×

শেষের পাতা

খুলনা ডেন্টাল কলেজ ও হাসপাতাল প্রকল্পটি অবশেষে বন্ধই হয়ে যাচ্ছে!

চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার মানুষ

Icon

বাবুল আকতার, খুলনা ব্যুরো

প্রকাশ: ৩০ জুন ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

খুলনা ডেন্টাল কলেজ ও হাসপাতাল প্রকল্পটি অবশেষে বন্ধই হয়ে যাচ্ছে!

দীর্ঘ ৬ বছরে বাস্তবায়ন না হওয়া খুলনা ডেন্টাল কলেজ ও হাসপাতাল প্রকল্পটি অবশেষে বন্ধ হতে যাচ্ছে। এ প্রকল্পের অনুমোদন, গেজেট প্রকাশ ও প্রশাসনিক নানা কার্যক্রম সম্পন্ন হলেও কলেজের অধ্যক্ষকে বদলি করায় পদটি শূন্য রয়েছে। ফলে কোন তদারকি কর্মকর্তা না থাকায় অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে ডেন্টাল হাসপাতালটি। যে-কারণে একদিকে দন্ত চিকিৎসা সেবা, অন্যদিকে উচ্চতর ডেন্টাল শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ।

জানা যায়, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলায় দন্ত সংক্রান্ত রোগের চিকিৎসার জন্য কোনো সরকারি হাসপাতাল না থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়তে হয় এই অঞ্চলের মানুষদের। এ সব জেলায় মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পৃথক কোন ডেন্টাল ইউনিটের ব্যবস্থা না থাকায় দাঁতের চিকিৎসার জন্য রোগীদের যেতে হয় ঢাকায়। এমন পরিস্থিতিতে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ২০১৯ সালে খুলনা লবণচরা এলাকায় দেশের দ্বিতীয় সরকারি ডেন্টাল কলেজ ও হাসপাতাল নির্মাণের উদ্যোগ নেন। একই সালের ৮ ডিসেম্বর তৎকালীন বিভাগীয় কমিশনার ড. আনোয়ার হোসেন হাওলাদার ডেন্টাল কলেজ ও হাসপাতাল স্থাপনের অনুরোধ জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রণালয়ের সচিবকে একটি পত্র দেন। ২০১৯ সালে ৩১ ডিসেম্বর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ডেন্টাল কলেজ ও হাসপাতাল নির্মাণে সম্মতি দেন।

কলেজের শিক্ষা কার্যক্রম চালুসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ২০২০ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি স্বাস্থ্যমন্ত্রণালয় থেকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে একটি চিঠি পাঠানো হয়। ওই চিঠিতে স্থায়ী ক্যাম্পাস সংস্থাপনের নিমিত্তে স্থান নির্বাচন, কলেজের অধ্যক্ষ ও জনবল নিয়োগ ও আর্থিক সংশ্লিষ্ট বিষয়াদি এবং বাজেট বরাদ্দের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধও করা হয়। একই সালের ১২ মার্চ ডা. অসীম কুমার সাহাকে কলেজের অধ্যক্ষ নিয়োগ করা হয়। ২০২০ সালের ২৮ অক্টোবর নগরীর লবণচরা থানার পাশে জমি চিহ্নিত করে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরে একটি পত্র দেন খুলনা জেলা প্রশাসক।

২০২১ সালের ৪ জানুয়ারি খুলনা ডেন্টাল কলেজ ও হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার সরকারী মঞ্জুরি প্রদান করা হয়। একই বছরের ১ এপ্রিল খুলনা ডেন্টাল কলেজ ও হাসপাতাল প্রকল্প বাংলাদেশ গেজেটে প্রকাশিত হয়। ২০২১ সালের ২৯ নভেম্বর স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের সাবেক পরিচালক (ডেন্টাল শিক্ষা) ডা. মোশাররফ হোসেন খন্দকারকে নির্মাণ প্রকল্পের সম্ভাব্যতা জরিপে পরিচালক নিয়োগ দেয়া হয়। একাডেমিক কার্যক্রম শুরুর জন্য ২০২২ সালের ৩১ ডিসেম্বর ডা. অনুপম পোদ্দারকে খুলনা ডেন্টাল কলেজের অধ্যক্ষ নিয়োগ করা হয়। খুলনা মেডিকেল কলেজের ৩য় তলায় একটি কক্ষ নিয়ে ডেন্টাল কলেজের প্রাথমিক যাত্রা শুরু হয়। অধ্যক্ষ ডা. অনুপম পোদ্দার মেডিকেল কলেজের ওই কক্ষেই প্রকল্পের সকল কার্যক্রম পরিচালনা করতেন। জরিপ শেষে ২০২৩ সালে প্রকল্প প্রস্তাবনা মন্ত্রণালয়ে জমা দেয়া হয়। একই সালের ২০ ফেব্রুয়ারি খুলনা ডেন্টাল কলেজ ও হাসপাতাল শীর্ষক প্রকল্পের যাচাই বাছাই কমিটির সভা আহ্বান করা হয়। ২০২৪ সালের জুলাইয়ের পর দুই দফা পিইসি সভার আহ্বান করা হলেও সেটি আর হয়নি। ২০২৫ সালের ১৩ আগস্ট পিইসির সভার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। হঠাৎ করে ১২ আগস্ট প্রকল্পের সর্বশেষ সভাটি স্থগিত করা হয়। বর্তমানে এ প্রকল্পটি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে আটকে রয়েছে। এরই মধ্যে চলতি বছরের ১৮ জুন ডেন্টাল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. অনুপম পোদ্দারকে বদলি করা হয়েছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে তাকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে বদলি করে সংযুক্তিতে খুলনা মেডিকেল কলেজে দেয়া হয়েছে। বর্তমানে খুলনা ডেন্টাল কলেজের পদটি শূন্য থাকায় প্রকল্পটির তদারকির কোনো কর্মকর্তা থাকছে না। যে কারণে ডেন্টাল কলেজ ও হাসপাতালের কার্যক্রম বর্তমানে বন্ধ হওয়ার উপক্রম। অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে ডেন্টাল হাসপাতালটি। ফলে চরম হতাশার মধ্যে রয়েছে খুলনাবাসী।

২০ একর জমি ওপর খুলনা ডেন্টাল কলেজ ও হাসপাতালের এই প্রকল্প প্রস্তাবের মধ্যে রয়েছে, ৫০০ শয্যার আধুনিক হাসপাতাল, ১৩ তলা একাডেমিক ও একাধিক আবাসিক ভবন, ছাত্র ও ছাত্রী হল, পুরুষ ও নারী ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ডরমিটরি, মর্গ ও মরচুয়ারি এবং ডিএনএ পরীক্ষার আধুনিক ল্যাবসহ ২৮টি বিভাগ ।

এ ছাড়া খুলনা ডেন্টাল কলেজ ও হাসপাতালের প্রকল্পটি চালু হলে প্রতিবছর ১২০ জন চিকিৎসক উচ্চ শিক্ষা অর্জন করতে পারত।

এ ব্যাপারে খুলনা বয়রা এলাকার বাসিন্দা নজরুল ইসলাম জানান, খুলনায় মেডিকেল কলেজ, হাসপাতাল, বিভাগীয় বিশেষায়িত হাসপাতাল রয়েছে। সেখানে খুলনার মানুষ সব ধরনের চিকিৎসা সেবা পাচ্ছেন। শুধু দন্ত চিকিৎসার জন্য হিমশিম খেতে হচ্ছে। অনেক টাকা ব্যয় করেও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রাইভেট ডাক্তারের কাছে গিয়ে ভালো চিকিৎসা পাচ্ছেন না। তিনি আরো জানান, খুলনাসহ পদ্মার এপারের মানুষের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। সঠিক চিকিৎসার জন্য দেশের একটি মাত্র সরকারি দন্ত হাসপাতাল ঢাকায় ছুটতে হচ্ছে।

খুলনা মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীরা জানান, প্রথম শ্রেণির ডেন্টাল কলেজগুলো ঢাকার দিকে। এই অঞ্চলের কোনো ডেন্টাল কলেজ নেই। মধ্যবৃত্তি পরিবারের সন্তানদের জন্য অবশ্যই খুলনায় একটি ডেন্টাল কলেজ প্রয়োজন। এই কলেজ প্রতিষ্ঠিত হলে ছাত্ররা অনেক কম খরচে পড়াশোনা করতে পারবে। এ ছাড়া উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করে একজন ভালো চিকিৎসক হয়ে মানুষের সেবা করতে পারবে।

খুলনা ডেন্টাল কলেজ ও হাসপাতালের সাবেক অধ্যক্ষ ডা. অনুপম পোদ্দার বলেন, হাসপাতালের প্রকল্পটি একনেকের মিটিংয়ে উত্থাপনের পর্যায়ে চলে গেছে। বর্তমানে প্রকল্পটির ফাইল স্বাস্থ্যমন্ত্রণালয়ে রয়েছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধসহ রাজনৈতিক নেতা ও চিকিৎসক নেতৃবৃন্দ চেষ্টা করলেই এই ফাইল একনেকে পাস করানো সম্ভব হবে।

এ বিষয় খুলনা নাগরিক সমাজের সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট বাবুল হাওলাদার বলেন, অনুমোদনের পরও বছরের পর বছর প্রকল্পটি ঝুলে থাকায় এ অঞ্চলের মানুষের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও হতাশা বাড়ছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের মাধ্যমে শিক্ষা ও চিকিৎসা খাতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন হবে। ডেন্টাল কলেজ ও হাসপাতাল দ্রুত চালুর দাবিও জানান তিনি।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

‘দেশের ১১ শতাংশ মানুষ আর্সেনিক ঝুঁকিতে’

‘দেশের ১১ শতাংশ মানুষ আর্সেনিক ঝুঁকিতে’

ফেনী জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি আর নেই

ফেনী জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি আর নেই

‘হাসিনার বক্তব্য প্রচার না করতে গণমাধ্যমকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানাবে সরকার’

‘হাসিনার বক্তব্য প্রচার না করতে গণমাধ্যমকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানাবে সরকার’

৪ দিনেই ১০০ কোটির ক্লাবে ‘ওয়েলকাম টু দ্য জঙ্গল’

৪ দিনেই ১০০ কোটির ক্লাবে ‘ওয়েলকাম টু দ্য জঙ্গল’

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App