সড়ক দুর্ঘটনা
সাড়ে ৭ বছরে ঝরল ৭৩৬৪ শিক্ষার্থীর প্রাণ
কাগজ প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৯ জুলাই ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় শিক্ষার্থী নিহত হওয়ার ঘটনা উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। ২০১৯ সাল থেকে ২০২৬ সালের জুন মাস পর্যন্ত সাড়ে সাত বছরে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছেন ৭ হাজার ৩৬৪ জন শিক্ষার্থী। এই একই সময়ে মোট মারা গেছেন ৪৮ হাজার ৭১৩ জন। গতকাল মঙ্গলবার রোড সেফটি ফাউন্ডেশন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সড়ক দুর্ঘটনায় শিক্ষার্থী নিহতের ঘটনা পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, ৫ থেকে ১৭ বছর বয়সী স্কুল ও মাদ্রাসা শিক্ষার্থী নিহত হয়েছে ৩ হাজার ৩২৮ জন। ১৮ থেকে ২৫ বছর বয়সী কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নিহত হয়েছে ৪ হাজার ৩৬ জন।
শিক্ষার্থীরা পথচারী হিসেবে যানবাহনের চাপা/ধাক্কায় নিহত হয়েছে ১ হাজার ৯২৩ জন। যানবাহনের যাত্রী হিসেবে নিহত হয়েছেন ৯২৭ জন। মোটরসাইকেলের চালক ও আরোহী হিসেবে নিহত ৩ হাজার ৮৪১ জন। বাইসাইকেল ও রিকশা আরোহী হিসেবে নিহত ৫১৯ জন। অটোরিকশার চাকায় ওড়না/পোশাক পেঁচিয়ে নিহত হয়েছেন ১৫৪ জন।
সড়কভিত্তিক মোট নিহতের চিত্রে দেখা যায়, মহাসড়কে ১ হাজার ৪৮২ জন, আঞ্চলিক সড়কে ২ হাজার ১৪৯ জন, শহরের সড়কে ১ হাজার ৭৮৬ জন এবং গ্রামীণ সড়কে নিহত হয়েছেন ১ হাজার ৯৪৭ জন।
দুর্ঘটনা পর্যালোচনায় রোড সেফটি জানিয়েছে, ৫ থেকে ১২ বছর বয়সী শিক্ষার্থী স্কুলে যাওয়া-আসার পথে, বাড়ির আশপাশে খেলার সময় অটোরিকশা, বাইক ও পণ্যবাহী যানবাহনের ধাক্কায়/চাপায় নিহত হয়েছে। এসব দুর্ঘটনা গ্রামীণ সড়কে বেশি ঘটেছে। ১৩ থেকে ২৫ বছর বয়সী শিক্ষার্থীরা বাইকের চালক ও আরোহী হিসেবে বেশি নিহত হয়েছে। এসব দুর্ঘটনা আঞ্চলিক ও মহাসড়কে বেশি ঘটেছে। বাইসাইকেল আরোহীরা থ্রি-হুইলার, মোটরসাইকেল এবং অনিরাপদ মালবাহী যানবাহনের ধাক্কায় গ্রামীণ এবং আঞ্চলিক সড়কে বেশি নিহত হয়েছেন। তবে অটোরিকশার চাকায় ওড়না বা পোশাক পেঁচিয়ে দুঘটনার জন্য ব্যক্তিগত অসতর্কতা দায়ী।
সংগঠনটির সুপারিশে বলা হয়েছে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ে বছরে একবার ক্যাম্পেইনের আয়োজন করতে হবে। ২. সরকারি উদ্যোগে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ দিতে হবে। ৩. ক্লাস পরীক্ষায় সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ক প্রশ্ন থাকতে হবে। ৪. গণমাধ্যম এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় জীবনমুখী প্রচারণার মাধ্যমে সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে। ৫. অনিরাপদ যানবাহন বন্ধ করতে হবে। ৬. শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আশপাশের সড়কে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে এবং ৭. কোনোভাবেই যেন অপ্রাপ্ত বয়স্করা বাইক চালাতে না পারে সেজন্য আইনের কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে এবং পারিবারিক সচেতনতা সৃষ্টির উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।
