শাহজালাল ও শাহপরান মাজারের টাকার হিসাব চাইলেন ডিসি
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১২ জুন ২০২৬, ১০:৪৪ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
সিলেটের ঐতিহ্যবাহী হযরত শাহজালাল (রহ.) ও হযরত শাহপরান (রহ.) মাজারের মান্নত ও দান-খয়রাতের অর্থের আয়-ব্যয়ের স্বচ্ছ হিসাব চেয়েছেন জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে মাজারের সব ধরনের আয়ের নিয়মিত হিসাব সংরক্ষণ এবং তা জেলা প্রশাসনের কাছে জমা দেওয়ার কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি।
শুক্রবার (১২ জুন) মাজার পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।
মো. সারওয়ার আলম বলেন, ‘কিছু ব্যক্তি মাজারের আয় আদায় করে নিজেরাই ভাগ-বাঁটোয়ারা করে খরচ করেন। এটি একটি পাবলিক সম্পত্তি। তাই এখন থেকে আয়-ব্যয়ের রেকর্ড রাখার কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’
তিনি জানান, ‘সরকারি অর্থায়নে হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারে প্রায় ৩০ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন হচ্ছে।’
এর মধ্যে সরকার ২৫ কোটি টাকা এবং সিটি করপোরেশন তিন কোটি টাকা দিচ্ছে। তবে মাজার কর্তৃপক্ষের দেওয়ার কথা থাকা দুই কোটি টাকা না পাওয়ায় পরিকল্পনা কমিশন মাজারের আয়ের উৎস ও হিসাব সম্পর্কে জানতে চেয়েছে।
জেলা প্রশাসক আরো বলেন, ‘মাজার, মসজিদ ও মাদরাসাকে সমন্বিতভাবে একটি ‘ইসলামিক কমপ্লেক্স’ হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে মাদরাসার শিক্ষার মান উন্নয়ন এবং অবকাঠামোগত আধুনিকায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।’
এদিকে, শাহজালাল মাজারের সরেকওম মোতোয়াল্লি ফতেহ উল্লাহ আল আমান স্বীকার করেন, মাজারের আয়ের কোনো নির্দিষ্ট হিসাব সংরক্ষণ করা হয় না। তিনি বলেন, দান-খয়রাত থেকে পাওয়া অর্থ দিয়ে বিদ্যুৎ বিল, পানির বিল, কর্মচারীদের বেতনসহ বিভিন্ন ব্যয় মেটানো হয়।
এর আগে, গত বুধবার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে দুই মাজারের আয়-ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিয়ে আলোচনা হয়। সেখানে জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলম বলেন, হযরত শাহজালাল (রহ.) ও হযরত শাহপরান (রহ.) কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর সম্পদ নন; তারা সমগ্র সিলেটবাসীর ঐতিহ্য ও গর্বের অংশ। তাই তাদের স্মৃতিবিজড়িত স্থানগুলোর ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
