ভারতে চিকিৎসককে ধর্ষণের পর হত্যা
কর্মবিরতি চিকিৎসকদের, ৫ দাবি
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৮ আগস্ট ২০২৪, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
কলকাতার আরজি কর হাসপাতালে শিক্ষানবীশ চিকিৎসককে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভারতজুড়ে ২৪ ঘণ্টার কর্মবিরতি পালন করেছেন বিক্ষুব্ধ চিকিৎসকরা। নারী চিকিৎসক হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার ও শাস্তির দাবিতে চলা এ আন্দোলনের গতকাল শনিবার ছিল নবম দিন।
চিকিৎসকদের সর্বভারতীয় সংগঠন ইন্ডিয়ান মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (আইএমএ) এই কর্মবিরতির ডাক দেয়। গতকাল সকাল ৬টা থেকে শুরু হওয়া এ কর্মসূচিতে সব ধরনের ‘নন-ইমারজেন্সি মেডিকেল সার্ভিস’ বন্ধ রাখা হয়। ফলে আউটডোর খোলেনি। আপৎকালীন পরিষেবা ছাড়া ২৪ ঘণ্টা সব রকম পরিষেবা দেয়া থেকে বিরত থাকেন চিকিৎসকরা।
আইএমএর এই কর্মবিরতিতে সমর্থন জানিয়ে যোগ দেন হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্ডিয়া এবং ডেন্টাল অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্ডিয়ার চিকিৎসকরাও। আজ রবিবার ছুটির দিন থাকায় এই কর্মবিরতির প্রভাব পড়েছে দিল্লি, মুম্বাই, চেন্নাইসহ ভারতের একাধিক বড় শহরে।
কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেপি নড্ডাকে লেখা চিঠিতে আইএমএ তাদের ৫ দফা দাবি তুলে ধরেছে। এগুলো হলো- ১৮৯৭ সালের মহামারি আইনে যে সংশোধনীগুলো ২০২৩ সালে আনা হয়েছিল, সেগুলোকে হাসপাতাল সুরক্ষা বিল-২০১৯-এর সঙ্গে যুক্ত করে একটি কঠোর আইন প্রণয়ন করতে হবে। বিমানবন্দরের মতো কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখতে হবে হাসপাতালে। চিকিৎসকদের জন্য নিরাপদ কর্মস্থল নিশ্চিত করতে হবে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তদন্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে এবং ভাঙচুরের ঘটনাতেও অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। ভুক্তভোগী পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।
শিক্ষানবিস চিকিৎসক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা জানাজানি হয় ৯ আগস্ট ভোরে। আরজি কর হাসপাতালের চারতলায় দায়িত্বপালন শেষে সেমিনারকক্ষে বিশ্রাম নিয়েছিলেন পোস্ট গ্র্যাজুয়েট পড়ুয়া ওই নারী চিকিৎসক। সেখানে সকালে তার মরদেহ পাওয়া যায়। পরিবারের অভিযোগ, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও পুলিশ তাদের প্রথমে জানিয়েছিল তাদের মেয়ে ‘আত্মহত্যা’ করেছে। পরে অবশ্য তীব্র জনরোষ ও ক্ষোভের মুখে পুলিশ এই ঘটনায় খুন ও ধর্ষণের মামলা দায়ের করে। এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত অভিযোগে পুলিশ সঞ্জয় রায় নামে এক সিভিক ভলান্টিয়ারকে গ্রেপ্তার করেছে। ঘটনার রাতে সে ওই হাসপাতালে অবস্থান করছিল। বাইরে থেকে মদ পান করে গভীর রাতে সে হাসপাতালে প্রবেশ করে এবং সেমিনার হলে চলে যায়।
চিকিৎসক ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় উত্তাল হয়ে উঠেছে ভারতের রাজনীতি। গত বুধবার রাতে পথে নেমে আসেন অসংখ্য নারী। হাতে প্ল্যাকার্ড, ফেস্টুন, মোমবাতি নিয়ে তারা ‘রাত দখল’ আন্দোলনে শরিক হন। নারীদের এ উত্তাল প্রতিবাদ চলাকালেই আরজি কর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে হামলা চালায় একদল উচ্ছৃঙ্খল লোক। হামলাকারীরা হাসপাতালটির জরুরি বিভাগ পুরোপুরি ধ্বংস করে দেয়। পুলিশ লাঠিচার্জ করে ও কাঁদুনে গ্যাস ছুড়ে তাদের নিরস্ত করতে গেলে সংঘর্ষ বাঁধে। এ সময় হামলাকারীরা পুলিশের দুটি গাড়ি ভাঙচুর করে ও হাসপাতালের সামনে একটি মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেয়।
ধর্ষণ ও হত্যায় একাধিক ব্যক্তি জড়িত থাকতে পারে : চিকিৎসকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় আরো কয়েকজন জড়িত থাকার সন্দেহ প্রকাশ করেছেন নিহতের পরিবারের সদস্যরা। সহকর্মীরাও জড়িত থাকতে পারে বলে পরিবার জানিয়েছে। সন্দেহের দৃষ্টি সেই ফুড ডেলিভারি বয়কেও যে শেষবার ভিকটিম ও তার বন্ধুদের কাছে খাবার পৌঁছে দিয়েছিল।
ভিকটিমের পেলভিক গার্ডল ভেঙে গেছে। চিকিৎসকদের মতে, একজন ধর্ষণের ক্ষেত্রে এমনটা হয় না। পেলভিক গার্ডল ভেঙে যাওয়াই সাক্ষ্য দেয়, একাধিক ব্যক্তি অপরাধের সঙ্গে জড়িত ছিল।
পোস্টমর্টেম রিপোর্টে বলা হয়েছে, চিকিৎসকের মৃত্যুর সময় ছিল রাত ৩টা থেকে ভোর ৫টার মধ্যে। ভিকটিমের নিচের ও উপরের অংশের ঠোঁট, নাক, গাল এবং নিচের চোয়ালসহ তার শরীরে বাহ্যিক আঘাতের চিহ্ন ছিল। তার মাথার খুলির টেম্পোরাল হাড়ে আঘাত এবং তার মাথার খুলির সামনের অংশে রক্ত ??জমে থাকার তথ্যও দেয়া হয়েছে। ভিকটিমটির মুখ চেপে রাখা হয়েছিল এবং তার মাথা দেয়ালে চাপা ছিল, যাতে সে সাহায্যের জন্য চিৎকার করতে না পারে।
তার চোখের চশমা ছিন্নভিন্ন হয়ে গেছে, যা প্রমাণ করে তার মুখে বারবার আঘাত করা হয়েছে। ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক একাধিকবার ধর্ষণের অভিযোগ করেছেন। তিনি বলেছেন, নির্যাতিতার গোপনাঙ্গ থেকে ১৫০ গ্রাম বীর্য বেরিয়েছে- যা একাধিক ব্যক্তির ধর্ষণের প্রমাণ দেয়।
