আরো ৬ প্রাণহানি
হাম ও ডেঙ্গুতে মৃতের তালিকা দীর্ঘ হচ্ছে
কাগজ প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৯ জুলাই ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
দেশজুড়ে হামের প্রাদুর্ভাব কমার কোনো লক্ষণ এখনো দেখা যাচ্ছে না। বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি শুরুর দুই মাসের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা কমেনি। সরকারি হিসাবে গত ১৫ মে থেকে ২৮ জুলাই পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে ৮২৮ শিশুর মৃত্যু হয়েছে, আর প্রতিদিনই শনাক্ত হচ্ছে হাজারের কাছাকাছি নতুন রোগী। এদিকে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যা এখনো এককের ঘরে থাকলেও ক্রমেই দীর্ঘ হচ্ছে এডিস মশাবাহিত এই জ্বরে আক্রান্ত হয়ে মৃতের তালিকা।
দেশে গেল ২৪ ঘণ্টায় (সোমবার সকাল ৮টা থেকে মঙ্গলবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) সারাদেশে হামের উপসর্গ নিয়ে আর ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে ডেঙ্গুতে ৩ জনের আর বাকি ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে হামের উপসর্গ নিয়ে।
গতকাল মঙ্গলবার হামের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানা যায়।
হামের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে মারা যাওয়া ৩ জনের মধ্যে ২ জন চট্টগ্রামে আর ১ জন রাজশাহীতে মারা গেছে। নতুন করে আরো ৯০৪ জনের শরীরে হাম ও এর উপসর্গ দেখা গেছে। ১০৫ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। উপসর্গ নিয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে যায় ৭৯৯ জন, তাদের মধ্যে ৭৮৭ জন ভর্তি হয়েছে। ভর্তি রোগীদের মধ্যে ঢাকা বিভাগের হাসপাতালগুলোতে ভর্তি হয়েছে ২৩৩ জন, রাজশাহীতে ৩১, সিলেটে ৭৭, চট্টগ্রামে ২১৫, বরিশালে ১৩০, ময়মনসিংহে ৪৫, খুলনায় ৪৩ ও রংপুরে ভর্তি হয়েছে ১৩ জন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের শুরু থেকেই দেশে হামের প্রকোপ দেখা দেয়। তবে ফেব্রুয়ারির শেষ দিক থেকে তা সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর ১৫ মার্চ থেকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর রোগটি নিয়ে পরিসংখ্যান ও তথ্য-উপাত্ত সংরক্ষণ শুরু করে। গত ১৫ মার্চ থেকে গতকাল সকাল ৮টা পর্যন্ত অর্থাৎ ১৩৪ দিনে হাম ও হামের উপসর্গে মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮২৮ জনে। হামের উপসর্গ নিয়ে ৭৩৩ জন এবং নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে ৯৫ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। হামের উপসর্গে সবচেয়ে বেশি ৩২০ জন মারা গেছে ঢাকা বিভাগে। এর পরেই আছে সিলেট বিভাগ, সেখানে মারা গেছে ১০৭ জন। এছাড়া রাজশাহীতে ৯১, চট্টগ্রামে ৫৯, বরিশালে ৪৪, ময়মনসিংহে ৬৯, খুলনায় ৩২ ও রংপুর বিভাগে ১১ জন মারা গেছে। এই সময়ের মধ্যে সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা ১ লাখ ২৫ হাজার ৫৪৪। এরমধ্যে নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ১৫ হাজার ৬৬০। দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হাম রোগীর ভর্তির সংখ্যা ১ লাখ ৮ হাজার ৪৪১ জন। তাদের মধ্যে ১ লাখ ৪ হাজার ২৩৫ জন হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে।
ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দেশে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় যে ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে তাদের মধ্যে খুলনা বিভাগে মারা গেছেন ২ জন। আর চট্টগ্রাম বিভাগে মৃত্যু হয়েছে ১ জনের। এই সময়ে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ৫১২ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকার হাসপাতালগুলোতে ভর্তি হয়েছে ৮৫ জন। ৭৬ জন ভর্তি হয়েছে দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকার হাসপাতালগুলোতে। ঢাকা বিভাগের ২ সিটি করপোরেশনের বাইরে আরো ৪০ জন ভর্তি হয়েছে বিভিন্ন হাসপাতালে। এছাড়া বরিশাল বিভাগে ৭৫ জন, চট্টগ্রামে ৭৫ জন, খুলনায় ৮৪ জন ও ময়মনসিংহে ১৩ জন, রাজশাহীতে ৩৪ এবং রংপুরে ২৮ এবং সিলেটে ১ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়ে ৫৩২ জন হাসপাতাল ছেড়েছেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে ১ জানুয়ারি থেকে গতকাল সকাল ৮টা পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১৪ হাজার ১৫৬ জন। এর মধ্যে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ১৩ হাজার ৯ জন। এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মৃত্যু হয়েছে ৪৭ জনের। এর মধ্যে জুলাই মাসের এ পর্যন্ত ২৯ জন মারা গেছে। আর জানুয়ারিতে ২, ফেব্রুয়ারিতে ২, মে মাসে ১ ও জুনে ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।
