ভারত-পাকিস্তানের গণমাধ্যমে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচন
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২০ আগস্ট ২০২৬, ১১:৪৫ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
জাতীয় সংসদে ভোটের মাধ্যমে বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) বিকেলে ভোট গণনা শেষে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন তাকে বিজয়ী ঘোষণা করেন।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমদকে পরাজিত করেন মির্জা ফখরুল। নির্বাচনে মোট ৩৪৩টি বৈধ ভোটের মধ্যে তিনি পেয়েছেন ২৫৫ ভোট। অলি আহমদ পেয়েছেন ৮৮ ভোট।
বাংলাদেশের নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের খবর গুরুত্ব দিয়ে প্রকাশ করেছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও প্রতিবেশী দেশের গণমাধ্যম। বিশেষ করে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলোতে এ নির্বাচন নিয়ে একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। পাকিস্তানের কয়েকটি প্রভাবশালী গণমাধ্যমেও খবরটি গুরুত্ব পেয়েছে।
আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে মির্জা ফখরুলকে বাংলাদেশের নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৯৯১ সালের পর এই প্রথম বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচন প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হয়েছে। শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর বাংলাদেশের রাজনীতিতে পরিবর্তনের ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবেও নির্বাচনটিকে তুলে ধরা হয়।
জার্মান সংবাদমাধ্যম ডয়চে ভেলে (ডিডব্লিউ) সংসদ সদস্যদের ভোটে মির্জা ফখরুলের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার খবর প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনটি এএফপির তথ্যের ভিত্তিতে প্রকাশ করা হয়।
তুরস্কের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আনাদোলু মির্জা ফখরুলকে বাংলাদেশের নতুন রাষ্ট্রপতি হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার খবর প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনে অলি আহমদকে পরাজিত করে বিএনপির প্রার্থীর বিজয়ের বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে।
ভারতের দ্য টেলিগ্রাফ, দ্য হিন্দু, টাইমস অব ইন্ডিয়া, ইন্ডিয়া টুডে এবং নিউজ অন এআইআর-সহ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের খবর প্রকাশ করেছে। এসব প্রতিবেদনে নির্বাচনটির প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হওয়ার বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্ব পেয়েছে।
দ্য হিন্দু তাদের প্রতিবেদনে মির্জা ফখরুলকে বাংলাদেশের নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার বিষয়টি তুলে ধরেছে। একই সঙ্গে নির্বাচনটিকে দীর্ঘ ৩৫ বছরের মধ্যে অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে মির্জা ফখরুলের বিজয়ের পাশাপাশি সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দীনের পদত্যাগের বিষয়টিও তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, স্বাস্থ্যগত কারণ দেখিয়ে গত ২৪ জুলাই রাষ্ট্রপতি পদ থেকে পদত্যাগ করেন সাহাবুদ্দীন।
ইন্ডিয়া টুডেও বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে ১৯৯১ সালের পর প্রথম প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন হিসেবে উল্লেখ করেছে। সাবেক রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের পর নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বিষয়টিও প্রতিবেদনে গুরুত্ব পেয়েছে।
অন্যদিকে পাকিস্তানের জিও নিউজও মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার খবর প্রকাশ করেছে। তবে ভারতের তুলনায় পাকিস্তানের মূলধারার গণমাধ্যমে এ নির্বাচন নিয়ে তুলনামূলকভাবে কম প্রতিবেদন দেখা গেছে।
এ ছাড়া ভারতের নিউজ অন এআইআর জানিয়েছে, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ৩৪৩ জন সংসদ সদস্য ভোট দিয়েছেন। মোট ৩৪৯ জন সংসদ সদস্য ভোট দেওয়ার জন্য যোগ্য ছিলেন।
সব মিলিয়ে, বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বিজয় এবং দীর্ঘ সময় পর প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার বিষয়টি প্রতিবেশী ভারত ও পাকিস্তানের গণমাধ্যমে আলোচনায় এসেছে।
