হামের উপসর্গ ও ডেঙ্গুতে ৪ জনের মৃত্যু
প্রকাশ: ২১ আগস্ট ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
ছবি: সংগৃহীত
কাগজ প্রতিবেদক
দেশে হাম ও ডেঙ্গুর প্রকোপ কমার বদলে যেন বেড়েই চলছে। ওঠা-নামার মধ্য দিয়ে বাড়ছে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা। তবে গতকাল বৃহস্পতিবার এক অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, হাম, ডেঙ্গুসহ কয়েকটি রোগ একসঙ্গে সামলাতে হচ্ছে। এতে সরকার উদ্বিগ্ন নয়। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে।
দেশে গেল ২৪ ঘণ্টায় (বুধবার সকাল ৮টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) সারাদেশে হামের উপসর্গে ও ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ৩ জন হামের উপসর্গে আর বাকি ১ জন এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গু জ¦রে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার হাম ও ডেঙ্গুর সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানা যায়।
হামের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে ৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তবে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে কোনো শিশুর মৃত্যু হয়নি। মৃত ৩ জনের মধ্যে ২ জন ঢাকা, ১ জন সিলেট বিভাগের। হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ৭২টি শিশু। এর মধ্যে হামের উপসর্গজনিত রোগীর সংখ্যা ১ হাজার ৪ জন। আর পরীক্ষাগারে ৬৮টি শিশুর শরীরে হামের সংক্রমণ নিশ্চিত করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ভর্তি হয়েছে ৯৫০ জন। ভর্তি রোগীদের মধ্যে ঢাকা বিভাগে ভর্তি ৩০৯ জন, রাজশাহীতে ৩৫, সিলেটে ১৩১, চট্টগ্রামে ২২৮, বরিশালে ১২৪, ময়মনসিংহে ৫৭, খুলনায় ৫৪, রংপুরে ১২ জন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের শুরু থেকেই দেশে হামের প্রকোপ দেখা দেয়। তবে ফেব্রুয়ারির শেষ দিক থেকে তা সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর ১৫ মার্চ থেকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর রোগটি নিয়ে পরিসংখ্যান ও তথ্যউপাত্ত সংরক্ষণ শুরু করে। গত ১৫ মার্চ থেকে গতকাল সকাল ৮টা পর্যন্ত সারাদেশে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ৯২৫টি শিশু মারা গেছে। এর মধ্যে হামের উপসর্গ নিয়ে ৮২৬টি শিশুর আর হামে আক্রান্ত
হয়ে ৯৯ শিশু প্রাণ হারিয়েছে।
হামের উপসর্গ নিয়ে সবচেয়ে বেশি ৩৬৫ জন মারা গেছে ঢাকা বিভাগে। এর পরেই আছে সিলেট বিভাগ, সেখানে মারা গেছে ১৩৭ জন। এছাড়া রাজশাহীতে ৯২, চট্টগ্রামে ৬৩, বরিশালে ৪৯, ময়মনসিংহে ৭৪, খুলনায় ৩২ ও রংপুর বিভাগে ১৪ জন মারা গেছে।
এ পর্যন্ত মোট ১ লাখ ৪৬ হাজার ৭১৫ জনের শরীরে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে। সেইসঙ্গে এই সময়ে মোট ১৮
১৮ হাজার ১৪৪ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে। সারাদেশে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে মোট ১ লাখ ২৮ হাজার ২৬ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে এ পর্যন্ত সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ১ লাখ ২৩ হাজার ৬৮৪ জন ছাড়পত্র পেয়েছেন।
ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এডিস মশাবাহী ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে যে ১ জনের মৃত্যু হয়েছে তিনি খুলনা বিভাগের বাসিন্দা। একই সময়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৭৫০ জন ডেঙ্গু রোগী। নতুন আক্রান্তদের মধ্যে ৪৬৮ জন পুরুষ ও ২৮২ জন নারী। গত ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি ১৭৩ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন খুলনা বিভাগে। এরপর বরিশালে ১২১ জন, চট্টগ্রামে ৯৬ জন, রাজশাহীতে ৫৭ জন, ময়মনসিংহে ৫৬ জন, ঢাকা বিভাগের সিটি করপোরেশন এলাকার বাইরে ৪৭ জন, রংপুরে ১৪ জন এবং সিলেটে ৩ জন ভর্তি হয়েছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৬৫৯ জন ডেঙ্গু রোগী।
অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে ১ জানুয়ারি থেকে গতকাল সকাল ৮টা পর্যন্ত মশাবাহিত রোগটিতে ৭৭ জনের প্রাণ কেড়েছে। এর মধ্যে ৩২ জন পুরুষ এবং ৪৫ জন নারী। সবচেয়ে বেশি ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে ২৬ থেকে ৩০ বছর বয়সী মানুষের মধ্যে। আর হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ২৭ হাজার ২২। চলতি বছরের মোট আক্রান্তদের মধ্যে ১৬ হাজার ৭০১ জন পুরুষ এবং ১০ হাজার ৩১৬ জন নারী। বয়সভিত্তিক হিসাবে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয়েছেন ২১ থেকে ২৫ বছর বয়সীরা, ৩ হাজার ৮১০ জন। এরপর ২৬ থেকে ৩০ বছর বয়সী ৩ হাজার ৮০৫ জন এবং ১৬ থেকে ২০ বছর বয়সী ৩ হাজার ৬০৯ জন আক্রান্ত হয়েছেন। বিভাগভিত্তিক হিসাবে এ পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছেন বরিশালে ৪ হাজার ৭৫০ জন। এরপর চট্টগ্রামে ৪ হাজার ২৮৫ জন এবং খুলনায় ৩ হাজার ৭৭৩ জন আক্রান্ত হয়েছেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি ও মৃত্যুর তথ্য রাখে ২০০০ সাল থেকে। এর মধ্যে ২০২৩ সালে এ রোগ নিয়ে সবচেয়ে বেশি ৩ লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়। ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে সবচেয়ে বেশি ১ হাজার ৭০৫ জনের মৃত্যুও হয় ওই বছর। গেল বছর ডেঙ্গুতে মৃত্যু হয় ৪ শতাধিক মানুষের, শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ছিল ১ লাখ ২ হাজারের মতো।
