নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজ জয়ের মিশনে বাংলাদেশ

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ২৯ আগস্ট ২০২৫, ০৬:০০ পিএম

ছবি: সংগৃহীত
জয় দিয়ে শুরুর লক্ষ্য নিয়ে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে তিন ম্যাচ টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলতে নামছে বাংলাদেশ। শনিবার (৩০ আগস্ট) সন্ধ্যা ৬টায় সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শুরু হওয়া ম্যাচটি টি-স্পোর্টস সরাসরি সম্প্রচার করবে। যেকোনো ফরম্যাটের দ্বিপাক্ষিক সিরিজ খেলতে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশে সফর করছে ডাচরা।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের মাটিতে আসন্ন এশিয়া কাপের প্রস্তুতির প্ল্যাটফর্ম হিসেবে নেদারল্যান্ডস সিরিজকে বিবেচনা করছে বাংলাদেশ। শক্তি ও ক্রিকেট সংস্কৃতির দিক থেকে দুই দলের মধ্যে পার্থক্যের কারণে সিরিজে স্পষ্টভাবে ফেভারিট বাংলাদেশ। ২০১২ সাল থেকে টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে নেদারল্যান্ডসের কাছে কোনো ম্যাচেই হারেনি বাংলাদেশ। সবমিলিয়ে পাঁচ ম্যাচের মধ্যে মাত্র একটিতে হেরেছে টাইগাররা। ২০১২ সালে নেদারল্যান্ডস সফরে দুই ম্যাচের সিরিজে একটি ম্যাচ হেরেছিল লাল-সবুজ জার্সিধারীরা। শেষ পর্যন্ত দুই ম্যাচের সিরিজ ১-১ ব্যবধানে ড্র হয়েছিল।
নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে সর্বশেষ ২০২৪ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে মুখোমুখি হওয়া ম্যাচে বাংলাদেশ জিতেছিল ২৫ রানে। কিন্তু ২০২৩ সালে ভারতে অনুষ্ঠিত আইসিসি ওয়ানডে বিশ্বকাপে ডাচদের কাছে হারের লজ্জা পেয়েছিল টাইগাররা। অরেঞ্জদের বিপক্ষে রেকর্ড পক্ষে থাকার পরও এই সিরিজকে হালকাভাবে নিতে চান না বাংলাদেশ অধিনায়ক লিটন দাস। প্রথম ম্যাচের আগে বলেন, ডাচদের বিপক্ষে নিজেদের সেরাটা দেয়ার চেষ্টাই আমরা করব। আন্তর্জাতিক ম্যাচ সবসময়ই চ্যালেঞ্জিং। এখানে কোনও বড় বা ছোট দল নেই।
এশিয়া কাপ সামনে রেখে সিরিজে পরীক্ষা-নিরীক্ষার ইঙ্গিত দিয়েছেন লিটন। টাইগার ক্যাপ্টেন বলেন, কিছু খেলোয়াড়কে পরীক্ষা করার সুযোগ পেলে আমরা আমরা সেটি করব। কিন্তু একই সঙ্গে আমরা জয়ের জন্যই মাঠে নামব।
গত ১০ দিন ধরে সিলেটে অনুশীলন করছে বাংলাদেশ দল। সংযুক্ত আরব আমিরাতের উইকেটের রান-বন্যার কথা বিবেচনায় রেখে ঢাকা থেকে সিলেটে অনুশীলন ক্যাম্প স্থানান্তর করা হয়েছে। সিলেটের প্রস্তুতি সংযুক্ত আরব আমিরাতের উইকেটের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে সহায়তা করবে বলে জানান লিটন।
তিনি বলেন, এশিয়া কাপে আমরা ভিন্ন-ভিন্ন দলের বিপক্ষে খেলব। এশিয়া কাপে খেলবে এমন দলগুলোকে এখানে আমরা পাচ্ছি না। কিন্তু আমার মনে হয় কন্ডিশন একই রকম হবে। কারণ, আমরা সবাই জানি সংযুক্ত আরব আমিরাত ভালো ব্যাটিং উইকেট তৈরি করে। সিলেটও অনেকাংশেই ব্যাটিং-বান্ধব উইকেট হয়ে থাকে।
নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে সিরিজ জয় প্রত্যাশিত। কিন্তু ম্যাচ হারলেই সমালোচনার মুখে পড়তে হবে টাইগারদের। যেকোনো ধরনের ফলাফলের জন্য প্রস্তুত লিটন। তিনি বলেন, আমি আগেই বলেছি, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে কোনও দলই ছোট নয়। বাংলাদেশ আগেও বিভিন্ন দলের কাছে হেরেছে। এটা নতুন কিছু নয়। আমরা কতটা ভালো খেলতে পারি, সেটাই গুরুত্বপূর্ণ।
ঘরের মাঠে বাংলাদেশ শক্তিশালী দল বলে স্বীকার করেছেন নেদারল্যান্ডস অধিনায়ক স্কট এডওয়ার্ডস। তবুও ডাচদের সিরিজ জয়ের সামর্থ্য আছে বলে মনে করেন তিনি।
এডওয়ার্ডস বলেন, হ্যাঁ, অবশ্যই আমরা সিরিজ জিততে পারি। আমরা ভালো ক্রিকেট খেলার আশা করি এবং আমরা যদি ভালো খেলি অবশ্যই আমাদের সাফল্যের সুযোগ আছে।
অরেঞ্জ কাপ্তান বলেন, বিশ্বকাপ ও এশিয়া কাপের আগে বাংলাদেশের জন্য দারুণ প্রস্তুতির সুযোগ। তাই এটি উত্তেজনাপূর্ণ একটি সিরিজ হবে। নিজেদের মাঠে বাংলাদেশ শক্তিশালী দল। অনেক দলকে বাংলাদেশ সফরে এসে ধুঁকতে হয়। আমরা জানি, এই সিরিজ আমাদের জন্য চ্যালেঞ্জিং হবে। নিজেদের সেরাটা উজাড় করে দিতে হবে।
সিরিজের শেষ দুই ম্যাচ যথাক্রমে-১ ও ৩ সেপ্টেম্বর হবে একই ভেন্যুতে।
বাংলাদেশ স্কোয়াড
লিটন কুমার দাস (অধিনায়ক), তানজিদ হাসান, পারভেজ হোসেন, সাইফ হাসান, তাওহিদ হৃদয়, জাকের আলি, শামিম হোসেন, নুরুল হাসান, মাহেদি হাসান, রিশাদ হোসেন, নাসুম আহমেদ, মুস্তাফিজুর রহমান, তানজিম হাসান সাকিব, তাসকিন আহমেদ, শরিফুল ইসলাম ও মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন।
নেদারল্যান্ডস স্কোয়াড
স্কট এডওয়ার্ডস (অধিনায়ক), নোয়াহ ক্রোয়েস, ম্যাক্স ও’দাউদ, বিক্রমজিত সিং, তেজা নিদামানুরু, সিকান্দার জুলফিকার, সেডরিক ডি ল্যাং, কাইল ক্লেইন, আরিয়ান দত্ত, পল ফন মেকেরেন, শারিজ আহমেদ, বেন ফ্লেচার, ড্যানিয়েল ডোরাম, সেবাস্টিয়ান ব্র্যাট ও টিম প্রিঙ্গেল।