×

রাজনীতি

কিশোরগঞ্জ

তিন ভাই তিন দলের নেতা, রাজনৈতিক সুবিধা নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা

Icon

হারিছ আহমেদ, কিশোরগঞ্জ

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ০৯:৪১ পিএম

তিন ভাই তিন দলের নেতা, রাজনৈতিক সুবিধা নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা

ছবি: সংগৃহীত

তিন ভাই তিনটি প্রভাবশালী রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত। কেবল যুক্তই না, রয়েছেন মূল পদ-পদবিতে। কেউ রাজনৈতিক দলে, কেউ আবার অঙ্গসংগঠনের নেতৃত্বে। ক্ষমতার পালাবদল কখনোই তাঁদের জন্য অস্বস্তির কারণ হয়নি। প্রতিটি রাজনৈতিক বাস্তবতায় তাঁরা থেকেছেন সুবিধাজনক অবস্থানে। ক্ষমতায় যে দলই থাকুক, রাজনৈতিক, সামাজিক ও প্রশাসনিক সুবিধা হাতছাড়া হয় না তাঁদের এমন অভিযোগ স্থানীয়দের।

উপজেলা সদরের চরপাড়া গ্রামের এই পরিবারের বড় ছেলে মোশাররফ হোসেন করিমগঞ্জ উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক। মেজ ছেলে মোবারক হোসেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উপজেলা সমন্বয় কমিটির সভাপতি। আর ছোট ভাই মিজানুর রহমান মিজান করিমগঞ্জ পৌর যুবলীগের সভাপতি।

স্থানীয়দের কেউ বিষয়টিকে তিন ভাইয়ের ‘রাজনৈতিক কৌশল’ হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ এটিকে ‘রাজনৈতিক সুবিধাবাদিতার বিরল উদাহরণ’ বলে মন্তব্য করছেন। তাঁদের দাবি, ভিন্ন রাজনৈতিক বলয়ে অবস্থান নেওয়ার কারণে যে রাজনৈতিক শক্তিই ক্ষমতায় থাকুক না কেন, পরিবারটির প্রভাব ও সুবিধা অটুট থাকে।

ফরিদ মিয়া নামে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের এক নেতা বলেন, ‘মিজানুর রহমান বর্তমানে যুবলীগ নেতা। আওয়ামী লীগের পতনের পর উপজেলার কয়েক শ যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। যাদের নামে মামলা হয়নি, তারাও পালিয়ে বেড়াচ্ছে। কিন্তু মিজান যুবলীগের অন্যতম নেতা হলেও তাঁর বিরুদ্ধে কোনো মামলা হয়নি। তিনি প্রকাশ্যেই ঘুরাফেরা করেন। কিন্তু আমরা পারি না। আমি মনে করি, তাঁর দুই ভাই যুবদল ও এনসিপির নেতা হওয়ায় তাঁকে কোনো মামলায় আসামি করা হয়নি। একইভাবে আওয়ামী লীগের সময় যুবদল নেতা মোশাররফ হোসেন ছোট ভাই যুবলীগ নেতা মিজানের সুরক্ষা উপভোগ করেছেন। আওয়ামী লীগের লোকজনও তখন তাঁকে সমীহ করত।’

জানা গেছে, মোশাররফ হোসেন পেশায় আইনজীবী এবং ঠিকাদারি ব্যবসার সঙ্গেও জড়িত। বর্তমানে তিনি কিশোরগঞ্জ জেলা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২-এর সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর মোবারক হোসেন এনসিপির রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে উপজেলা সমন্বয় কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পান। স্থানীয়দের অভিযোগ, তাঁর প্রভাব ও তৎপরতার কারণে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকেও নানা চাপের মধ্যে কাজ করতে হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপিপন্থী এক আইনজীবী বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ছোট ভাই এনসিপি নেতা মোবারক হোসেনের প্রভাব ও তৎপরতায় মোশাররফ হোসেন পিপি পদে নিয়োগ পান। জেলা বিএনপি থেকে যাদের নাম পাঠানো হয়েছিল, তাদের কাউকে পিপি পদে নিয়োগ দেওয়া হয়নি। এখন নতুন করে পিপি নিয়োগের তোড়জোড় চলছে। তিনি আবারও পিপি পদে নিয়োগ পেতে বিএনপির কেন্দ্রীয় পর্যায়ে লবিং করছেন।’

তবে কিশোরগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতি ও জেলা জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সভাপতি মিজানুর রহমান বলেন, ‘তিন ভাই তিন দলের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত এ বিষয়টি সবারই জানা। তবে পিপি নিয়োগের জন্য বিএনপি থেকে যে তালিকা পাঠানো হয়েছিল, সেখানে মোশাররফ হোসেনের নাম ছিল না। বিএনপির সুপারিশ তালিকা থেকে কাউকে নিয়োগ দেওয়া হয়নি।’

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তাঁদের প্রয়াত বাবা জহিরুল হক মেম্বার বিভিন্ন সময়ে আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। দলীয় কোনো পদে না থাকলেও স্থানীয় রাজনীতিতে তাঁর প্রভাব ছিল উল্লেখযোগ্য।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘আমরা তিন ভাই হলেও প্রত্যেকেই আলাদা ব্যক্তি। আমি ভাইদের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে কখনো কখনো কথা বলেছি, কিন্তু তারা নিজ নিজ সিদ্ধান্তে রাজনীতি করে।’

পিপি পদে নিয়োগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘মোবারক হোসেনের প্রভাবে আমি নিয়োগ পেয়েছি এ অভিযোগ সঠিক নয়। আমি নিজেও বিভিন্ন পর্যায়ে যোগাযোগ ও চেষ্টা করেছি। আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের সঙ্গেও দেখা করেছি। যোগ্যতা ও তদবিরের ভিত্তিতেই আমি নিয়োগ পেয়েছি।’

যুবলীগ নেতা মিজানুর রহমান মিজান বলেন, “সংবিধান অনুযায়ী প্রত্যেক নাগরিকের রাজনৈতিক মতাদর্শ বেছে নেওয়ার স্বাধীনতা রয়েছে। আমি আওয়ামী লীগের আদর্শে বিশ্বাস করি, তাই যুবলীগের রাজনীতি করছি।”

তাঁর বিরুদ্ধে মামলা না হওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পরও আমাকে মামলায় জড়ানোর চেষ্টা হয়েছে। তবে কোনো মামলায় আমার নাম আসেনি।’

এ ক্ষেত্রে বড় ভাইয়ের কোনো ভূমিকা আছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘রাজনৈতিক মতাদর্শ ভিন্ন হলেও আমরা তো ভাই। তাই পরিবারের সদস্যদের অবদান পুরোপুরি অস্বীকার করব না।’ এ বিষয়ে এনসিপি নেতা মোবারক হোসেনের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও তাঁর মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

এদিকে বিএনপির কয়েকজন নেতা-কর্মী অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর যুবদল নেতা মোশাররফ হোসেন আবারও প্রভাবশালী হয়ে উঠেছেন। তাঁর রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রভাবের সুবিধা অন্য দুই ভাইও ভোগ করছেন বলে তাঁদের দাবি। বিষয়টি বিএনপির তৃণমূলের অনেক নেতা-কর্মী ইতিবাচকভাবে দেখছেন না।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

পুলিশের ঊর্ধ্বতন পর্যায়ে রদবদল

পুলিশের ঊর্ধ্বতন পর্যায়ে রদবদল

সড়কে ঝরল দুই ভাইয়ের প্রাণ

সড়কে ঝরল দুই ভাইয়ের প্রাণ

প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র উপদেষ্টা-দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ

প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র উপদেষ্টা-দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ

‘যে কোনো উপজেলার তুলনায় রূপগঞ্জ বেশি বরাদ্দ পেয়েছ’

‘যে কোনো উপজেলার তুলনায় রূপগঞ্জ বেশি বরাদ্দ পেয়েছ’

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App