বিশ্বকাপ ট্রফি জয়ে মরিয়া টাইগাররা
কাগজ প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৮ অক্টোবর ২০১৮, ০৪:১৬ পিএম
সে দিন হয়তো বেশি দূরে নয়। যে দিন ক্রিকেট বিশ্বকাপ জয়ের আনন্দে উৎসবে মাতবেন টাইগার সমর্থকরা। ইংলিশ কোচ স্টিভ রোডস ঢাকায় পা রেখে প্রথম সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, যারা ২০১৫ সালের বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে এবং আইসিসি চ্যাম্পিয়ন ট্রফির সেমিফাইনালে খেলেছে তারা ২০১৯ সালের বিশ্বকাপের ফাইনালে খেলার যোগ্যতা রাখে। বাংলায় একটি প্রবাদ আছে পাকা জহুরি জহুর চিনতে ভুল করেন না। টাইগারদের একটু গাইড দিলে তারা যে বিশ্বকাপ জয়ে সমর্থ হবে তা রোডসের চেয়ে অন্য কেউ ভালো বুঝবে না। দক্ষিণ এশিয়ার দেশ ভারত, পাকিস্তান এবং শ্রীলঙ্কা বিশ্বকাপ জিতেছে। এবার নিশ্চয় বাংলাদেশের পালা! গতকাল বিশ্বকাপ ট্রফির সামনে যেভাবে তরুণ টাইগাররা আনন্দে মেতেছে তাতে তাদের মধ্যে বিশ্বকাপ জয়ের অনুপ্রেরণা সৃষ্টি হয়েছে। দুবাই হয়ে গতকাল বাংলাদেশ ভ্রমণে এসেছে ২০১৯ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপ ট্রফি। ঢাকায় আসার পর সেটি সরাসরি নিয়ে যাওয়া হয় বিসিবিতে। এরপর ঘণ্টাখানেকের মধ্যে শুরু হয় তোড়জোড় ও শোরগোল। অন্য যে কোনো সময়ের চেয়ে বিশ্বকাপ ট্রফির কারণে নেয়া হয়েছে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা। বিসিবিতে পুলিশ, র্যাব ও সাদা পোশাকে নিরাপত্তা বাহিনী সদস্যদের সরব উপস্থিতি ছিল।
বিসিবি একাডেমি ভবনের সামনে অস্থায়ী মঞ্চে জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক ও বর্তমান প্রধান নির্বাচক এবং ১৯৯৯ সালে প্রথমবার বিশ্বকাপ খেলতে যাওয়া টাইগারদের প্রথম জয়ের নায়ক মিনহাজুল আবেদীন নান্নুর হাত ধরেই পর্দা উন্মোচিত হলো ট্রফিটির। স্বপ্নের ট্রফি হাতে নিয়ে স্বপ্ন জয়ের কথাই শোনালেন তিনি। নান্নু বলেছেন, এখন আমরা যে প্রক্রিয়ায় এগিয়ে যাচ্ছি, অবশ্যই সামনের বিশ্বকাপে ভালো ফল আশা করি। বিশ্বকাপ শব্দটাই অন্য রকম। এটা সব সময়ই উজ্জীবিত করে ইয়াং স্টারদের। আমার বিশ্বাস, আগামী বিশ্বকাপে আমরা ভালো করব। ক্রিকেট এমন একটা খেলা। যে কোনো দল দেখবেন ফাইনালের কাছাকাছি বা ফাইনালে গিয়ে হেরে যাচ্ছে। এই অনুপ্রেরণা নিয়েই কিন্তু সামনে কাপটা জেতে। যেহেতু আমরা যথেষ্ট অভিজ্ঞ দল এবং ফাইনাল খেলার অভ্যাস হয়ে গেছে। আমার বিশ্বাস, সামনের বিশ্বকাপে ভালো করা সম্ভব।
এরপর ইউনিসেফ বাংলাদেশের তত্ত্বাবধানে ফটোসেশনে অংশ নেয় সুবিধাবঞ্চিত শিশুরা। পরে ফটোসেশনে অংশ নেন জাতীয় দলের ক্রিকেটাররা। মুশফিকুর রহিম সবার আগে আসেন । তার পেছনে পেছনে দলের নবীন খেলোয়াড় আরিফুল হক, নাজমুল ইসলাম, আবু হায়দার, মেহেদী হাসান মিরাজ। দলের সবাই এলেন বিশ্বকাপ ট্রফির কাছে। কিন্তু টাইগারদের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা কোথায়?
এমন প্রশ্নের জবাবে মুশফিক বলেন, মাশরাফি ভাই ভাবছেন, কীভাবে কাপটা জয় করা যায়! ট্রফি ছুঁয়ে নয় বরং অর্জন করে স্বপ্ন পূরণ করতে চান মাশরাফি। তাইতো ট্রফি ছুঁয়ে দেখে কী সন্তুষ্ট হওয়া যায়। প্রাপ্তির ষোলোকলা পূর্ণ হবে তখনই, যখন বাংলাদেশ সত্যি সত্যিই বিশ্বকাপ টুর্নামেন্টে খেলে এই ট্রফিটি জিততে পারবে। এ ছাড়া তরুণ খেলোয়াড় মেহেদী হাসানও আশার কথাই বললেন, সবারই স্বপ্ন থাকে বিশ্বকাপে ভালো খেলার। আশা করি ভালো কিছুই হবে। দলের সবাই ট্রফি জেতার জন্যই খেলবে। যদিও স্বপ্নটা বড় তাই মিরাজ এখনই বিশ্বকাপ নিয়ে কিছু ভাবতে চান না। কারণ বিশ্বকাপের আগে বাংলাদেশকে খেলতে হবে অনেক সিরিজ। যেহেতু জিম্বাবুয়ে সিরিজের জন্য মিরপুর স্টেডিয়ামেই অনুশীলন চলছে মাশরাফিদের, তাই তারা ট্রফিটির কাছাকাছিই থাকবেন। ঢাকার দর্শকদের ট্রফিটি ছুঁয়ে দেখতে এবং স্মৃতি করে রাখতে ১৮ অক্টোবর যেতে হবে যমুনা ফিউচার পার্কে। এরপর ১৯ অক্টোবর ঢাকা থেকে ট্রফিটি যাবে সিলেটে। সে দিনই সিলেট ন্যাশনাল ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সর্বসাধারণের জন্য ট্রফিটি প্রদর্শিত হবে। তারপর ২০ অক্টোবর চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ স্টেডিয়ামে প্রদর্শিত হবে ট্রফিটি। পরদিন বাংলাদেশ থেকে নেপালে নিয়ে যাওয়া হবে বিশ্বকাপ ট্রফি। এরপর নেপাল ভ্রমণ শেষে ভারত, নিউজিল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, কেনিয়া, রুয়ান্ডা, নাইজেরিয়া, ফ্রান্স, বেলজিয়াম, নেদারল্যান্ডস ও জার্মানি হয়ে আগামী বছরের ১৯ ফেব্রæয়ারি ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে পৌঁছাবে। বিশ্বকাপ ট্রফিটি গত ২৭ আগস্ট ভ্রমণে বের হয়েছে। ৯ মাসে মোট ২১টি দেশের ৬০টি শহর ভ্রমণ করবে।
