×

শেষের পাতা

শিক্ষার্থীদের প্রধানমন্ত্রী

তোমরা কনফিডেন্ট থাকলে আমার জোর বেড়ে যাবে

Icon

কাগজ প্রতিবেদক

প্রকাশ: ৩০ জুন ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

তোমরা কনফিডেন্ট থাকলে আমার জোর বেড়ে যাবে

প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে প্রতিবছর একটি করে গাছের চারা রোপণের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, তোমরা কনফিডেন্ট থাকলে আমি কনফিডেন্ট হয়ে যাব, আমার জোর বেড়ে যাবে তখন। তার বিনিময়ে তোমাদের কাছে আমি একটা জিনিস চাইছি। সবাইকে প্রত্যেক বছর একটা করে গাছ লাগাতে হবে, একটা করে গাছ রোপণ করতে হবে। শিক্ষার্থীরা যাতে আত্মবিশ্বাসী হয়ে গড়ে উঠতে পারে, সেজন্য সরকার সুযোগ করে দেবে বলেও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

গতকাল সোমবার বিকালে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে সরকারপ্রধান বক্তব্য রাখছিলেন। সারাদেশের মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি এবং ‘স্টার্টআপ, সায়েন্স প্রজেক্ট অ্যান্ড ইনোভেশন আইডিয়া শোকেসিং’ জাতীয় প্রদর্শনী উপলক্ষে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের সব আয়োজন তোমাদের ঘিরে। কারণ, আমরা এখন আছি, পরে থাকব না। কিন্তু তোমরা থাকবে। ভবিষ্যতে বাংলাদেশের নেতৃত্ব তোমরা দেবে। আমাদের প্রত্যেকটি কাজের আউটপুট থাকতে হবে, যা বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ গড়ে তুলবে। একই সঙ্গে এটি ভবিষ্যতে বাংলাদেশকে অন্য সব দেশের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় এগিয়ে নিয়ে যাবে।

তিনি বলেন, অনুষ্ঠানস্থলে আসার আগে আমি বাইরে একটা বৃক্ষরোপণ করেছি। আমার সঙ্গে সারা বাংলাদেশে অনলাইনে ২৯ হাজার ৬০০ বিভিন্ন জায়গায় কানেকটেড’ ছিল। প্রত্যেকটি জায়গায় আজকে প্রত্যেকে তিনটা করে গাছ লাগিয়েছে মোট ৯০ হাজার মতো গাছের চারা একদিনে লাগানো হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, তুমি যেখানে থাকো, তুমি যেখানে মাঠে খেল, তুমি যে বাসায় থাকো অথবা যেখানে থাকো, যেই স্কুলে পড়, যেই কলেজে পড়, ওখানে কোনো এক জায়গায় প্রত্যেকে একটা করে, প্রতিবছর একটা করে গাছের চারা রোপণ করবে। এই সময়ে শিক্ষার্থীদের কাছে এই কাজটি করতে পারবে কিনা জানতে চাইলে গ্যালারিতে বসা শিক্ষার্থী ‘হ্যাঁ’ সূচক জবাব দেয়। কেন বৃক্ষ রোপণ করতে হবে তা ব্যাখ্যা করে সরকারপ্রধান বলেন, এই দেশে তো আমাদের সবাইকে থাকতে হবে তাই না।

এই দেশে যদি আমরা সবাই থাকি তাহলে আমাদের শ্বাস বুক ভরে নিতে হবে। দেখ, তোমরা তো বিভিন্ন রকম আর্টিকেলস পড়, এই আর্টিকেলস এর মধ্যে তোমরা নিশ্চয়ই পড়েছ যে, আমাদের বর্তমানে জনসংখ্যা বেড়ে যাওয়াতে, গাড়ি-ঘোড়া সবকিছু বেড়ে যাওয়াতে গাছপালা অনেক কেটে ফেলতে হয়েছে। ফলে আমাদের বাতাস কিন্তু অনেক পলিউটেড হয়ে গিয়েছে। আমরা যদি এখন এই মুহূর্তে এটার ব্যাপারে ব্যবস্থা না নিই তাহলে আমরা একসময় পরিষ্কার বাতাস, বিশুদ্ধ বাতাস শ্বাস হিসেবে নিতে পারব না। সেইজন্য আজকের এই অনুষ্ঠানকে যদি সত্যিকারভাবে ফলপ্রসু করতে চাই তাহলে আজকে এই অনুরোধটা আমি তোমাদের কাছে করছি এবং তুমি তোমার নিজের জন্য একটা করে গাছ রোপণ করবে।

তিনি বলেন, ‘তুমিও বড় হবে, গাছটাও বড় হবে। দেখবে গাছটা তোমার সবচেয়ে বেস্ট ফ্রেন্ড হয়ে দেখা দিবে একসময়। ওই গাছের সঙ্গে তুমি কথা বলতে পারবে। তোমরা কথা বলো গাছের সঙ্গে?

রাজধানীর আগারগাঁওয়ের বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের যৌথ আয়োজনে এ অনুষ্ঠান হয়। অনুষ্ঠান স্থলে প্রবেশের পর বিএনসিসির চৌকশ দল প্রধানমন্ত্রীকে গার্ড অব অনার দেয়। পরে তিনি গার্ড পরিদর্শন করেন এবং তাদের উদ্দেশে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন।

এরপর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সারাদেশে মাধ্যমিক স্কুল পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি এবং জাতীয় স্টার্টআপ, বিজ্ঞান প্রকল্প ও উদ্ভাবনী আইডিয়া প্রদর্শনীরও উদ্বোধন করেন।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী দেশের তরুণ প্রজন্মকে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, গবেষণা ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে একটি জ্ঞানভিত্তিক টেকসই বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানান। পরে অনুষ্ঠানের মূল মঞ্চে যান প্রধানমন্ত্রী।

সেখানে তারেক রহমান ও তার সহধর্মিণী জুবাইদা রহমান বিভিন্ন প্রকল্পের জন্য ঢাকার সেন্ট জোসেফ উচ্চ বিদ্যালয়, মেহেরপুরের সন্ধানী স্কুল ও কলেজ, দিনাজপুর সরকারি কলেজ, দিনাজপুর ক্যান্টনমন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ঢাকার আদমজী ক্যান্টমেন্ট কলেজ, নীলফামারীর শরীফাবাদ স্কুল অ্যান্ড কলেজ, চট্টগ্রামের ফুলকি সহজপাঠ বিদ্যালয়, কুষ্টিয়া জেলা স্কুল, নড়াইল সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও পটুয়াখালীর গলাচিপার আলিম মাদরাসার বিজয়ী শিক্ষার্থীদের হাতে ‘উদ্ভাবনী মেধাবী পুরস্কার’ তুলে দেন।

এই প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হয়েছে সেন্ট জোসেফ উচ্চ বিদ্যালয়। আয়োজকদের তরফে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও জুবাইদা রহমানকেও স্মারক ক্রেস্ট উপহার দেয়া হয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “সবার আগে বাংলাদেশ। কারণ তোমাদের মতো ভবিষ্যৎ যেই দেশে থাকে সেই দেশকে এত টেনশন করতে না, সেই দেশকে এত চিন্তা করতে না। শুধু দরকার শৃঙ্খলা। আমি বলতে চাই, তোমাদের সকলকে কিন্তু ডিসিপ্লিন হতে হবে। নিশ্চয়ই সোশ্যাল মিডিয়া বা পত্রপত্রিকা, টিভিতে দেখেছ, আমি নিজে অনেকবার বলেছি- এখানে বিএনসিসি তোমরা যারা আছ তোমাদের সবার কাছে আরেকটি হেল্প চাই আমি। সেই হেল্পটা হচ্ছে, আমরা যেই জায়গায় থাকি, আমরা যেই পরিবেশে থাকি, তা পরিষ্কার রাখতে হবে। তারেক রহমান বিভিন্ন দেশে রাস্তাঘাট, বাগান যে খুব পরিষ্কার থাকে, সে উদাহরণ টানেন।

অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা মাহ্?দী আমিন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

‘দেশের ১১ শতাংশ মানুষ আর্সেনিক ঝুঁকিতে’

‘দেশের ১১ শতাংশ মানুষ আর্সেনিক ঝুঁকিতে’

ফেনী জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি আর নেই

ফেনী জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি আর নেই

‘হাসিনার বক্তব্য প্রচার না করতে গণমাধ্যমকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানাবে সরকার’

‘হাসিনার বক্তব্য প্রচার না করতে গণমাধ্যমকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানাবে সরকার’

৪ দিনেই ১০০ কোটির ক্লাবে ‘ওয়েলকাম টু দ্য জঙ্গল’

৪ দিনেই ১০০ কোটির ক্লাবে ‘ওয়েলকাম টু দ্য জঙ্গল’

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App