বায়ু দূষণের সূচকে নবম ঢাকা
কাগজ প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৯ জুলাই ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
জলবায়ু পরিবর্তন ও বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ চলায় বিশ্বের বিভিন্ন শহরে বায়ুদূষণের মাত্রা দিন দিন বাড়ছেই। মাঝে মাঝে টানা বৃষ্টি কিংবা ছুটির দিনে পরিস্থিতি কিছুটা উন্নতি হলেও তা সাময়িক। গতকাল মঙ্গলবার ঢাকার বায়ুমানের স্কোর ছিল ১০৯। আর বিশ্বের দূষিত শহরের তালিকায় মেগাসিটি ঢাকার অবস্থান ছিল ৯ নম্বরে।
সুইজারল্যান্ডভিত্তিক বায়ুর মান পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্সের (আইকিউএয়ার) সূচকে এমন তথ্যই জানা গেছে। সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, গতকাল বায়ুদূষণের শীর্ষে ছিল পাকিস্তানের লাহোর। যার বায়ুমান স্কোর ছিল ১৭৭। তালিকার দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তা। যার বায়ুমান স্কোর ছিল ১৭২। তৃতীয় অবস্থানে থাকা উগান্ডার রাজধানী কাম্পালার বায়ুমান স্কোর ছিল ১৬০। ১২৪ স্কোর নিয়ে চতুর্থ অবস্থানে ছিল ইসরায়েলের অন্যতম প্রধান নগরী তেল আবিব। আর পঞ্চম অবস্থানে থাকা দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গের স্কোর ছিল ১১৯।
একটি শহরের বাতাস কতটা নির্মল বা দূষিত, তার লাইভ বা তাৎক্ষণিক সূচক জানিয়ে থাকে সুইজারল্যান্ডভিত্তিক প্রতিষ্ঠান আইকিউ এয়ার। প্রতিষ্ঠানটির মানদণ্ড অনুযায়ী, কোনো একটি এলাকা বা শহরের স্কোর শূন্য থেকে ৫০ এর মধ্যে থাকলে বায়ুর মান অনেক ভালো বলে বিবেচিত হয়। ৫১ থেকে ১০০ হলে মাঝারি বা সহনীয় ধরা হয় বায়ুর মান। সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর হিসেবে বিবেচিত হয় ১০১ থেকে ১৫০ স্কোর। অন্যদিকে, ১৫১ থেকে ২০০ পর্যন্ত অস্বাস্থ্যকর হিসেবে বিবেচিত হয়। স্কোর ২০১ থেকে ৩০০ হলে খুবই অস্বাস্থ্যকর বলে বিবেচনা করা হয়। এছাড়া ৩০১-এর বেশি হলে তা দুর্যোগপূর্ণ বলে বিবেচিত হয়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বায়ুদূষণের প্রধান উৎস হলো যানবাহন থেকে নির্গত কালো ধোঁয়া, নির্মাণকাজের ধুলাবালি, ইটভাটা এবং শিল্পকারখানার নির্গমন। তাদের মতে, এসব উৎস থেকে দূষণ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ও টেকসই পদক্ষেপ না নিলে বায়ুর মানে স্থায়ী উন্নতি আনা সম্ভব নয়।
ঢাকার বায়ুদূষণের প্রধান উপাদান হলো বাতাসে অতিক্ষুদ্র বস্তুকণা বা পিএম ২.৫-এর উপস্থিতি। ঢাকার বাতাসে এর উপস্থিতি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) মানমাত্রার চেয়ে প্রায় ৩৪ গুণ বেশি। ডব্লিউএইচও’র মতে, বায়ু দূষণের কারণে প্রতি বছর বিশ্বব্যাপী আনুমানিক ৭০ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়। বায়ুদূষণে কারণে প্রধানত স্ট্রোক, হৃদরোগ, ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ, ফুসফুসের ক্যান্সার এবং তীব্র শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণ থেকে মৃত্যুর হার বাড়ে।
