×

জাতীয়

মানবদেহে মাইক্রোপ্লাস্টিক, জেনে নিন এর ক্ষতিকর প্রভাব

Icon

কাগজ ডেস্ক

প্রকাশ: ২৯ জুলাই ২০২৬, ০১:২৪ পিএম

মানবদেহে মাইক্রোপ্লাস্টিক, জেনে নিন এর ক্ষতিকর প্রভাব

ছবি: সংগৃহীত

খালি চোখে দেখা যায় না কিংবা অতি ক্ষুদ্র প্লাস্টিকের কণা, যা ‘মাইক্রোপ্লাস্টিক’ (আকারে ৫ মিলিমিটারের চেয়ে ছোট) নামে পরিচিত, বর্তমানে পরিবেশের গণ্ডি পেরিয়ে আমাদের রক্ত, ফুসফুস ও পরিপাকতন্ত্রে প্রবেশ করেছে।

খাবার পানি, সমুদ্রের মাছ, প্রক্রিয়াজাত খাদ্য এবং বাতাস—প্রতিটি মাধ্যমেই আজ মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি বিদ্যমান। সাম্প্রতিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের বিভিন্ন গবেষণায় মানবদেহে এই ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণার মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকির তথ্য উঠে এসেছে।

মানবদেহে মাইক্রোপ্লাস্টিকের প্রধান ক্ষতিকর প্রভাবসমূহ

১. সেলুলার বিষাক্ততা ও কোশের ক্ষতি:

ক্ষুদ্র মাইক্রোপ্লাস্টিক কণাগুলো রক্তের মাধ্যমে মানবদেহের কোষের ভেতরে প্রবেশ করতে পারে। এটি স্বাভাবিক কোষের স্বাভাবিক কার্যকলাপে ব্যাঘাত ঘটায় এবং কোষের স্থায়ী ক্ষতি বা ‘কোষের মৃত্যু’ (অ্যাপোপটোসিস) ঘটাতে ভূমিকা রাখে।

২. হরমোন বা এনজাইমের ভারসাম্যহীনতা:

প্লাস্টিক তৈরির সময় বিপিএ, ফ্যালেটস-এর মতো বিভিন্ন ক্ষতিকর রাসায়নিক যোগ করা হয়। মানবদেহে প্রবেশের পর এসব উপাদান হরমোনের স্বাভাবিক প্রবাহে বাধা সৃষ্টি করে। এর ফলে থাইরয়েড সমস্যা, প্রজনন সমস্যা (বন্ধ্যাত্ব) এবং মেটাবলিজমে সমস্যা দেখা দেয়।

৩. দীর্ঘমেয়াদি প্রদাহ ও প্রজনন স্বাস্থ্যের ক্ষতি: 

মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতির কারণে পরিপাকতন্ত্র এবং শরীরের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি প্রদাহের (ক্রনিক ইনফ্লামেশন) সৃষ্টি হয়। এতে নারী ও পুরুষের প্রজনন ক্ষমতা হ্রাস পেতে পারে। এমনকি গর্ভাবস্থায় গর্ভস্থ শিশুর স্বাভাবিক বিকাশেও এটি বাঁধা তৈরি করতে পারে।

৪. শ্বাসকষ্ট ও ফুসফুসের রোগ:

বাতাসে ভেসে থাকা সূক্ষ্ম প্লাস্টিক কণা নিঃশ্বাসের সঙ্গে ফুসফুসে পৌঁছে জমা হতে থাকে। এর ফলে হাঁপানি, দীর্ঘস্থায়ী কাশি, ব্রঙ্কাইটিস এবং ফুসফুসে বিভিন্ন ধরনের এলার্জি ও জটিল রোগের সৃষ্টি হয়।

৫. ক্যান্সার সৃষ্টির ঝুঁকি:

অনেক গবেষণায় দেখা গেছে, কেমিক্যালবাহী কিছু বিপজ্জনক প্লাস্টিক কণা শরীরে জমার ফলে কার্সিনোজেনিক (কার্সিনোজেনিক) বিক্রিয়া শুরু হয়, যা কোশের অনিয়ন্ত্রিত বৃদ্ধি ঘটিয়ে ক্যান্সারের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।

৬. পরিপাকতন্ত্রের ভারসাম্য নষ্ট করা:

খাবারের সাথে পরিপাকতন্ত্রে প্রবেশ করা মাইক্রোপ্লাস্টিক পাকস্থলী ও অন্ত্রের উপকারি ব্যাকটেরিয়া বা অণুজীবের ভারসাম্য নষ্ট করে ফেলে। ফলশ্রুতিতে হজমের সমস্যা, আলসার ও পেটের জটিল রোগ দেখা দিতে পারে।

প্রতিকারের উপায় ও সুপারিশ

একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক (সিঙ্গল-ইউজ প্লাস্টিক) বর্জন: প্লাস্টিকের বোতল, পাত্র বা ব্যাগ ব্যবহার কমিয়ে কাচ, কাগজ বা কাপড়ের বিকল্প সামগ্রী ব্যবহারে জোর দিতে হবে।

খাদ্যাভ্যাসে সচেতনতা: ওয়ান-টাইম প্লাস্টিকের পাত্রে গরম খাবার বা চা গ্রহণ এড়িয়ে চলা জরুরি।

নিরাপদ পানীয় জল: যথাযথভাবে পরিশোধিত পানি পান করা নিশ্চিত করতে হবে।

নীতিমালা প্রণয়ন: পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য রক্ষায় সরকারের পক্ষ থেকে মাইক্রোপ্লাস্টিকের দূষণ রোধে কঠোর আইন প্রণয়ন করা প্রয়োজন।

মাইক্রোপ্লাস্টিক বর্তমানে মানবজাতির জন্য এক নীরব ঘাতক বা 'সাইলেন্ট কিলার'-এ পরিণত হয়েছে। এখন থেকেই ব্যক্তিপর্যায়ে প্লাস্টিকের ব্যবহার সীমিত না করলে এবং বিশ্বব্যাপী কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে নিকট ভবিষ্যতে বিশ্ব স্বাস্থ্য খাত বড় ধরণের ঝুঁকিতে পড়বে।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

পলিশ চাল কি সত্যিই স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর? জেনে নিন এর প্রভাব ও ঝুঁকি

পলিশ চাল কি সত্যিই স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর? জেনে নিন এর প্রভাব ও ঝুঁকি

ইসির সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার দাবি জামায়াতের

ইসির সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার দাবি জামায়াতের

শিল্পখাতে গ্যাস সংকট নিরসনের আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর

শিল্পখাতে গ্যাস সংকট নিরসনের আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর

ট্রাক ও নসিমনের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ১, আহত ৩

ট্রাক ও নসিমনের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ১, আহত ৩

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App