দেশের সব দুধের নমুনায় মিলল মাইক্রোপ্লাস্টিক
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৯ জুলাই ২০২৬, ১২:৪২ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
বাংলাদেশের বাজারে বিক্রি হওয়া কাঁচা দুধ, বিভিন্ন ব্র্যান্ডের তরল ও গুঁড়া দুধ এবং অন্যান্য দুগ্ধজাত পণ্যে উদ্বেগজনক হারে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষকের পরিচালিত গবেষণায় পরীক্ষা করা ৪১টি নমুনার প্রতিটিতেই ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণা শনাক্ত হয়েছে। গবেষকদের মতে, নিয়মিত দুধ গ্রহণের কারণে শিশুদের শরীরে প্রাপ্তবয়স্কদের তুলনায় বেশি মাইক্রোপ্লাস্টিক প্রবেশের আশঙ্কা রয়েছে।
‘মাইক্রোপ্লাস্টিকস কনটামিনেশন অব মিল্ক অ্যান্ড মিল্ক প্রোডাক্টস ইন বাংলাদেশ: ক্যারেক্টারাইজেশন, ডায়েটারি এক্সপোজার অ্যান্ড রিস্ক অ্যাসেসমেন্ট’ শীর্ষক গবেষণাটি পরিচালিত হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) গবেষণা অনুদানের অর্থায়নে। গবেষণার নেতৃত্ব দেন সানাউল্লাহ মাজুমদার। গবেষক দলের অন্য সদস্যরা হলেন- রেহেনুমা তারান্নুম, মো. মোশিউজ্জামান আদনান, তানজুম কবির খুকু, মো. রাসেল আলী, শাহুদা ইসলাম সোয়া, মো. আবদুর রাকিব, আলম তাজ আরা অর্থী, মো. মামুন ইসলাম ও মো. ওমর ফারুক।
গবেষণার জন্য দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে সংগ্রহ করা ১৭টি কাঁচা দুধ, ১২টি ব্র্যান্ডের তরল ও গুঁড়া দুধ এবং ১২টি দুগ্ধজাত পণ্যের নমুনা বিশ্লেষণ করা হয়। পরীক্ষায় মাইক্রোস্কোপ ও ফোরিয়ার ট্রান্সফর্ম ইনফ্রারেড (এফটিআইআর) প্রযুক্তির মাধ্যমে প্রতিটি নমুনায় মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়।
গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতি ১০০ মিলিলিটার ব্র্যান্ডের দুধে গড়ে ১৫৬ দশমিক ০৬টি, কাঁচা দুধে ৯৩ দশমিক ৩৯টি এবং দুগ্ধজাত পণ্যে ৭০ দশমিক ৮০টি মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা রয়েছে। গবেষকদের ধারণা, সংগ্রহ, পরিবহন, প্রক্রিয়াজাতকরণ, সংরক্ষণ ও প্যাকেটজাতকরণের বিভিন্ন ধাপে প্লাস্টিকের সংস্পর্শে আসার কারণেই ব্র্যান্ডের দুধে দূষণের মাত্রা বেশি হয়েছে।
আরো পড়ুন : চিনির ৯৫ শতাংশ নমুনায় মাইক্রোপ্লাস্টিক
পরীক্ষায় পাওয়া অধিকাংশ কণাই ছিল আঁশের মতো (ফাইবার) এবং স্বচ্ছ প্রকৃতির, যেগুলোর আকার ২৫০ মাইক্রোমিটারের কম। গবেষকদের মতে, কৃত্রিম তন্তুর পোশাক, প্লাস্টিকের প্যাকেট, পাইপ, গ্লাভস, উৎপাদন যন্ত্রপাতি এবং কারখানার পরিবেশ থেকেই এসব কণা দুধে মিশে থাকতে পারে।
বিশ্লেষণে পিটিএফই (টেফলন), পিইটি, নাইলন-৬, পলিইথিলিন, পিডিএমএস, পিপিএস, পিভিসি, পলিপ্রোপিলিন ও পলিস্টাইরিনসহ বিভিন্ন ধরনের প্লাস্টিক পলিমারের উপস্থিতিও শনাক্ত হয়েছে। কাঁচা দুধে পিটিএফই ও পিইটির পরিমাণ বেশি পাওয়া গেলেও ব্র্যান্ডের দুধে পিডিএমএস ও পিইটির উপস্থিতি তুলনামূলক বেশি ছিল।
গবেষণায় বয়স, শরীরের ওজন এবং দুধ গ্রহণের পরিমাণ বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, শিশুদের শরীরের ওজন কম এবং দুধ গ্রহণের হার বেশি হওয়ায় তাদের শরীরে মাইক্রোপ্লাস্টিক প্রবেশের সম্ভাবনা তুলনামূলক বেশি। বিশেষ করে ৪ থেকে ১০ বছর বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
দূষণের মাত্রা মূল্যায়নে ব্যবহৃত বিভিন্ন সূচকের ভিত্তিতে গবেষকেরা কাঁচা দুধকে উচ্চ ঝুঁকি, ব্র্যান্ডের দুধকে উল্লেখযোগ্য ঝুঁকি এবং দুগ্ধজাত পণ্যকে মাঝারি ঝুঁকির মধ্যে রেখেছেন। তাদের মতে, বাংলাদেশের দুগ্ধশিল্পে প্লাস্টিকের ব্যবহার কমানো, উন্নত ফিল্টারিং ব্যবস্থা চালু করা এবং নিয়মিত মান পরীক্ষার ব্যবস্থা গ্রহণ করা এখন সময়ের দাবি।
