×

প্রথম পাতা

রাজধানীতে জলজট

বাড়ছে পানি, ১৭ জেলায় বন্যার আশঙ্কা

Icon

কাগজ প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৮ জুলাই ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

দেশের উত্তরাঞ্চল, উত্তর-পূর্বাঞ্চল এবং দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের বেশ কয়েকটি নদীর পানি আগামী ২৪ ঘণ্টা থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে দ্রুত বাড়তে পারে। এর ফলে তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। ভারি বৃষ্টি ও নদ-নদীর পানি বাড়ার কারণে চার বিভাগের ১৭ জেলায় স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দিতে পারে। এমন আশঙ্কার কথা জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র। এদিকে মৌসুমি বায়ুর সক্রিয়তার প্রভাবে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় মুষলধারে বৃষ্টি হয়েছে গতকাল মঙ্গলবার। সারাদিন থেমে থেমে ঝুম বৃষ্টিতে ঢাকা, চট্টগ্রাম নগরী ডুবে বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এমনকি চট্টগ্রামসহ কয়েকটি স্থানে রেললাইনও ডুবে গেছে। এতে থমকে গেছে মানুষের জীবনযাত্রা। একইসঙ্গে তুমুল বৃষ্টির কারণে পাহাড় ধসের ঘটনাও ঘটেছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, ভারতের দক্ষিণ ঝাড়খন্দ ও তৎসংলগ্ন ওড়িশা এলাকায় অবস্থানরত মৌসুমি স্থল নিম্নচাপটি উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর ও দুর্বল হয়ে পূর্ব মধ্যপ্রদেশ ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। এটি আরো পশ্চিম-উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে ক্রমান্বয়ে দুর্বল হয়ে যেতে পারে। এর প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় বায়ুচাপের তারতম্যের আধিক্য বিরাজ করছে। মৌসুমি বায়ুর বর্ধিতাংশের অক্ষ রাজস্থান, উত্তর প্রদেশ, মধ্য প্রদেশ, সুস্পষ্ট লঘুচাপের কেন্দ্রস্থল, পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে প্রবল অবস্থায় রয়েছে।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের চট্টগ্রাম বিভাগে অতি ভারি এবং সিলেট ও বরিশাল বিভাগে ভারি থেকে অতি ভারি বৃষ্টিপাত হয়েছে। একই সময়ে ভারতের মেঘালয় ও ত্রিপুরাতেও ভারি থেকে অতি ভারি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আগামী চারদিন চট্টগ্রাম, সিলেট, ময়মনসিংহ ও রংপুর বিভাগ এবং ভারতের ত্রিপুরা, আসাম, মেঘালয় ও পশ্চিমবঙ্গের উজান এলাকায় ভারি থেকে অতি ভারি বৃষ্টিপাত হতে পারে।

কেন্দ্র জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদ-নদীর পানি কমেছে। আগামী তিনদিন পানি আরও কমে পরবর্তী দুই দিন বাড়তে পারে। তবে এ সময় নদীগুলো বিপৎসীমার নিচ দিয়েই প্রবাহিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এ ছাড়া গঙ্গা ও পদ্মা নদীর পানিও গত ২৪ ঘণ্টায় কমেছে। গঙ্গার পানি আগামী তিনদিন স্থিতিশীল থেকে পরবর্তী দুই দিন বাড়তে পারে। অন্যদিকে পদ্মার পানি আগামী পাঁচদিন কমতে পারে। দুটি নদীই বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে।

উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সুরমা-কুশিয়ারা নদ-নদীর পানি আগামী তিনদিন দ্রুত বাড়তে পারে। এতে সিলেট ও সুনামগঞ্জে নদীর পানি সতর্কসীমায় পৌঁছতে পারে এবং নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলের কোথাও কোথাও সাময়িক প্লাবনের আশঙ্কা রয়েছে।

চট্টগ্রাম বিভাগের গোমতী, মুহুরী, ফেনী, সেলোনিয়া, হালদা, সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীর পানি দ্রুত বাড়তে পারে। আগামী ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে এসব নদীর পানি বান্দরবান, কক্সবাজার, ফেনী, চট্টগ্রাম ও খাগড়াছড়ির কিছু এলাকায় বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। এতে নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দিতে পারে। একই সঙ্গে লক্ষ্মীপুর ও নোয়াখালীর কিছু নিম্নাঞ্চলও সাময়িকভাবে প্লাবিত হতে পারে।

সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগের মনু, ধলাই, খোয়াই, কংস, সারিগোয়াইন, সোমেশ্বরী, যাদুকাটা ও ভোগাই নদীর পানিও আগামী তিনদিন দ্রুত বাড়তে পারে। এর ফলে সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, নেত্রকোনা, শেরপুর ও ময়মনসিংহ জেলার কিছু এলাকায় বিপৎসীমা অতিক্রম করে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।

অপরদিকে রংপুর বিভাগের তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানিও দ্রুত বাড়ার পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে। আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। এতে নীলফামারী ও লালমনিরহাট জেলার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যার আশঙ্কা রয়েছে। পাশাপাশি আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রামে সতর্কসীমায় পৌঁছতে পারে এবং নিম্নাঞ্চলের কোথাও কোথাও সাময়িক প্লাবনের সৃষ্টি হতে পারে।

জলাবদ্ধতা রাজধানীতে : গতকাল মঙ্গলবার সকাল থেকেই রাজধানীর আকাশ ছিল মেঘলা। ছিল গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টিও। এরপর থেকেই ভারি বৃষ্টি শুরু হয়। থেমে থেমে দিনভর মুষলধারে বৃষ্টি হয়েছে। এতে পানি জমে মালিবাগ, রামপুরা, কাকরাইল, ফকিরাপুল, চকবাজার, নিউমার্কেটসহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। মানুষ আটকা পড়ে বাসায় ও কর্মস্থলে। থমকে যায় জীবনযাত্রা। যানবাহন চলাচলও কমে যায়। রাত ৮টায় এই প্রতিবেদন লেখার সময়েও বৃষ্টি ঝড়ছিল। গত রাতে ভারি বৃষ্টির পূর্বাভাসও দেয়া আছে। আগামী চারদিন প্রায় সারাদেশেই ভারি বৃষ্টিপাতের আশঙ্কার কথা জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আজ বুধবার রংপুর, ময়মনসিংহ, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় এবং রাজশাহী, ঢাকা ও খুলনা বিভাগের অনেক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের ভারি বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেইসঙ্গে রংপুর, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও ভারি থেকে অতি ভারি বর্ষণ হতে পারে।

ভারি বৃষ্টি হলেই রাজধানী ঢাকার অনেক সড়ক পরিণত হয় অস্থায়ী খালে। কোথাও হাঁটু আবার কোথাও কোমরসমান পানি। যানবাহন বিকল হয়, থমকে যায় নগরজীবন, নষ্ট হয় কর্মঘণ্টা। প্রতি বছর বর্ষা এলেই একই চিত্র। গত কয়েক দশকে রাজধানীর জলাবদ্ধতা নিরসনে নেয়া হয়েছে অসংখ্য পরিকল্পনা, বাস্তবায়ন হয়েছে শত শত কোটি টাকার প্রকল্প। কখনো খাল উদ্ধার, কখনো ড্রেনেজ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, কখনো নতুন পাম্প স্থাপন প্রতিবারই নাগরিকদের দেখানো হয়েছে আশার আলো। সিটি করপোরেশনের নির্বাচনের আগে ও পরে নগরবাসী শুনেছে উন্নত, বাসযোগ্য ও জলাবদ্ধতামুক্ত ঢাকার প্রতিশ্রুতি। কিন্তু বাস্তবতা হলো, বৃষ্টি নামলেই সেই প্রতিশ্রুতির শহর পরিণত হয় জলাবদ্ধতার নগরীতে।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

ট্রাকের পেছনে মোটরসাইকেলের ধাক্কা, প্রাণ গেল এনসিপি নেতার

ট্রাকের পেছনে মোটরসাইকেলের ধাক্কা, প্রাণ গেল এনসিপি নেতার

মিরসরাইয়ের সব ঝরনায় পর্যটক প্রবেশ সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ

মিরসরাইয়ের সব ঝরনায় পর্যটক প্রবেশ সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ

পাহাড়ধসের শঙ্কায় সাজেক ভ্যালি বন্ধ, সড়ক ও নৌযোগাযোগ বিচ্ছিন্ন

পাহাড়ধসের শঙ্কায় সাজেক ভ্যালি বন্ধ, সড়ক ও নৌযোগাযোগ বিচ্ছিন্ন

ভারী বর্ষণে থানচিতে আটকে পড়া ৯০ পর্যটক উদ্ধার

ভারী বর্ষণে থানচিতে আটকে পড়া ৯০ পর্যটক উদ্ধার

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App