সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপ
মালদ্বীপকে হারিয়ে সেমিফাইনালে বাংলাদেশ
স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ২৮ মে ২০২৬, ১০:০৯ পিএম
ছবি- সংগৃহীত
সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপে হ্যাটট্রিক শিরোপার মিশনটা বাংলাদেশ শুরু করল জয় দিয়েই। তবে মাঠের পারফরম্যান্সে বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের সেই চেনা দাপট ছিল অনুপস্থিত। আজ বৃহস্পতিবার (২৮ মে) গোয়ার জওহরলাল নেহরু স্টেডিয়ামে মালদ্বীপকে ৪-২ ব্যবধানে হারিয়েছে বাংলাদেশ।
ম্যাচের বয়স যখন মাত্র ১১ সেকেন্ড, তখনই গোল করে বড় ব্যবধানে জয়ের সুবাস পাচ্ছিল দল। কিন্তু এরপরই মাঠের খেলায় ছিটকে যান মারিয়া-ঋতুপর্ণারা। রক্ষণের মারাত্মক ভুল আর অসাবধানতার সুযোগ নিয়ে মালদ্বীপ ২ গোল শোধ করে ম্যাচ জমিয়ে তুললেও শেষ পর্যন্ত কষ্টার্জিত ৩ পয়েন্ট নিয়ে মাঠ ছেড়েছে বাংলাদেশ।
অথচ ম্যাচের শুরুটা হয়েছিল একদম রূপকথার মতো। রেফারি খেলা শুরুর বাঁশি বাজানোর পর চোখের পলক ফেলার আগেই, মাত্র ১১ সেকেন্ডে মালদ্বীপের জালে বল পাঠান সুইডেনপ্রবাসী আনিকা রানিয়া সিদ্দিকী। নিখুঁত নথির অভাব থাকলেও ধারণা করা হচ্ছে, এটি শুধু বাংলাদেশের ফুটবল ইতিহাসেই নয়, বরং পুরুষ ও নারী সাফ মিলিয়েই দ্রুততম গোলের রেকর্ড।
কিক-অফ থেকে বল পেয়ে অধিনায়ক মারিয়া মান্দা পাস দেন উইঙ্গার ঋতুপর্ণা চাকমাকে। ঋতুপর্ণা বক্সে বল বাড়াতেই ওত পেতে থাকা আনিকা নিখুঁত ফিনিশিংয়ে লক্ষ্যভেদ করেন। জাতীয় দলের জার্সিতে চার নম্বর ম্যাচ খেলতে নেমে এটিই আনিকার প্রথম গোল। কোচের আস্থার প্রতিদান দিতে তিনি সময় নিলেন মাত্র ১১ সেকেন্ড।
শুরুর ওই ধাক্কার পর প্রথম প্রথমার্ধের ৩৪ মিনিটে ব্যবধান ২-০ করেন উমেলাহ মারমা। তবে প্রথমার্ধের শেষ দিকে গোলকিপার মিলির ভুলে এক গোল খেয়ে বসে বাংলাদেশ। মিলি কিছুটা সামনে এগিয়ে থাকায় তাঁর মাথার ওপর দিয়ে বল জালে জড়ায়। এটিই ছিল ম্যাচে বাংলাদেশের পোস্টে মালদ্বীপের প্রথম শট।
গত ২৫ মে উদ্বোধনী ম্যাচে মালদ্বীপকে ১১-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে স্বাগতিক ভারত। গ্রুপ সেরা হওয়ার দৌড়ে টিকে থাকতে বাংলাদেশেরও বড় ব্যবধানে জেতার দরকার ছিল। কিন্তু আজ অ্যাটাকিং থার্ডে গিয়ে বারবার তালগোল পাকিয়েছেন মেয়েরা। দ্বিতীয় অর্ধে তো আরও বড় ধাক্কা খায় দল। আফঈদার দুর্বল ডিফেন্ডিংয়ের সুযোগ নিয়ে মালদ্বীপের আমিনাত ফাজলা বল জালে পাঠালে স্কোরলাইন দাঁড়ায় অবিশ্বাস্য ২-২! ড্রয়ের শঙ্কায় পড়ে যায় বাংলাদেশ।
অবশ্য ২-২ সমতা হওয়ার পর কোচ পিটার বাটলার দ্রুত পরিবর্তন আনেন। আনিকাকে তুলে তহুরা খাতুনকে এবং শামসুন্নাহার জুনিয়রের বদলে সাগরিকাকে নামানো হয়। আক্রমণের ধার বাড়ায় বাংলাদেশ। ম্যাচের ৬৪ মিনিটে ঋতুপর্ণার নিখুঁত ক্রস থেকে সুরভী আকন্দ প্রীতি দারুণ গোল করে দলকে লিড এনে দেন। শেষ পর্যন্ত ৪-২ ব্যবধানের স্বস্তির জয় এলেও মালদ্বীপের মতো প্রতিপক্ষের বিপক্ষে এই অনুজ্জ্বল পারফরম্যান্স টুর্নামেন্টের শুরুতেই বাংলাদেশকে বড় একটি সতর্কবার্তা দিয়ে গেল।
এদিকে ১৯ হাজার ধারণক্ষমতার গ্যালারি আজ টিকিট ছাড়াই উন্মুক্ত থাকলেও পুরো স্টেডিয়াম ছিল ফাঁকা। তবে শূন্য গ্যালারিতে নজর কেড়েছেন বাংলাদেশ থেকে আসা একমাত্র সমর্থক খোরশেদ মাতবর আলমগীর। এ ছাড়া ভিআইপি বক্সে থাকা জনা ছয়েক রুশ নাগরিক লাভ চিহ্ন আঁকা ‘বাংলাদেশ’ লেখা ব্যানার নিয়ে নারী দলকে সমর্থন জুগিয়েছেন, যা ছিল গ্যালারির অন্যতম সুন্দর দৃশ্য।
