ঘুমের মধ্যে বালিশে লালা ঝরছে? জানুন ভয়ঙ্কর কারণ!
কাজী খলিলুর রহমান
প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ০৮:৪৪ পিএম
গ্রাফিক্স : ভোরের কাগজ
ঘুমের সময় মুখ থেকে লালা ঝরাকে অনেকেই তুচ্ছ বিষয় মনে করেন। অথচ এটি যদি দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকে, তাহলে তা হতে পারে শরীরের ভেতরে লুকিয়ে থাকা কোনো সমস্যার সংকেত। তাই বিষয়টি অবহেলা না করে প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
শিকাগোর নর্থওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটি ফেইনবার্গ স্কুল অব মেডিসিনের বিশেষজ্ঞ ডা. ল্যান্ডন ডুইকার মতে, তবে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। কারণ,সুস্থ মানুষের ক্ষেত্রেও মাঝে মধ্যে মুখ থেকে লালা ঝরতে পারে। কিন্তু যদি প্রায় প্রতি রাতেই একই ঘটনা ঘটে, তাহলে তা স্বাভাবিক নাও হতে পারে।
আরো পড়ুন: ফেসবুকে বেশি রিচ ও ভিউ পাওয়ার কার্যকরী টিপস!
চিকিৎসকদের মতে, ঘুমের মধ্যে লালা ঝরার অন্যতম বিপজ্জনক কারণ হতে পারে ‘স্লিপ অ্যাপনিয়া’। এই সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তিরা ঘুমের মধ্যে বারবার শ্বাস নিতে বাধা পান, ফলে শরীর অতিরিক্ত অক্সিজেনের জন্য মুখ দিয়ে শ্বাস নিতে বাধ্য হয়। আর মুখ খোলা থাকলেই লালা সহজেই বাইরে বেরিয়ে বালিশ ভিজিয়ে দেয়।
আমেরিকান একাডেমি অব স্লিপ মেডিসিনের তথ্যমতে, লক্ষ লক্ষ মানুষ এই সমস্যায় ভুগলেও তাদের বড় একটি অংশই রয়ে গেছেন রোগ নির্ণয়ের বাইরে। সঠিক চিকিৎসা না হলে এটি হৃদরোগ, ডায়াবেটিস এমনকি অকাল মৃত্যুর ঝুঁকিও বাড়িয়ে দিতে পারে। এ ছাড়া নাকের ভেতরে হাড় বাঁকা থাকা বা জন্মগতভাবে নাসারন্ধ্র সরু হওয়ার কারণে যারা মুখ দিয়ে শ্বাস নেন, তাদের ক্ষেত্রেও লালা ঝরার প্রবণতা বেশি দেখা যায়।
শারীরিক অন্যান্য সমস্যার মধ্যে অ্যাসিড রিফ্লাক্স বা গ্যাস্ট্রিকের সমস্যাও একটি বড় কারণ। পাকস্থলীর অ্যাসিড যখন খাদ্যনালিতে ফিরে আসে, তখন শরীর প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা হিসেবে অতিরিক্ত লালা তৈরি করে। ফলে সকালে ঘুম থেকে উঠে গলা ভারী বা মিউকাসে পূর্ণ মনে হতে পারে। এ ছাড়া দাঁত কিড়মিড় করা, টনসিল বা সাইনাস ইনফেকশন এবং সাধারণ অ্যালার্জিজনিত কারণে নাক বন্ধ থাকলেও মুখ দিয়ে লালা বের হতে পারে। এমনকি বয়স্ক ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে গলার মাংসপেশির শিথিলতা বা কোনো স্নায়বিক রোগের প্রভাবে খাবার গেলার ক্ষমতা কমে যাওয়ার প্রাথমিক লক্ষণ হিসেবেও ঘুমের মধ্যে লালা ঝরতে দেখা যায়।
বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিয়েছেন, বালিশে লালার দাগ দেখা গেলে আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই, লালা ঝরার কারণ নির্ণয়ে ঘরোয়াভাবে ‘স্লিপ স্টাডি’ বা ঘুম পর্যবেক্ষণ করা যেতে পারে। শোয়ার ধরন পরিবর্তন করে বা চিকিৎসকের পরামর্শে অ্যান্টিহিস্টামিন জাতীয় ওষুধ সেবন করে অনেক সময় এই সমস্যা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। তবুও কিছু সতর্কতামূলক লক্ষণ দেখা দিলে চিকিৎসা নিতে হবে।
সূত্র: সিএনএন
