‘বালু খেকোদের’ আগ্রাসনে নদীগর্ভে ফসলি জমি, দুই গ্রামের মানববন্ধন
সিলেট প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:৪৬ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
সিলেটের গোয়াইনঘাটে ড্রেজার মেশিন দিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। এতে নদীভাঙন তীব্র হয়ে হাতির পাড়া ও পুকাশ গ্রামের বিস্তীর্ণ ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ এবং ফসলি জমি রক্ষার দাবিতে মানববন্ধন করেছেন দুই গ্রামের বাসিন্দারা।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) গোয়াইনঘাট উপজেলার পশ্চিম আলীরগাঁও ইউনিয়নের উত্তর হাতির পাড়া-খাওইউড়া সংলগ্ন নদীর তীরে ‘হাতির পাড়া ও পুকাশ গ্রামবাসী’র যৌথ উদ্যোগে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
বক্তারা বলেন, নদীভাঙনের কারণে হাতির পাড়া ও পুকাশ গ্রামের শত শত একর ফসলি জমি ইতোমধ্যে ক্ষতির মুখে পড়েছে। দ্রুত অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ করা না হলে আরও বিস্তীর্ণ কৃষিজমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে। এতে দুই গ্রামের কৃষিনির্ভর বহু পরিবার জীবিকা হারানোর আশঙ্কায় রয়েছেন।
মানববন্ধনে সভাপতির বক্তব্যে ইউপি সদস্য মাসুক আহমদ বলেন, অবৈধ বালু উত্তোলনের কারণে এলাকার কৃষকেরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হওয়ায় সাধারণ মানুষের উপার্জনের পথ সংকুচিত হচ্ছে। তিনি প্রশাসনের প্রতি অবিলম্বে ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন বন্ধ এবং এর সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। অন্যথায় এলাকাবাসীকে সঙ্গে নিয়ে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলার হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
মানববন্ধনে সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্য দেন স্থানীয় মুরব্বি ও সমাজসেবক আবু বক্কর, আব্দুল আজিজ, আব্দুল কাদির, আব্দুর নুর, বদরুল ইসলাম, ইজ্জত উল্লাহসহ এলাকার অন্যান্য গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
বক্তারা আরও বলেন, অব্যাহত নদীভাঙন রোধে শুধু অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ করলেই হবে না, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে স্থায়ী প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থাও নিতে হবে। এ জন্য গোয়াইনঘাট উপজেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেন তারা। মানববন্ধন থেকে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধের পাশাপাশি নদীভাঙন রোধে টেকসই বাঁধ নির্মাণ ও ক্ষতিগ্রস্ত ফসলি জমি রক্ষায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানানো হয়।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মাসুক আহমদের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে দুই গ্রামের ভুক্তভোগী বাসিন্দা, কৃষক, স্থানীয় মুরব্বি ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, আবজল, সয়ফুল, হামিদ ও ফারুকের নেতৃত্বে একটি প্রভাবশালী বালু উত্তোলনকারী চক্র দীর্ঘদিন ধরে কোনো নিয়মনীতি না মেনে দিন-রাত ড্রেজার মেশিন দিয়ে নদী থেকে বালু উত্তোলন করে আসছে। তাদের দাবি, এভাবে বালু উত্তোলনের কারণে নদীর তীরবর্তী এলাকায় ভাঙন বেড়েছে।
