‘আমাকে তো নিয়ে যাবেনই’, দীপু মনির আকুতি
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২১ আগস্ট ২০২৬, ০৯:৪৮ এএম
ছবি: সংগৃহীত
আমাকে তো নিয়ে যাবেনই, ফ্যামিলির সঙ্গে দুই মিনিট কথা বলি’। কারাগারে ফিরে যাওয়ার আগে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আরো কিছুক্ষণ কথা বলার জন্য এমন আকুতি জানান সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) স্বামী ব্যারিস্টার তৌফিক নেওয়াজের জানাজা শেষে পরিবারের সঙ্গে বিদায়ের সময় তাকে এ কথা বলতে শোনা যায়। নির্ধারিত প্যারোলের সময় শেষ হয়ে আসায় তখন তাকে আবার কারাগারে ফিরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি চলছিল।
এর আগে, স্বামীর মৃত্যুর পর ১২ ঘণ্টার প্যারোলে মুক্তি পান মুন্সীগঞ্জ কারাগারে থাকা দীপু মনি। হত্যা ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে দায়ের করা একাধিক মামলায় তিনি কারাগারে রয়েছেন। বৃহস্পতিবার সকালে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে তাকে ঢাকার কলাবাগানে স্বামীর বাসভবনে নেওয়া হয়।
সেখানে স্বামীর মরদেহ শেষবারের মতো দেখার পর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কিছু সময় কাটান তিনি। পরে গুলশানের কেন্দ্রীয় আজাদ মসজিদে বাদ জোহর তৌফিক নেওয়াজের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে তাকে বনানী কবরস্থানে দাফন করা হয়।
স্বামীকে শেষ বিদায় জানিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন দীপু মনি। এরপর প্যারোলের সময় শেষ হয়ে আসায় তাকে কারাগারে ফিরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি শুরু হয়।
আরো পড়ুন: গুলশানে দীপু মনির স্বামীর জানাজা অনুষ্ঠিত
পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে বিদায় নেওয়ার মুহূর্তে দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশে দীপু মনি বলেন, ‘আমাকে তো নিয়ে যাবেনই, ফ্যামিলির সঙ্গে দুই মিনিট কথা বলি।’ তার এই কথায় স্বজনদের মধ্যে আবেগঘন পরিবেশ তৈরি হয়। পরে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে নির্ধারিত প্রটোকল অনুযায়ী তাকে আবার কারাগারের উদ্দেশে নিয়ে যাওয়া হয়।
এদিকে, দীপু মনির এই আকুতির দৃশ্যের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। কেউ দেখছেন একজন স্বামীহারা নারীর ব্যক্তিগত শোক, কেউ আবার সামনে আনছেন তার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবন, সরকারের দায়িত্বে থাকা সময়ের সিদ্ধান্ত এবং বর্তমানে চলমান মামলার বিষয়গুলো।
মানবিক দিক থেকে দেখলে দৃশ্যটি নিঃসন্দেহে আবেগঘন। স্বামীকে হারানোর পর পরিবারের কাছ থেকে বিদায় নেওয়া, তারপর আবার কারাগারে ফিরে যাওয়া এই পরিস্থিতি যে কঠিন, তা নিয়ে দ্বিমত নেই। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের একটি অংশ বলছে, রাজনৈতিক মতবিরোধ থাকলেও এমন ব্যক্তিগত শোকের মুহূর্তে একজন মানুষকে মানুষ হিসেবেই দেখা উচিত।
তবে অন্য একটি অংশ মনে করছে, দীপু মনি শুধু একজন শোকাহত স্ত্রী নন, তিনি বাংলাদেশের রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ একটি চরিত্রও। তাই তার রাজনৈতিক ভূমিকা, সরকারের সময়কার সিদ্ধান্ত এবং বর্তমান আইনি অবস্থান নিয়েও আলোচনা স্বাভাবিক।
কেউ লিখছেন, রাজনীতি যার যার জায়গায়, কিন্তু স্বামী হারানোর কষ্ট একজন মানুষের ব্যক্তিগত বিষয়। আবার কেউ বলছেন,একজন সাবেক মন্ত্রী হিসেবে তার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রশ্ন থাকবে, আর ব্যক্তিগত আবেগ সেই প্রশ্নকে মুছে দিতে পারে না। আসলে দুটো অবস্থানের মাঝখানে দাঁড়িয়েই ঘটনাটিকে দেখার সুযোগ রয়েছে।
আরো পড়ুন: রাজপথ থেকে রাষ্ট্রপতি, মির্জা ফখরুলের রাজনৈতিক ইতিহাস
সমালোচকদের অভিযোগ, আওয়ামী লীগ সরকারের দীর্ঘ শাসনামলে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত ও কর্মকাণ্ডের দায় থেকে তিনি আলাদা নন। বিশেষ করে ২০২৪ সালের রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহের পর তার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলাগুলো এই বিতর্ককে আরও তীব্র করেছে। এখানে অবশ্য আইনি বিষয়টি আলাদাভাবে দেখা প্রয়োজন।
দীপু মনির বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে এবং এসব মামলার আইনি প্রক্রিয়া চলমান। কোনো মামলায় জামিন পাওয়া গেলেও অন্য মামলায় জামিন না থাকলে কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব নয়। তাই ‘জামিন পেয়েও কেন কারাগারে’ - এই প্রশ্নের উত্তর দিতে হলে প্রতিটি মামলার বর্তমান অবস্থাই দেখতে হবে। আর বিচারাধীন কোনো মামলার অভিযোগকে আদালতের চূড়ান্ত রায়ের আগে অপরাধ হিসেবে ধরে নেওয়াও ঠিক নয়। অভিযোগের সত্যতা শেষ পর্যন্ত বিচারিক প্রক্রিয়াতেই নির্ধারিত হবে।
