সাত দেশের ক্রিকেটাররা খেলছেন আমেরিকায় হয়ে
স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ০৭ জুন ২০২৪, ০৯:১৩ পিএম
সাত দেশের ক্রিকেটাররা খেলছেন আমেরিকার হয়ে। ছবি : ক্রিকইনফো
এ যেন একটি বিশ্ব একাদশ। প্রথমবারের মতো টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলা আমেরিকাকে অবশিষ্ট বিশ্ব একাদশ বলাই যেতে পারে। মোট সাতটি দেশের ক্রিকেটাররা খেলছেন যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় দলে। আর এই দলটা নিয়েই বিশ্বকাপের ম্যাচে পাকিস্তানের বিপক্ষে তুলে নিয়েছে ঐতিহাসিক এক জয়। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচেই বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে পাকিস্তান। আমেরিকার কাছে সুপার ওভারে হেরে গিয়েছেন বাবর আজমের দল।
ভারত, পাকিস্তান, নিউ জিল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা, কানাডা সব দেশের ক্রিকেটাররা খেলছেন আমেরিকার হয়ে। বৃহস্পতিবার পাকিস্তানের বিপক্ষে আমেরিকার প্রথম একাদশে ছিলেন ৬ দেশে জন্ম নেওয়া ক্রিকেটার। সব থেকে বেশি পাঁচ জন ছিলেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত। অধিনায়ক মনাঙ্ক পটেল গুজরাটের আনন্দের বাসিন্দা। ৩১ বছর বয়সী উইকেটরক্ষক-ব্যাটার অনূর্ধ্ব ১৯ গুজরাট দলের হয়েও খেলেছেন। বাঁহাতি অলরাউন্ডার হরমিত সিংহের জন্ম মুম্বাইয়ে। খেলেছেন ভারতের অনূর্ধ্ব ১৯ দলের হয়ে। ভারতে ৩১টি প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে তার। আর এক ভারতীয় বংশোদ্ভূত পেসার জসদীপ সিংহের জন্ম অবশ্য নিউ ইয়র্কে। প্রথম থেকেই তিনি আমেরিকার ক্রিকেটার। আমেরিকার আলাবামায় জন্ম আর এক বাঁ হাতি বোলার নসটুশ কেনজিগের। ভারতীয় বংশোদ্ভূত কেনজিগেও প্রথম থেকে আমেরিকার ক্রিকেটার। বাঁ হাতি পেসার সৌরভ নেত্রভালকরের জন্মও মুম্বাইয়ে। ভারতের অনূর্ধ্ব ১৯ দলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন এই ক্রিকেটার। মুম্বাইয়ের হয়ে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটও খেলেছেন।
আরো পড়ুন: পাকিস্তানের হারে বাংলাদেশের সঙ্গে যে ম্যাচের কথা মনে পড়ছে শোয়েবের
পাকিস্তানের বিপক্ষে জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন নীতীশ কুমার। ভারতীয় বংশোদ্ভূত ব্যাটারের জন্ম কানাডার ওন্টারিয়োতে। তিনি প্রথমে ছিলেন কানাডার ক্রিকেটার। পরে আমেরিকার হয়ে খেলতে শুরু করেন। অর্থাৎ, বৃহস্পতিবার আমেরিকার হয়ে খেলা ছয় ভারতীয় বংশোদ্ভূত ক্রিকেটারের তিন জনের জন্ম ভারতে। আমেরিকার হয়ে বৃহস্পতিবার খেলেছেন আন্দ্রেস গৌস। এই উইকেটরক্ষক ব্যাটারের জন্ম দক্ষিণ আফ্রিকায়। নিজের দেশের অনূর্ধ্ব ১৯ দলের হয়ে খেলেছেন তিনি। ৬০টি প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে তার। দলে ছিলেন নিউ জিল্যান্ডের সাবেক অলরাউন্ডার কোরি অ্যান্ডারসন। কেন উইলিয়ামসের সাবেক এই সতীর্থের ১৩টি টেস্ট খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে। নিজের দেশে সুযোগ না পেয়ে আমেরিকায় চলে যান তিনি।
আমেরিকার আরেক পেসার আলি খানের জন্ম পাকিস্তানের পঞ্জাব প্রদেশে। যদিও প্রথম থেকেই তিনি আমেরিকার ক্রিকেটার। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে সারা বছর ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ খেলেন তিনি। এই নয় ক্রিকেটারের বাইরে এমন দু’জন ছিলেন যারা আমেরিকার। অ্যারন জোন্স এবং স্টিভেন টেলরের জন্ম আমেরিকায়। প্রথম থেকেই আমেরিকার হয়ে খেলেন ওপেনিং ব্যাটার টেলর। মিডল অর্ডার ব্যাটার জোন্সের জন্ম আমেরিকায় হলেও তার পরিবার বার্বাডোজের বাসিন্দা। আমেরিকায় ক্রিকেট খেলা শুরু করলেও এক সময় নিজের মাতৃভূমির হয়ে খেলতেন। পরে আবার ফিরে আসেন নিজের জন্মভূমিতে। পাকিস্তানের বিপক্ষে জয়ে আমেরিকার অন্যতম নায়ক তিনি।
সব মিলিয়ে বৃহস্পতিবার আমেরিকার হয়ে খেলা ১১ জন ক্রিকেটারের মধ্যে ছ’জন ছিলেন ভারতীয় বংশোদ্ভুত। পাকিস্তান, দক্ষিণ আফ্রিকা, নিউ জিল্যান্ড, বার্বাডোজ এবং আমেরিকার এক জন করে ক্রিকেটার ছিলেন। আবার জন্মগতভাবে ভারত, পাকিস্তান, নিউ জিল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা, আমেরিকা এবং কানাডা সাত দেশের ক্রিকেটাররা খেলেছেন আমেরিকার হয়ে।
