জুমার দিনে এই আমলগুলো করতে ভুলবেন না
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২১ আগস্ট ২০২৬, ০১:০৬ পিএম
ফাইল ছবি
জুমার দিন মুসলমানদের জন্য বিশেষ মর্যাদাপূর্ণ একটি দিন। এদিন নামাজের পাশাপাশি কিছু নফল আমল ও সুন্নত পালনে রয়েছে বিশেষ ফজিলত। পরিচ্ছন্নতা, আগে মসজিদে যাওয়া, খুতবা মনোযোগ দিয়ে শোনা, বেশি বেশি দরুদ পাঠ ও দোয়া করার মাধ্যমে দিনটি আরও বরকতময় করে তোলার সুযোগ রয়েছে।
হাদিসে জুমার দিনে পরিচ্ছন্নতা, আগে মসজিদে যাওয়া, খুতবা মনোযোগ দিয়ে শোনা, দরুদ পাঠ ও বেশি বেশি দোয়া করার প্রতি উৎসাহ দেওয়া হয়েছে।
জুমার দিনের অনেক ফজিলত নিয়ে হাদিস শরিফে এসেছে, নবীজি (সা.) বলেন, ‘সমস্ত দিনের নেতা হলো জুমার দিন। জুমার দিন আল্লাহ–তাআলার নিকট সবচেয়ে মহান দিবস। এমনকি তা আল্লাহ–তাআলার কাছে ঈদুল আজহা ও ঈদুল ফিতর তথা ইসলামের দুই ঈদের দিন থেকেও মহান।’ (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস: ১০৮৪)
জুমার দিনের বড় আমল কোনটি
জুমার দিনের সবচেয়ে বড় আমল তো হলো অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে জুমার নামাজ আদায় করা। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেন, ‘হে মুমিনগণ, জুমার দিন যখন নামাজের জন্য ডাকা হয়, তখন আল্লাহর জিকিরের দিকে ধাবিত হও এবং বেচাকেনা ছেড়ে দাও। এটাই তোমাদের জন্য সর্বোত্তম বিষয়, যদি তোমরা তা উপলব্ধি করো।’ (সুরা জুমুআহ, আয়াত: ৯)
ফজিলতপূর্ণ আরও যেসব আমল রয়েছে
গোসল করে পরিচ্ছন্ন হওয়া: শুক্রবার পবিত্র জুমার নামাজের আগে গোসল করে পরিচ্ছন্ন হওয়া সুন্নত। হাদিসে জুমার দিনের গোসল, মিসওয়াক ও সুগন্ধি ব্যবহারের কথা এসেছে।
ভালো পোশাক পরা: জুমার নামাজে যাওয়ার আগে শরীর ও পোশাক পরিষ্কার রাখা এবং সামর্থ্য অনুযায়ী ভালো পোশাক পরা উত্তম। এদিন সুগন্ধি ব্যবহারের কথাও হাদিসে উল্লেখ রয়েছে।
আগে মসজিদে যাওয়া: জুমার নামাজের জন্য যথাসম্ভব আগে মসজিদে যাওয়ার বিশেষ ফজিলত রয়েছে। সহিহ হাদিসে জুমার দিন আগে মসজিদে যাওয়ার জন্য অধিক সওয়াবের কথা বর্ণিত হয়েছে।
মনোযোগ দিয়ে খুতবা শোনা: ইমামের খুতবা দেওয়ার সময় কথা বলা বা অন্য কোনো কাজে ব্যস্ত হওয়া থেকে বিরত থাকা উচিত। নীরবে ও মনোযোগ দিয়ে খুতবা শোনার নির্দেশ রয়েছে। এমনকি কাউকে ‘চুপ করুন’ বলাকেও অনর্থক গণ্য করা হয়েছে।
সুরা কাহফ তিলাওয়াত করা: জুমার দিনে সুরা কাহফ তিলাওয়াতের ফজিলত সম্পর্কে হাদিসে বর্ণনা এসেছে। একটি বর্ণনায় জুমার দিনে সুরা কাহফ পাঠ করলে এক জুমা থেকে পরবর্তী জুমা পর্যন্ত নুর লাভের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
বেশি বেশি দরুদ পাঠ করা: জুমার দিনে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর ওপর বেশি বেশি দরুদ ও সালাম পাঠ করা উত্তম আমল। তাই দিনের বিভিন্ন সময়ে দরুদ পাঠের অভ্যাস করা যেতে পারে।
বেশি বেশি দোয়া করা: জুমার দিনে এমন একটি বিশেষ সময় রয়েছে, যখন কোনো মুসলিম আল্লাহর কাছে কল্যাণকর কিছু চাইলে তা কবুল হওয়ার কথা হাদিসে এসেছে। তবে সেই বিশেষ সময়টি কখন, এ বিষয়ে আলেমদের মধ্যে বিভিন্ন মত রয়েছে। একটি হাদিসে আসরের পর দিনের শেষ সময়ে সেই সময়টি অনুসন্ধানের কথা বলা হয়েছে। তাই জুমার দিনে বিশেষ করে দিনের শেষভাগে বেশি বেশি দোয়া করা যেতে পারে।
নবীজি (সা.) বলেছেন, ‘জুমার দিনে ১২ ঘণ্টার মধ্যে এমন এক মুহূর্ত রয়েছে, যখন কোনো মুসলিম আল্লাহর কাছে কোনো কল্যাণকর বিষয় প্রার্থনা করলে আল্লাহ তাকে তা দান করেন। সুতরাং তোমরা সেই সময়টি আসরের পর দিনের শেষ মুহূর্তে অনুসন্ধান করো।’ (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ১০৪৮)
