ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইনে টিকা পাবে আড়াই কোটি শিশু
কাগজ প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৮ জুন ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
দীর্ঘ ১৪ মাস পর সারাদেশে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন। আজ রবিবার সারাদেশে একযোগে এই ক্যাম্পেইনের আওতায় দেশের প্রায় ২ কোটি ৪০ লাখ শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার। সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত সারাদেশে একযোগে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাম্পেইন চলবে। শিশুদের ক্যাপসুল খাওয়ানোর জন্য দেশজুড়ে ১ লাখ ২০ হাজার স্থায়ী কেন্দ্রের পাশাপাশি জনগুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন স্থানে ৫০০টি অস্থায়ী কেন্দ্র প্রস্তুত করা হয়েছে। কোনো শিশু যদি ওইদিন বাদ পড়ে, পরদিনও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে ক্যাপসুল খাওয়ানো যাবে। এছাড়া ১২টি জেলার ৫৮টি দুর্গম উপজেলায় ক্যাম্পেইনের পরের ৪ দিন এই ক্যাপসুল বিতরণ করা হবে।
রাতকানা রোগসহ শিশু অন্ধত্বের বড় কারণ ভিটামিন ‘এ’-র অভাব। এই অভাব দূর করতে ক্যাম্পেইনে ৬ থেকে ১১ মাস বয়সী শিশুদের একটি করে নীল রঙের এবং ১২ থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের একটি করে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন লাল রঙের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে। তবে সব শিশুই এই ক্যাপসুল খেতে পারবে না। নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে শিশুকে সেদিন ক্যাপসুল না দেয়ার পরামর্শ দেয়া হয়।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং জাতীয় কর্মসূচির নির্দেশনা অনুযায়ী, ৬ মাসের কম বয়সী শিশুদের ভিটামিন এ প্লাস ক্যাম্পেইনের ক্যাপসুল খাওয়ানো হয় না। এছাড়া গত এক মাসের (২৮ থেকে ৩০ দিনের) মধ্যে উচ্চমাত্রার ভিটামিন এ ক্যাপসুল খেয়ে থাকলে একই শিশুকে আবার ক্যাপসুল দেয়া হয় না। তবে অনেক অভিভাবকের মধ্যে জ্বর, সর্দি-কাশি বা ডায়রিয়া থাকলে ক্যাপসুল খাওয়ানো নিয়ে দ্বিধা থাকে। এ বিষয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, হালকা জ্বর, সর্দি-কাশি, ডায়রিয়া বা অপুষ্টি থাকলেও সাধারণত ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানো যায়। অর্থাৎ এসব সমস্যা ক্যাপসুল দেয়ার ক্ষেত্রে বাধা নয়। তবে কোনো শিশু যদি গুরুতর অসুস্থ থাকে বা হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার মতো অবস্থায় থাকে, তাহলে আগে তার চিকিৎসা নিশ্চিত করার পর স্বাস্থ্যকর্মীর পরামর্শ অনুযায়ী ভিটামিন এ ক্যাপসুল দেয়া হয়।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, ভিটামিন এ শিশুর রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে, দৃষ্টিশক্তি সুরক্ষায় এবং ভিটামিন ‘এ’-এর ঘাটতি প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই নির্ধারিত বয়সের শিশুদের জাতীয় কর্মসূচির আওতায় এই ক্যাপসুল খাওয়ানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।
প্রসঙ্গত; শিশুদের অন্ধত্ব ও পুষ্টিহীনতা দূর করতে ১৯৭৩ সাল থেকে দেশে ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানো শুরু হয়। তখন কর্মসূচিটি ‘জাতীয় রাতকানা রোগ প্রতিরোধ কার্যক্রম’ নামে পরিচিত ছিল। ১৯৯৫ সাল থেকে কার্যক্রমটিকে আরো শক্তিশালী করার জন্য জাতীয় টিকাদান কর্মসূচির সঙ্গে ভিটামিন ‘এ’-কে যুক্ত করা হয়। এরপর ২০০৩ সাল থেকে এটিকে আলাদা কর্মসূচি হিসেবে নেয়া হয়, যার নাম দেয়া হয় জাতীয় ভিটামিন এ প্লাস ক্যাম্পেইন। এ কর্মসূচিটি জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হতো। ২০১১ সাল থেকে গত বছরের মার্চ পর্যন্ত এটি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের জাতীয় পুষ্টিসেবা বা এনএনএস অপারেশন প্লানের অধীনে পরিচালিত হয়। অপারেশন প্লান বিলুপ্ত হওয়ায় এটি ফের জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম হিসেবে চলছে।
