ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল পাবে প্রায় ২ কোটি ৪০ লাখ শিশু
কাগজ প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৭ জুন ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
সারাদেশে একযোগে শুরু হতে যাচ্ছে জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন।
আগামী ২৮ জুন রবিবারের এই ক্যাম্পেইনে দেশের প্রায় ২ কোটি ৪০ লাখ শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার।
গতকাল বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এমএ মুহিত এ তথ্য জানান।
সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. জাহিদ রায়হান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, আগামী ২৮ জুন সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত সারাদেশে একযোগে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাম্পেইন চলবে। কোনো শিশু যদি ওইদিন বাদ পড়ে, পরদিনও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে ক্যাপসুল খাওয়ানো যাবে। এ ছাড়া ১২টি জেলার ৫৮টি দুর্গম উপজেলায় ক্যাম্পেইনের পরের ৪ দিন এই ক্যাপসুল বিতরণ করা হবে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, রাতকানা রোগসহ শিশু অন্ধত্বের বড় কারণ ভিটামিন ‘এ’-র অভাব। এই অভাব দূর করতে ক্যাম্পেইনে ৬ থেকে ১১ মাস বয়সী শিশুদের একটি করে নীল রঙের এবং ১২ থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের একটি করে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন লাল রঙের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে। ক্যাম্পেইনের প্রস্তুতি তুলে ধরে ড. মুহিত বলেন, শিশুদের ক্যাপসুল খাওয়ানোর জন্য দেশজুড়ে ১ লাখ ২০ হাজার স্থায়ী কেন্দ্রের পাশাপাশি জনগুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন স্থানে ৫০০টি অস্থায়ী কেন্দ্র প্রস্তুত করা হয়েছে।
স্বাস্থ্যপ্রতিমন্ত্রী বলেন, রাতকানা রোগ থেকে শুরু করে শিশু অন্ধত্বের একটা প্রধান কারণ হচ্ছে ভিটামিন ‘এ’-র অভাব। বাংলাদেশে দুই দশক আগেও অপুষ্টিজনিত কারণে শিশুদের অন্ধ হয়ে যাওয়ার চিত্র দেখা যেত। তবে নিয়মিত ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল বিতরণ চালু হওয়ার পর এই হার অত্যন্ত দ্রুত কমে এসেছে। তীব্র বা জটিল অসুস্থতা ছাড়া সব শিশুই এই ক্যাপসুল খেতে পারবে জানিয়ে খালি পেটে শিশুকে ক্যাপসুল না খাওয়ানোর পরামর্শ দেন প্রতিমন্ত্রী।
প্রসঙ্গত; শিশুদের অন্ধত্ব ও পুষ্টিহীনতা দূর করতে ১৯৭৩ সাল থেকে দেশে ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানো শুরু হয়। তখন কর্মসূচিটি ‘জাতীয় রাতকানা রোগ প্রতিরোধ কার্যক্রম’ নামে পরিচিত ছিল। ১৯৯৫ সাল থেকে কার্যক্রমটিকে আরো শক্তিশালী করার জন্য জাতীয় টিকাদান কর্মসূচির সঙ্গে ভিটামিন ‘এ’-কে যুক্ত করা হয়। এরপর ২০০৩ সাল থেকে এটিকে আলাদা কর্মসূচি হিসেবে নেয়া হয়, যার নাম দেয়া হয় জাতীয় ভিটামিন এ প্লাস ক্যাম্পেইন। এ কর্মসূচিটি জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের তত্ত্বাবধানে
পরিচালিত হত। ২০১১ সাল থেকে গত বছরের মার্চ পর্যন্ত এটি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের জাতীয় পুষ্টিসেবা বা এনএনএস অপারেশন প্লানের অধীনে পরিচালিত হয়। অপারেশন প্লান বিলুপ্ত হওয়ায় এটি ফের জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম হিসেবে চলছে।
