প্রচণ্ড গরমে হিট স্ট্রোক, লক্ষণ-ঝুঁকি ও প্রতিরোধের উপায়
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৯ জুন ২০২৬, ১০:৩১ এএম
ছবি : সংগৃহীত
প্রচণ্ড গরমে শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে মানুষের শরীর থেকে প্রচুর ঘাম ঝরে। এই ঘাম বাষ্পীভূত হয়ে শরীরকে শীতল রাখতে সাহায্য করে। তবে অতিরিক্ত গরম, আর্দ্র আবহাওয়া বা তীব্র তাপপ্রবাহে শরীরের স্বাভাবিক তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ভেঙে পড়লে হিট স্ট্রোক হতে পারে, যা একটি প্রাণঘাতী চিকিৎসাজনিত জরুরি অবস্থা।
চিকিৎসকদের মতে, যখন শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের স্বাভাবিক ক্ষমতা নষ্ট হয়ে দেহের মূল তাপমাত্রা ১০৪ ডিগ্রি ফারেনহাইট বা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি হয়ে যায়, তখন সেটিকে হিট স্ট্রোক বলা হয়। এ অবস্থায় দ্রুত চিকিৎসা না পেলে মস্তিষ্ক, হৃদ্যন্ত্র ও কিডনির মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে, এমনকি মৃত্যুও ঘটতে পারে।
হিট স্ট্রোকের প্রধান লক্ষণ
হিট স্ট্রোকের ক্ষেত্রে শরীরের তাপমাত্রা দ্রুত ১০৪ ডিগ্রি ফারেনহাইটের বেশি হয়ে যায়। ত্বক শুষ্ক, লালচে ও গরম হয়ে পড়ে এবং অনেক সময় ঘাম বন্ধ হয়ে যায়। অতিরিক্ত পিপাসা, দুর্বলতা, তীব্র মাথাব্যথা, মাথা ঘোরা, বমি বমি ভাব বা বমি, দ্রুত শ্বাস-প্রশ্বাস ও হৃদস্পন্দন, আচরণগত পরিবর্তন, প্রলাপ, বিভ্রান্তি, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া এবং পেশিতে টান বা তীব্র ব্যথাও দেখা দিতে পারে।
কারা বেশি ঝুঁকিতে?
শিশু ও বয়স্করা হিট স্ট্রোকে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকেন, কারণ তাদের শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা তুলনামূলক কম। এ ছাড়া কড়া রোদে দীর্ঘ সময় কাজ করা শ্রমজীবী মানুষ—যেমন দিনমজুর, কৃষক, রিকশাচালক, নির্মাণ শ্রমিক ও ট্রাফিক পুলিশ—এই ঝুঁকিতে বেশি থাকেন।
হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস বা কিডনির রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদেরও সতর্ক থাকতে হবে। পাশাপাশি যারা মূত্রবর্ধক, অ্যাসপিরিন, অ্যান্টিহিস্টামিন বা বিটা-ব্লকার জাতীয় ওষুধ সেবন করেন এবং অতিরিক্ত ওজনের ব্যক্তিরাও হিট স্ট্রোকের ঝুঁকিতে রয়েছেন।
আরো পড়ুন : ১১ জেলায় ঝড়বৃষ্টির আভাস, কমতে পারে তাপপ্রবাহ
আক্রান্ত হলে কী করবেন
- হিট স্ট্রোকে আক্রান্ত ব্যক্তিকে দ্রুত ঠান্ডা, ছায়াযুক্ত বা শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত স্থানে নিয়ে যেতে হবে।
- ভেজা কাপড় দিয়ে শরীর মুছে ফ্যানের বাতাসে ঠান্ডা করার চেষ্টা করতে হবে। মাথা ও ঘাড়ে বরফ বা ঠান্ডা পানির প্যাক দিতে হবে।
- রোগী যদি স্বাভাবিকভাবে গিলতে পারেন, তাহলে অল্প অল্প করে বিশুদ্ধ পানি বা খাবার স্যালাইন পান করাতে হবে।
- অজ্ঞান হয়ে যাওয়া, তীব্র বিভ্রান্তি বা খিঁচুনি দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতাল বা জরুরি চিকিৎসাকেন্দ্রে নিতে হবে।
যেভাবে প্রতিরোধ করবেন
- তীব্র গরমে, বিশেষ করে সকাল ১১টা থেকে বিকেল ৪টার মধ্যে অপ্রয়োজনে বাইরে যাওয়া এড়িয়ে চলুন।
- পিপাসা না লাগলেও পর্যাপ্ত বিশুদ্ধ পানি, ডাবের পানি, লেবুর শরবত ও খাবার স্যালাইন পান করুন।
- হালকা রঙের, ঢিলেঢালা সুতি পোশাক পরুন এবং বাইরে বের হলে ছাতা, টুপি বা ক্যাপ ব্যবহার করুন।
- এ ছাড়া চা ও কফির মতো পানীয় কম পান করার পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা, কারণ এগুলো শরীরে পানিশূন্যতা বাড়াতে পারে।
