ছেলে থেকে মেয়ে হয়েছে ক্রিকেটার, অতঃপর...
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৭ আগস্ট ২০২৬, ০৩:১৩ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
ভারতের মুম্বাই অনূর্ধ্ব-১৯ দলে একসময় ক্রিকেট খেলেছেন অনয়া বাঙ্গার। তবে লিঙ্গ পরিবর্তনের প্রক্রিয়া শুরু করার পর প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেট থেকে দূরে সরে যেতে হয় তাকে। এবার আবারও ক্রিকেটে ফেরার সুযোগ তৈরি হয়েছে ২৫ বছর বয়সী এই ক্রিকেটারের সামনে।
ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার (সিএ) সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আপাতত অস্ট্রেলিয়ার কমিউনিটি ক্রিকেটে খেলতে পারবেন অনয়া। নির্ধারিত সব শর্ত পূরণ করতে পারলে ২০২৭ সালের মার্চ থেকে এলিট নারী ক্রিকেটেও খেলার যোগ্যতা অর্জন করতে পারেন তিনি। এমনকি ভবিষ্যতে মেয়েদের বিগ ব্যাশ লিগে খেলার সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে।
অনয়া ভারতের সাবেক অলরাউন্ডার ও কোচ সঞ্জয় বাঙ্গারের সন্তান। তার আগের নাম ছিল আরিয়ান বাঙ্গার। ২০২২ সালে লিঙ্গান্তরের প্রক্রিয়া শুরু করেন তিনি। চলতি বছরের মার্চে জেন্ডার-অ্যাফার্মিং সার্জারির পর আবার ক্রিকেটে ফেরার বিষয়ে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করেন।
অনয়ার আবেদন নিয়ে সরাসরি সিদ্ধান্ত না নিয়ে তার চিকিৎসাসংক্রান্ত তথ্য, অস্ত্রোপচারের নথি, হরমোন ও টেস্টোস্টেরনের মাত্রা, ক্রিকেট খেলার অভিজ্ঞতা এবং খেলার ভিডিওসহ বিভিন্ন তথ্য পর্যালোচনা করেছে বিশেষজ্ঞদের একটি প্যানেল। এ ক্ষেত্রে ক্রীড়া গবেষণা ও অ্যাথলেটিক পারফরম্যান্সসংক্রান্ত তথ্যও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।
ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার নীতিমালা অনুযায়ী, নারী বিভাগের সর্বোচ্চ পর্যায়ের ক্রিকেটে খেলতে হলে একজন খেলোয়াড়ের রক্তে সিরাম টেস্টোস্টেরনের মাত্রা টানা ১২ মাস প্রতি লিটারে ১০ ন্যানোমোলের নিচে থাকতে হয়।
অনয়ার ক্ষেত্রে এই সময়সীমা পূর্ণ হবে ২০২৭ সালের মার্চে। এরপর অস্ট্রেলিয়ায় গিয়ে তাকে আবার রক্ত পরীক্ষা করাতে হবে। পরীক্ষায় টেস্টোস্টেরনের মাত্রা নির্ধারিত সীমার মধ্যে থাকলে এবং অন্যান্য শর্ত পূরণ হলে এলিট নারী ক্রিকেটে খেলার যোগ্যতা পাবেন তিনি।
তবে তার আগেই অস্ট্রেলিয়ার যেকোনো রাজ্য বা অঞ্চলের প্রিমিয়ার লিগে খেলতে পারবেন অনয়া। ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার নিয়মে প্রিমিয়ার ক্রিকেটকে কমিউনিটি ক্রিকেটের আওতায় রাখা হয়েছে।
অনয়ার সর্বশেষ রক্ত পরীক্ষায় টেস্টোস্টেরনের মাত্রা প্রতি লিটারে ০.৬ ন্যানোমোল পাওয়া গেছে। তার দাবি, এই মাত্রা পরীক্ষাগারের নারী রেফারেন্স রেঞ্জের মধ্যেই রয়েছে।
আবার ক্রিকেটে ফেরার সুযোগ পাওয়াকে জীবনের গুরুত্বপূর্ণ একটি মুহূর্ত হিসেবে দেখছেন অনয়া। কয়েক বছর প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটের বাইরে থাকার পর যে খেলাটি তার জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ, সেটিতে ফেরার সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় সন্তুষ্ট তিনি।
ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়াতেও সন্তুষ্ট অনয়া। তার মতে, বিষয়টি কোনো স্বয়ংক্রিয় বা অনানুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে হয়নি। বরং ন্যায্যতা, প্রতিযোগিতার স্বচ্ছতা এবং নারী খেলাধুলায় অন্তর্ভুক্তির বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে তার আবেদন পর্যালোচনা করা হয়েছে।
ক্রিকেট থেকে দূরে থাকার সময়ের কথা স্মরণ করে অনয়া জানান, লিঙ্গ পরিবর্তনের প্রক্রিয়া শুরু করার পর তার সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তা ছিল—আর কখনো ক্রিকেটে ফিরতে পারবেন কি না। কয়েক বছর ধরে সেই ফেরার পথ খুঁজেছেন তিনি। অবশেষে ক্রিকেটে ফেরার সেই পথের একটি দরজা খুলেছে।
