×

অর্থনীতি

অর্থনীতিতে গতি ফেরাতে তিন খাতে সংস্কারে জোর বিশ্বব্যাংকের

Icon

কাগজ ডেস্ক

প্রকাশ: ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ০২:১২ পিএম

অর্থনীতিতে গতি ফেরাতে তিন খাতে সংস্কারে জোর বিশ্বব্যাংকের

ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশের অর্থনীতিতে গতি ফেরাতে তিন খাতে সংস্কারে জোর দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। খাতগুলো হলো— ব্যাংক খাত, অভ্যন্তরীণ রাজস্ব আহরণ ও জ্বালানি খাতে। পাশাপাশি চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে জিডিপি (মোট দেশজ উৎপাদন) প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ৪ শতাংশ হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে সংস্থাটি।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) প্রকাশিত বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট আপডেট প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে এসব তথ্য। রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বিশ্বব্যাংকের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রতিবেদনটি উন্মোচন করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন সংস্থাটির বিভাগীয় ডিরেক্টর জ্যঁ পেম। এ সময় প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন বিশ্বব্যাংকের সিনিয়র ইকোনমিস্ট নাজমুস সাকিব খান ও ধ্রুব শর্মা।

জ্যঁ পেম বলেছেন, প্রবৃদ্ধি পুনরুদ্ধার ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য বাংলাদেশের জরুরি আর্থিক, জ্বালানি ও রাজস্ব সংস্কার প্রয়োজন। জ্বালানি খাতের ক্রমবর্ধমান সংকট, আর্থিক খাতের দুর্বলতা ও দুর্বল অভ্যন্তরীণ রাজস্ব আহরণসহ দীর্ঘস্থায়ী কাঠামোগত প্রতিবন্ধকতার পাশাপাশি বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার কারণে ২০২৩ সাল থেকে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি মন্থর হয়ে পড়ছে।

সর্বশেষ বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট আপডেটেও ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ৩ দশমিক ৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বাংলাদেশে বিনিয়োগ কার্যক্রম মন্থর হয়েছে, রপ্তানি গতি হারিয়েছে এবং উচ্চ পর্যায়ে রয়েছে মুদ্রাস্ফীতি। এর ফলে পারিবারিক ক্রয়ক্ষমতা কমেছে, বেড়েছে ব্যবসায়িক ব্যয়। আর্থিক খাতের দুর্বলতা ঋণ মধ্যস্থতা ও বিনিয়োগকারীদের আস্থাকে প্রভাবিত করে চলেছে, অন্যদিকে সীমিত রাজস্ব সংস্থান সরকারি বিনিয়োগকে বাধাগ্রস্ত করেছে। এসব প্রতিকূলতা সত্ত্বেও শক্তিশালী রেমিটেন্স প্রবাহ এবং ক্রমবর্ধমান বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের সহায়তায় বাহ্যিক খাত স্থিতিশীলতা দেখিয়েছে। জ্বালানি সরবরাহ ক্রমান্বয়ে সহজ হওয়া এবং সরকারি সংস্কার কর্মসূচির গতি ত্বরান্বিত হলে ২০২৮ অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি কিছুটা বেড়ে ৩ দশমিক ৯ শতাংশে উন্নীত হতে পারে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, অর্থনৈতিক মন্দা এড়াতে এবং বেসরকারি বিনিয়োগচালিত অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধির পথে ফিরতে ব্যাংকিং খাত, অভ্যন্তরীণ রাজস্ব আহরণ এবং জ্বালানি খাতে দ্রুত ও সাহসী সংস্কার প্রয়োজন। পাশাপাশি দরিদ্রদের সুরক্ষা এবং আরও বেশি ও উন্নত কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য প্রয়োজনীয় সংস্কারগুলোকে ত্বরান্বিত করতে জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা নিতে হবে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দারিদ্র্য ও বৈষম্য বৃদ্ধি পেয়েছে। আগের বছরের তুলনায় প্রায় ২১ লাখের বেশি মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করছেন। কর্মসংস্থান সৃষ্টি থমকে গেছে এবং নারীরা চাকরি হারিয়েছেন। ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতা আরও তীব্র হয়েছে। খেলাপি ঋণের হার ডিসেম্বর ২০২৫-এর ৩০ দশমিক ৬ শতাংশ থেকে বেড়ে জুন ২০২৬-এ ৩৩ দশমিক ২ শতাংশ হয়েছে। জিডিপির ৮ দশমিক ৩ শতাংশ রাজস্ব আদায় বিশ্বের অন্যতম সর্বনিম্ন পর্যায়ে রয়েছে। এটি প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে সরকারি ব্যয়কে সীমিত করছে। ২০২৫ অর্থবছরের ৩ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে রাজস্ব ঘাটতি বেড়ে ২০২৬ অর্থবছরে জিডিপির ৩ দশমিক ৯ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

এতে আরও বলা হয়েছে, সামাজিক সুরক্ষা, জ্বালানি এবং কৃষি ভর্তুকি দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে রক্ষা করতে সাহায্য করে। তবে প্রায় অর্ধেক দরিদ্রতম পরিবার কোনো সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির আওতার বাইরে থেকে যায়। উন্নততর লক্ষ্য নির্ধারণের মাধ্যমে এই কর্মসূচিগুলোর দারিদ্র্য-প্রতিরোধমূলক প্রভাব উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত করা সম্ভব। এ ক্ষেত্রে একটি অধিক সংবেদনশীল সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি নিশ্চিত করতে পারে যে সীমিত সরকারি সম্পদ দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারগুলোর কাছে আরও কার্যকরভাবে পৌঁছাবে। সরকারের ‘ডায়নামিক সোশ্যাল রেজিস্ট্রি’ একটি সমন্বিত ব্যবস্থা যা প্রমাণভিত্তিক লক্ষ্য নির্ধারণ এবং সুবিধাভোগীদের নিরবচ্ছিন্ন তালিকাভুক্তি সক্ষম করার উদ্দেশে তৈরি; এর বাস্তবায়ন ও সম্প্রসারণ লক্ষ্য নির্ধারণ এবং আওতার ব্যবধান মোকাবিলায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হবে।

বিশ্লেষণে দেখা গেছে, একাধিক খাদ্য ভর্তুকি একত্রিত করা এবং বিদ্যমান নগদ অর্থ কর্মসূচির উন্নততর লক্ষ্য নির্ধারণের সঙ্গে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ যুক্ত করার মাধ্যমে অতিরিক্ত ২৮ লাখ মানুষকে দারিদ্র্য থেকে মুক্তি দেওয়া সম্ভব।

ব্রিফ্রিংয়ে বলা হয়েছে, ‘বাংলাদেশ উন্নয়ন হালনাগাদ’ হলো বিশ্বব্যাংক গ্রুপের আঞ্চলিক প্রতিবেদন ‘দক্ষিণ এশিয়া অর্থনৈতিক হালনাগাদ’-এর একটি পরিপূরক অংশ, যা আজ প্রকাশিত হয়েছে। এতে দক্ষিণ এশিয়া জুড়ে অর্থনৈতিক সম্ভাবনা ও নীতিগত অগ্রাধিকারগুলো পর্যালোচনা করা হয়েছে।

শক্তিশালী অভ্যন্তরীণ চাহিদার কারণে বৈশ্বিক ধাক্কার মুখেও এ অঞ্চল স্থিতিশীল থাকায় চলতি বছর দক্ষিণ এশিয়ার প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৯ শতাংশে উন্নীত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। প্রতিবেদনে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে, প্রতিকূল পরিস্থিতি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ২০২৭ সালে প্রবৃদ্ধি কমে ৬ দশমিক ৭ শতাংশে দাঁড়াবে।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

জাহ্নবীর আপত্তিকর এআই ভিডিও, এবার মুখ খুললেন অভিনেত্রী

জাহ্নবীর আপত্তিকর এআই ভিডিও, এবার মুখ খুললেন অভিনেত্রী

অবৈধ ফোন বন্ধে নতুন তারিখ ঘোষণা বিটিআরসির

অবৈধ ফোন বন্ধে নতুন তারিখ ঘোষণা বিটিআরসির

ডেঙ্গুতে প্রাণ গেল ব্যবসায়ীর, আক্রান্ত গোটা পরিবার

ডেঙ্গুতে প্রাণ গেল ব্যবসায়ীর, আক্রান্ত গোটা পরিবার

দেড় কোটির বেড়িবাঁধ টিকলো না দুই মাসও

দেড় কোটির বেড়িবাঁধ টিকলো না দুই মাসও

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App