি নিয়োগটাকে নিক্ষেপ করা যায়।
তিনি আরো বলেন, তারা ১৭ বছরের ক্ষুধা নিবারনের জন্য আবারো নতুন করে ফন্দি ফিকির করেছে। কোটার থেকে বড় কোটা চালু করেছে। এই ভাইবার মধ্য দিয়ে ভাইবার মার্ক শুধু বাড়ানো হয়েছে এটা নিয়ে আমরা চিন্তিত না আমরা চিন্তিত লিখিত পাস মার্ক কমানো হয়েছে। ভাইবাতে মার্ক ৫০ করা হয়েছে। লিখিত ৫০% থেকেকরা হয়েছে। আমাদের কনসেন্ট্রেশন জায়গা এখানে। এই জায়গাতে ৩৫ মার্ক নিয়ে তেলবাজরা গুটিবাজরা যখন কোন লিখিত পাশ করবে ভাইবাতে গিয়ে তারা কিন্তু টাকার টাকা খেলা শুরু করে।
আমাদের প্রশ্ন থেকে যায় সাধারণ শিক্ষার্থীরা কি আপনাদের কাছে কখনো দাবি জানিয়েছে যে আপনারা লিখিত নাম্বার কমান আর ভাইবার নাম্বার বাড়ান। অনেকগুলো ন্যায্য দাবি থাকতে আপনারা তো ন্যায্য দাবি মানেন না নিজে থেকে কেন আপনারা এগিয়ে আসলেন যে আমাদের ভাইবার নাম্বার বাড়াতে হবে আর হচ্ছে।
ফারুক হোসেন বলেন, আমরা ২৪ শের পর ঘরে ফির গিয়ে ছিলাম কিন্তু আমাদের আবারও আন্দোলনে আসতে হলো। আমরা চাকরির সচ্ছলতা নিশ্চিত করতে বড় একটি শক্তিকে পতন ঘটিয়েছে। আপনরা এমন কিছু করেন না যাতে আমাদের আবারও তেমন আন্দোলন করতে হয়৷ আপনাদের যে যে বিষয়ে সংস্কার আনার জন্য ক্ষমতায় আনা হয়েছে সে বিষয়গুলো সংস্কার করুন।
ম্যানেজমেন্ট বিভাগের শিক্ষার্থী সিবলী সাদিক বলেন, আপনরা বাবরের একটি বক্তব্য স্মরণ করিয়ে দিতে চাই। তিনি বলেছিলেন যে এখন মিডিয়া খুব স্ট্রং আমরা কিছু করতে পারব না। তোমরা ভাইবা পর্যন্ত আসো তারপর কি করতে হয় সেটা আমরা দেখব।
আমরা দেখতে পাচ্ছি এগারো মাস পর তার সেই বক্তব্য বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। অতীতে দেখেছি মাধ্যমে ভাইবা কোটার মাধ্যমে সন্ত্রাসী ছাত্রলীগকে বিভিন্ন চাকরিতে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ভাইবার এমন একটা পদ্ধতি যেই পদ্ধতিতে তারা তাদের দলের লোকদের চাকরি দিতে চায়। তারা চায় ভাইবা গিয়ে দলীয় পরিচয় দিয়ে সহসভাপতির পরিচয় দিয়ে চাকরির ফায়দা লুটতে। এই ফায়দায় বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা লুটতে দিবে না।
তিনি আরো বলেন, বর্তমান সরকারকে বলতে চাই আপনারা স্বৈরাচার আইয়ুব খান এরশাদ এবং হাসিনার পতন থেকে শিক্ষা গ্রহণ করুন। দেখুন শিক্ষার্থীদের অধিকারের বিরুদ্ধে কথা বললে কিভাবে সেই স্বৈরাচারকে এই দেশের মাটিতে নামিয়ে নিয়ে আসে ক্ষমতার চেয়ার থেকে তাদেরকে লাথি মেরে ফেলে দেয়।
সেই ইতিহাস থেকে শিক্ষা গ্রহণ করুন আপনারা শিক্ষার্থীদের অধিকার নিয়ে কোন প্রকার করার তালবাহানা চেষ্টা করবেন না। যদি ভাইবার এই মার্ক বহাল করা হয় তাহলে আমরা আপনাদেরকে বলে দিতে চাই আপনারা বেশিদিন ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারবেন কিনা সেটা আমরা বলতে পারিনা। কিছুদিনের ইতিহাস হাসিনার ইতিহাস সেই হাসিনা শিক্ষার্থীদের অধিকার সেই মেধা এবং কুঠার মধ্যে পার্থক্য করেছিল আপনারা ভাই মাধ্যমে আবারো ৯০ গুন দলীয়করণ করার চেষ্টা করছেন। আপনারা এই পথে আগাবেন না। আপনারা শিক্ষার্থীদের যথাযথ মেধার ভিত্তিতে মূল্যায়ন ব্যবস্থা করুন। না হলে সারাদেশে এমন মত আগুন জ্বলে উঠবে। নিভাবার সাহস নিভাবার শক্তি পাবেন না।
