হামে ৮৩১ ও ডেঙ্গুতে ৫০ মৃত্যু
কাগজ প্রতিবেদক
প্রকাশ: ৩০ জুলাই ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
দৈনিক ওঠানামার মধ্য দিয়ে দেশে হাম ও ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা বেড়ে চলছে। এ পর্যন্ত হাম ও হামের উপসর্গে ৮৩১ জনের আর ডেঙ্গুতে ৫০ জনের মৃত্যু হয়েছে। দেশে গেল ২৪ ঘণ্টায় (মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে বুধবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) সারাদেশে হাম এবং এ রোগের উপসর্গ নিয়ে আর ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে ডেঙ্গুতে ৩ জনের আর বাকি ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে। গতকাল বুধবার হামের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানা যায়।
আরো ১ লাখ শিশুকে শিগগিরই হামের টিকা দেয়া হবে- স্বাস্থ্যমন্ত্রী : গতকাল সকালে রাজধানীর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে এক কর্মশালায় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, বর্তমানে হামে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি ৯৯ শতাংশ শিশুই হামের টিকা পায়নি। দ্রুতই আরো ১ লাখ শিশুকে হামের টিকা দেয়া হবে।
হাম ও উপসর্গে ৮৩১ জনের মৃত্যু
হামের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হামের উপসর্গে মারা যাওয়া ৩ জনের মধ্যে ১ জন নিশ্চিত হামে এবং বাকি ২ জন হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে। বিভাগ অনুযায়ী, ১ জন ঢাকা বিভাগের আর বাকি ২ জন চট্টগ্রাম বিভাগের। ২৪ ঘণ্টায় ৯৯৬ জন হামের উপসর্গ নিয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে এসেছে। তাদের মধ্যে ভর্তি হয়েছে ৯২৫ জন। আর যাদের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছিল, তাদের ৭৯ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের শুরু থেকেই দেশে হামের প্রকোপ দেখা দেয়। তবে ফেব্রুয়ারির শেষ দিক থেকে তা সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর ১৫ মার্চ থেকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর রোগটি নিয়ে পরিসংখ্যান ও তথ্যউপাত্ত সংরক্ষণ শুরু করে। গত ১৫ মার্চ থেকে গতকাল সকাল ৮টা পর্যন্ত অর্থাৎ ১৩৫ দিনে হাম ও হামের উপসর্গে মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮৩১ জনে।
তাদের মধ্যে হামে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে ৯৬ জনের। আর হামের উপসর্গ নিয়ে ৭৩৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। হামের উপসর্গ নিয়ে সবচেয়ে বেশি ৩২০ জন মারা গেছে ঢাকা বিভাগে। এর পরেই আছে সিলেট বিভাগ, সেখানে মারা গেছে ১০৭ জন। এছাড়া রাজশাহীতে ৯১, চট্টগ্রামে ৬১, বরিশালে ৪৪, ময়মনসিংহে ৬৯, খুলনায় ৩২ ও রংপুর বিভাগে ১১ জন মারা গেছে। এই সময়ের মধ্যে ১ লাখ ২৬ হাজার ৫৪০ জন হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে এসেছে। তাদের মধ্যে ১ লাখ ৯ হাজার ৩৬৬ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছে। আর নমুনা পরীক্ষার মাধ্যমে ১৫ হাজার ৭৩৯ জনের ক্ষেত্রে হামের সংক্রমণ নিশ্চিত হওয়া গেছে।
ডেঙ্গুতে ৫০ জনের প্রাণহানি
ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দেশে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় যে ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে তারা ঢাকা, ময়মনসিংহ ও বরিশাল বিভাগের। এ সময়ে ডেঙ্গু নিয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৫৩৪ জন। এর মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকার হাসপাতালগুলোতে ভর্তি হয়েছেন ৬৫ জন। ৫৬ জন ভর্তি হয়েছেন দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকার হাসপাতালগুলোতে। ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের বাইরে বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে আরো ১৩১ জন ভর্তি হয়েছে। অন্য বিভাগের মধ্যে বরিশালে ৬৮ জন, চট্টগ্রামে ৭১ জন, খুলনায় ৪৫ জন ও ময়মনসিংহে ৩৭ জন, রাজশাহীতে ৩০, রংপুরে ২৬ এবং সিলেটে ৫ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে ১ জানুয়ারি থেকে গতকাল সকাল ৮টা পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ১৪ হাজার ৬৯০ জন ডেঙ্গু নিয়ে ভর্তি হন। সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ১৩ হাজার ৯ জন। এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মৃত্যু হয়েছে ৫০ জনের। এর মধ্যে জুলাই মাসের এ পর্যন্ত ৩২ জন মারা গেছে। আর জানুয়ারিতে ২, ফেব্রুয়ারিতে ২, মে মাসে ১ ও জুনে ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি ও মৃত্যুর তথ্য রাখে ২০০০ সাল থেকে। এর মধ্যে ২০২৩ সালে এ রোগ নিয়ে সবচেয়ে বেশি ৩ লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়। ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে সবচেয়ে বেশি ১ হাজার ৭০৫ জনের মৃত্যুও হয় ওই বছর। গেল বছর ডেঙ্গুতে মৃত্যু হয় ৪ শতাধিক মানুষের, শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ছিল ১ লাখ ২ হাজারের মতো।
