×

বরিশাল

প্রশাসক-সচিবের বিরুদ্ধে ট্যাক্সের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

Icon

কলাপাড়া (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৭ আগস্ট ২০২৬, ০৩:৫৯ পিএম

প্রশাসক-সচিবের বিরুদ্ধে ট্যাক্সের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

ছবি : সংগৃহীত

পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার নীলগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের ট্যাক্স আদায়ের অর্থে অনিয়ম ও আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। চলতি বছরে ইউনিয়নের নয়টি ওয়ার্ডে ৯ লাখ টাকার বেশি ট্যাক্স আদায় হলেও পরিষদের হিসাবে জমা হয়েছে মাত্র ৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা। বাকি অর্থের হিসাব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দা, ইউপি সদস্য ও গ্রাম পুলিশরা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ট্যাক্স আদায়ের ক্ষেত্রে অনিয়মের পাশাপাশি আদায় করা অর্থ পরিষদের তহবিলে জমা দেওয়ার ক্ষেত্রেও অসঙ্গতি রয়েছে। এ ঘটনায় ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক ও সচিবের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর নীলগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদ পরিচালনার জন্য উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. নাহিদুল ইসলামকে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এরপর চলতি বছরের ইউপি ট্যাক্স আদায়ের জন্য তৃতীয় একটি পক্ষকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। নির্ধারিত কমিশনের বিনিময়ে ওই পক্ষটি ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ডে খানা প্রতি ট্যাক্স আদায় করে।

ইউপি প্রশাসকের নির্দেশনা অনুযায়ী, আদায়কৃত টাকার হিসাব বুঝে নেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয় পরিষদ সচিব মো. হাসনাত টিটুকে। তবে মাঠপর্যায়ে আদায় করা অর্থ এবং পরিষদের হিসাবে জমা দেওয়া টাকার মধ্যে বড় ধরনের ব্যবধান দেখা দিয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

আরও পড়ুন: ৫০০ টাকা মজুরিসহ ৪ দফা দাবিতে চা শ্রমিকদের কর্মবিরতি

ইউপি সদস্য ও গ্রাম পুলিশদের দাবি, নয়টি ওয়ার্ড থেকে ৯ লাখ টাকার বেশি ট্যাক্স আদায় হয়েছে। অথচ নীলগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের ব্যাংক হিসাবে জমা হয়েছে ৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা। ফলে বাকি অর্থ কোথায় গেছে, তা নিয়ে পরিষদের সংশ্লিষ্টদের কাছে সন্তোষজনক ব্যাখ্যা পাওয়া যাচ্ছে না।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন গ্রাম পুলিশ বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের ট্যাক্সের অর্থ থেকে তাদের বেতনসহ বিভিন্ন খরচ মেটানো হয়। তাই আদায় করা অর্থের সঠিক হিসাব না মেলায় তারা ক্ষুব্ধ। বিষয়টি দ্রুত তদন্তের দাবি জানান তারা।

এ বিষয়ে নীলগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের সচিব মো. হাসনাত টিটু বলেন, তিনি রসিদে যে পরিমাণ টাকা পেয়েছেন, সেটিই পরিষদের হিসাবে জমা দিয়েছেন। এর বাইরে তিনি কিছু জানেন না। তবে তৃতীয় পক্ষের কাছ থেকে টাকা বুঝে নেওয়া ও রসিদ জমা দেওয়ার সময় ইউপি সদস্য বা গ্রাম পুলিশদের কেন জানানো হয়নি এ প্রশ্নের সরাসরি কোনো উত্তর দিতে পারেননি তিনি। বিষয়টি প্রশাসককে জানানো হয়েছে বলেও জানান সচিব।

ইউপি প্রশাসক মো. নাহিদুল ইসলাম বলেন, এ বিষয়ে সচিব ভালো বলতে পারবেন। তৃতীয় পক্ষ সচিবকে যে হিসাব দিয়েছে, সেটির পরিমাণ সম্ভবত সাড়ে পাঁচ লাখ টাকার মতো। প্রকৃতপক্ষে কত টাকা আদায় হয়েছে, তা তৃতীয় পক্ষ ও গ্রাম পুলিশ বলতে পারবেন।

আরও পড়ুন: বিস্ফোরণ মামলায় ছাত্রলীগ নেতা গ্রেপ্তার

তিনি আরও বলেন, ট্যাক্স সংগ্রহের দায়িত্ব পাওয়া তৃতীয় পক্ষের কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে আবারও তাদের কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হবে। বিধিবহির্ভূত কোনো কর্মকাণ্ডের প্রমাণ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আরিফুজ্জামান বলেন, আদায় করা বাকি টাকা কোথায় গেছে, তা খুঁজে বের করা প্রয়োজন। তিনি নীলগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে বিষয়টি যাচাই-বাছাই করে দেখবেন।

স্থানীয়দের দাবি, ইউনিয়ন পরিষদের ট্যাক্স আদায় ও জমার পুরো প্রক্রিয়া তদন্ত করে প্রকৃত হিসাব জনসম্মুখে প্রকাশ করা হোক। একই সঙ্গে অর্থের কোনো অনিয়ম প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

বিচ্ছেদের পর রণবীরের ট্যাটু মুছতে কত টাকা খরচ করেন দীপিকা?

বিচ্ছেদের পর রণবীরের ট্যাটু মুছতে কত টাকা খরচ করেন দীপিকা?

নিজ বাড়িতে মডেল খুন, সন্দেহের কেন্দ্রে জিম ট্রেইনার

নিজ বাড়িতে মডেল খুন, সন্দেহের কেন্দ্রে জিম ট্রেইনার

ভাঙ্গায় এক্সপ্রেসওয়েতে বাসের ধাক্কায় দুই কিশোর নিহত

ভাঙ্গায় এক্সপ্রেসওয়েতে বাসের ধাক্কায় দুই কিশোর নিহত

নেপালে বন্যার তাণ্ডব, নিহত বেড়ে ২৮৯

নেপালে বন্যার তাণ্ডব, নিহত বেড়ে ২৮৯

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App