সম্মিলিত ব্যাংক
৫ ব্যাংক থেকে তুলে নেয়া হবে প্রশাসক
কাগজ প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২২ জুলাই ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
যে পাঁচ ব্যাংক নিয়ে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু হতে যাচ্ছে, সেসব ব্যাংকের প্রশাসকদের একে একে তুলে নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। গভর্নর মোস্তাকুর রহমানের সঙ্গে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়। সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে বৈঠকটি হয়। এর আগে রবিবার ৫ ব্যাংকের প্রশাসকদের সঙ্গে সভা করেন গভর্নর।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী মুখপাত্র মোহাম্মদ শাহরিয়ার সিদ্দিকী জানান, ধাপে ধাপে সব ব্যাংকের প্রশাসকদের তুলে নেয়া হবে। যে ব্যাংক থেকে তুলে নেয়া হবে, সেই ব্যাংকের পূর্ণাঙ্গ নিয়ন্ত্রণ চলে যাবে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের কাছে। তার আগে ব্যাংকের আর্থিক অবস্থা, পরিচালনাগত দায়, পুনর্গঠনের প্রক্রিয়ার মতো বিষয়গুলোও পর্যালোচনা করা হবে।
৫ ব্যাংকের পুরো নিয়ন্ত্রণ সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের কাছে কতদিনে যাবে তার সময় নির্ধারণ করা হয়নি এখনো। প্রশাসক তুলে নেয়ার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করতে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ৫ ব্যাংকের প্রশাসকদের সঙ্গে আলাদা বৈঠক করবে।
প্রতিটি ব্যাংকের আর্থিক অবস্থা, পরিচালনাগত প্রস্তুতি এবং পুনর্গঠনের অগ্রগতি মূল্যায়নের পর কোন ব্যাংকের দায়িত্ব আগে নেয়া হবে, তা ঠিক করা করবে। এই মূল্যায়নের ভিত্তিতেই দায়িত্ব হস্তান্তরের সময়সূচি বাংলাদেশ ব্যাংককে জানাবে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক।
এরপর যে ব্যাংকের দায়িত্ব নতুন পর্ষদের কাছে হস্তান্তর করা হবে, কেবল সেই ব্যাংক থেকেই প্রশাসককে প্রত্যাহার করবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ফলে ৫ ব্যাংক থেকে একযোগে প্রশাসক প্রত্যাহার করা হচ্ছে না। গভর্নরের সঙ্গে ৫ ব্যাংকের প্রশাসকদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত সভায় ব্যাংকগুলোর বর্তমান অবস্থা, পুনর্গঠনের অগ্রগতি এবং বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ তুলে ধরেন পাওয়ার পায়েন্ট প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে।
সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকে ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিয়োগ দেয়ার পর প্রশাসকদের তুলে নেয়ার বিষয়টি আলোচনায় আসে। ৩৫ হাজার কোটি টাকার অনুমোদিত মূলধন নিয়ে যাত্রা শুরু করা নতুন এই ব্যাংকে সরকার ইতোমধ্যে ২০ হাজার কোটি টাকা মূলধন সহায়তা দিয়েছে।
আর্থিক সংকটে দুর্দশায় পড়া শরিয়াহভিত্তিক বেসরকারি এক্সিম ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক ও সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক একীভূত করে বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের সময় সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গঠন করা হয়। ২০২৫ সালের ১ ডিসেম্বর সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের নামে চূড়ান্ত লাইসেন্স দেয় নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ ব্যাংক। গত ১৬ জুলাই ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক দায়িত্ব নিয়েছেন মো. আবেদুর রহমান সিকদার।
