দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণে মুমিনের দোয়া
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৪:১৭ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
ইসলামি দৃষ্টিতে সংকটময় সময়ে আল্লাহর কাছে সাহায্য প্রার্থনাই মুমিনের সবচেয়ে শক্তিশালী আশ্রয়। উম্মাহ যখন কঠিন সময় অতিক্রম করে বা নানামুখী বিপদে পতিত হয়, তখন দোয়া ও ইস্তিগফারের মাধ্যমেই আল্লাহর রহমত কামনা করা হয়। বর্তমান বিশ্বের অস্থিরতা ও মুসলিম উম্মাহর বহুমাত্রিক সংকটের প্রেক্ষাপটে মহান আল্লাহর সাহায্যই হতে পারে একমাত্র ভরসা ও মুক্তির পথ।
ইসলামের ইতিহাসে দেখা গেছে, বদর থেকে শুরু করে প্রতিটি বিজয়ের পেছনে রণকৌশলের পাশাপাশি ছিল আল্লাহর দরবারে চোখের পানি ও আকুল প্রার্থনা। মুসলমানদের বিজয়, নিরাপত্তা এবং সার্বিক কল্যাণের জন্য পবিত্র কুরআন ও হাদিসে বেশ কিছু শক্তিশালী দোয়ার বর্ণনা রয়েছে।
বিজয়ের জন্য কোরআনিক প্রার্থনা
বিপদ বা শত্রুর মোকাবিলায় কোরআনে বর্ণিত এই দোয়াটি অত্যন্ত কার্যকরী:
رَبَّنَا أَفْرِغْ عَلَيْنَا صَبْرًا وَثَبِّتْ أَقْدَامَنَا وَانصُرْنَا عَلَى الْقَوْمِ الْكَافِرِينَ
অর্থ: "হে আমাদের পালনকর্তা, আমাদের ধৈর্য দান কর, আমাদের পা স্থির রাখ এবং কাফের সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে আমাদের সাহায্য কর।" (সূরা বাকারা: ২৫০)
কল্যাণের জন্য রাসুলুল্লাহ (সা.) এর শেখানো দোয়া
রাসুল (সা.) উম্মাহর হেফাজত ও মঙ্গলের জন্য সর্বদা আল্লাহর কাছে পানাহ চাইতেন। বিশেষ করে যখন কোনো জাতি বা শত্রুর পক্ষ থেকে ভয়ের আশঙ্কা থাকত, তখন তিনি এই দোয়াটি পড়তেন:
اللَّهُمَّ إِنَّا نَجْعَلُكَ فِي نُحُورِهِمْ وَنَعُوذُ بِكَ مِنْ شُرُورِهِمْ
অর্থ: "হে আল্লাহ! আমরা আপনাকে তাদের মুখোমুখি করছি এবং তাদের অনিষ্টতা থেকে আপনার কাছে আশ্রয় চাচ্ছি।" (আবু দাউদ)
উম্মাহর ঐক্যের জন্য দোয়া
বিজয় কেবল বাহ্যিক শক্তিতে আসে না, বরং হৃদয়ের ঐক্য ও পবিত্রতায় আসে। কল্যাণের জন্য এই দোয়াটি খুবই অর্থবহ:
رَبَّنَا اغْفِرْ لَنَا وَلِإِخْوَانِنَا الَّذِينَ سَبَقُونَا بِالْإِيمَانِ وَلَا تَجْعَلْ فِي قُلُوبِنَا غِلًّا لِّلَّذِينَ آمَنُوا
অর্থ: “হে আমাদের পালনকর্তা, আমাদের এবং আমাদের সেই ভাইদের ক্ষমা করুন যারা ঈমানের সাথে আমাদের আগে অতিবাহিত হয়েছে। আর ঈমানদারদের বিরুদ্ধে আমাদের অন্তরে কোনো বিদ্বেষ রাখবেন না।” (সূরা হাশর: ১০)
দোয়া কবুলের শর্তাবলি
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, কেবল মুখে দোয়া করলেই হয় না, বরং বিজয় ও কল্যাণের জন্য কিছু শর্ত পালন জরুরি:
তাকওয়া অবলম্বন: পাপাচার বর্জন করে আল্লাহর হুকুম মানা।
একনিষ্ঠতা: পূর্ণ বিশ্বাস নিয়ে আল্লাহর কাছে সাহায্য চাওয়া।
প্রচেষ্টা: সাধ্যমতো প্রস্তুতি গ্রহণ করা এবং এরপর আল্লাহর ওপর ভরসা করা।
পৃথিবীর ইতিহাসে যখনই মুসলমানরা আল্লাহর রজ্জুকে শক্তভাবে ধারণ করেছে এবং কায়মনোবাক্যে তাঁর সাহায্য চেয়েছে, তখনই বিজয় অর্জিত হয়েছে। বর্তমানের এই কঠিন সময়ে আমাদের উচিত ব্যক্তিগত ও সামষ্টিকভাবে আল্লাহর দরবারে বেশি বেশি কান্নাকাটি করা এবং কল্যাণের প্রার্থনা জানানো।
