কালো টাকা ‘সাদা’ করার বিধান প্রত্যাহারের প্রস্তাব
কাগজ প্রতিবেদক
প্রকাশ: ৩০ জুন ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
স্বপ্রণোদিত বিনিয়োগ প্রদর্শনসংক্রান্ত বিধান নিয়ে সমালোচনা ওঠায় প্রস্তাবিত বাজেটে কালো টাকা সাদা করার বিতর্কিত বিধান প্রত্যাহার করতে অর্থমন্ত্রীর প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান। একইসঙ্গে ব্যক্তি করদাতার করমুক্ত আয়সীমা বাড়ানো, ব্যাংক হিসাব খোলা ও সম্পত্তি নিবন্ধনে টিআইএন বাধ্যবাধকতা তুলে নেয়া, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের করহার কমানো, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর করমুক্ত সুবিধা সম্প্রসারণ এবং চিংড়ি, উৎপাদনশীল শিল্প ও স্থানীয় শিল্পের কাঁচামাল আমদানিতে শুল্ক-কর কমানোসহ একগুচ্ছ প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি।
গতকাল সোমবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট অধিবেশনের সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী তার সংশোধনীর প্রস্তাব অর্থমন্ত্রী ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সামনে তুলে ধরেন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে সকালে সংসদ অধিবেশন শুরু হয়। প্রথমে বাজেট আলোচনায় অংশ নেন বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। এর পর সংসদ নেতা তারেক রহমান বক্তব্য দেন। দেশ পুনর্গঠনে ঘুরে দাঁড়ানোর বিকল্প নেই মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শুধু সরকারের বাজেট হিসেবে নয়, আসুন এ বাজেটকে সবাই পুনর্গঠনের বাজেট হিসেবে দেখার চেষ্টা করি। দেশের অর্থনৈতিক খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং বিদেশে পাচারকৃত অর্থ দ্রুত দেশে ফেরত আনার বিষয়ে দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন তারেক রহমান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, নরমালি দাবিটা বিরোধী দল থেকে হয়ে থাকে। আমি আপাতত ফিজিক্যালি না হলেও মানসিকভাবে তাদের পাশে গিয়ে কথা বলতে চাই।
স্বপ্রণোদিত বিনিয়োগ প্রদর্শনসংক্রান্ত বিধান নিয়ে জনমনে প্রশ্ন ও উদ্বেগ তৈরি হওয়ার কথা তুলে ধরে সংসদ নেতা বলেন, বাজেট প্রণয়নের সময় জমি ক্রয়ের প্রকৃত মূল্য দেখাতে গিয়ে করদাতাদের হয়রানি কমানোর উদ্দেশ্যে একটি বিধান রাখা হয়েছিল। কারণ, দেশে অনেক ক্ষেত্রেই প্রকৃত মূল্যের পরিবর্তে মৌজা মূল্যে জমি নিবন্ধনের প্রচলন রয়েছে। ফলে প্রকৃত ক্রয়মূল্য দেখাতে গিয়ে অনেক করদাতা সমস্যার মুখে পড়েন। সেই জটিলতা দূর করতেই বিধানটি প্রস্তাব করা হয়েছিল।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সংবাদমাধ্যম, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, সংসদ সদস্য এবং বিভিন্ন মহল থেকে পাওয়া প্রতিক্রিয়ায় দেখা গেছে, অনেকেই এটিকে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ হিসেবে দেখছেন।
জনগণের মতামতের প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধা রেখে তিনি প্রস্তাবিত ওই বিধানটি প্রত্যাহারের জন্য অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানান।
করদাতাদের স্বস্তি দিতে ব্যক্তিগত আয়কর অব্যাহতির সীমা বাড়ানোর প্রস্তাব দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে ২০২৬-২৭ ও ২০২৭-২৮ করবর্ষে করমুক্ত আয়ের সীমা ৩ লাখ ৭৫ হাজার, ২০২৮-২৯ ও ২০২৯-৩০ করবর্ষে ৪ লাখ এবং ২০৩০-৩১ করবর্ষে সাড়ে ৪ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এই সীমা যথাক্রমে ৪ লাখ, সাড়ে ৪ লাখ এবং ৫ লাখ টাকা করার প্রস্তাব রাখেন সংসদ নেতা।
ব্যাংক হিসাব খোলা, বণ্টননামা দলিল নিবন্ধন ও সম্পত্তি নামজারির ক্ষেত্রে কর শনাক্তকরণ নম্বর (টিআইএন) সনদ বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব নিয়ে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হচ্ছে বলে মনে করেন প্রধানমন্ত্রী। সে কারণে তিনি ওই প্রস্তাব প্রত্যাহারের সুপারিশ করেন।
বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর বিদ্যমান ১০ শতাংশ কর কমিয়ে ৫ শতাংশ করার প্রস্তাব দেন তিনি। তবে শর্ত দিতে হবে যে, কর-সুবিধার বিনিময়ে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়াতে হবে, ভাষা শিক্ষা ও ল্যাঙ্গুয়েজ ল্যাব করতে হবে এবং দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য বিনা বেতনে পড়াশোনার সুযোগ বাড়াতে হবে।
এ সময়ে সংসদে সরকার ও বিরোধী দলের সদস্যরা টেবিল চাপড়ে প্রধানমন্ত্রীর প্রস্তাবকে অভিনন্দন জানান।
পার্বত্য ও সমতলের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর জন্য কর-সুবিধা আরো সম্প্রসারণের প্রস্তাব দেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, দেশের তিনটি পার্বত্য জেলায় বিশেষ করে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী ব্যক্তিদের যে বেতন এবং তাদের আর্থিক পরিসম্পদ খাতে যে অর্জিত আয়, এটা ছাড়া পার্বত্য জেলার পরিচালিত যে সব অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে আয় করমুক্ত রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে উপস্থাপিত বাজেট। আমি মাননীয় অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে অনুরোধ রাখতে চাই যে, পার্বত্য জেলার যে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী আছে, তাদের করমুক্ত আয়ের এই সুবিধাটা আরেকটু বাড়িয়ে তাদের ব্যবসা, কৃষি খাতসহ অন্যান্য আয়ের পাশাপাশি বেতনের আয়কেও করমুক্ত করা। এটা পাহাড়ি এবং সমতল উভয় ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর যারা আছেন, উভয় ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে।
চিংড়ি শিল্পের প্রসার ও রপ্তানি বাড়াতে প্রধানমন্ত্রী ফিড অ্যাডিটিভ, প্রোবায়োটিকস, ভিটামিন, মিনারেলস এবং প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি আমদানির ওপর আরোপিত শুল্ক ও ভ্যাট প্রত্যাহারের প্রস্তাব করেন।
এ ছাড়া স্থানীয় শিল্পের বিকাশে বিভিন্ন কাঁচামাল আমদানিতে শুল্ক কমানোর সুপারিশ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ওষুধ ও শিল্পকারখানায় ব্যবহৃত মধু আমদানির ওপর ১০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক প্রত্যাহার করা উচিত।
পাশাপাশি পিইটি রেজিন, পিভিসি, কোল্ড-রোলড শিট, রোল প্রোডাক্টের অক্সাইডসহ বিভিন্ন শিল্পের কাঁচামালের ওপর প্রস্তাবিত শুল্ক কমাতে বা প্রত্যাহার করতে অর্থমন্ত্রীকে অনুরোধ জানান তিনি।
বৈদ্যুতিক তারের জন্য কপার আমদানিতে ১০ শতাংশ রেগুলেটরি শুল্ক সম্পূর্ণ প্রত্যাহার এবং শিল্পের কাঁচামাল হিসেবে অপ্রক্রিয়াজাত কাজু বাদাম আমদানিতে প্রস্তাবিত ১৫ শতাংশ কাস্টম শুল্ক কমিয়ে ৫ শতাংশ করার সুপারিশ করেন তারেক রহমান।
তিনি স্থানীয়ভাবে এলইডি ল্যাম্প উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান এবং প্রি ফেব্রিকেটের বিল্ডিং উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের কাঁচামাল আমদানিতে রেয়াতি সুবিধা ৩০ জুন ২০৩০ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের অনেক ব্যবসায়ী বর্তমানে বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া, ওটিটি প্ল্যাটফর্ম, সার্চ ইঞ্জিন, অনলাইন মার্কেটপ্লেস এবং অন্যান্য অনলাইন মিডিয়ার বিজ্ঞাপন প্রচার করেন। কিন্তু এসব ক্ষেত্রে ১৫ শতাংশ ভ্যাট থাকায় অনেক সময় ব্যবসায়ীরা আনুষ্ঠানিক চ্যানেলে বিজ্ঞাপনের অর্থ পরিশোধ না করে অন্যভাবে অনানুষ্ঠানিক উপায়ে অর্থ পরিশোধ করেন। ফলে ওই ব্যক্তির যেমন লাভ হচ্ছে না। একই দিকে সরকারও রাজস্ব হারাচ্ছে। আমি মাননীয় অর্থমন্ত্রীর কাছে অনুরোধ জানাতে চাই যে, এটার ওপরে যে ১৫ শতাংশ ভ্যাট আছে, সেটি কমিয়ে ৫ শতাংশ করা হোক। এতে আমরা বিশ্বাস করি যে, যারা অন্যভাবে পেমেন্টটা করছেন তারা উৎসাহিত হবেন প্রপার ওয়েতে পেমেন্টটা করার জন্য।
স্বর্ণ বা স্বর্ণালংকার বা প্লাটিনামের ক্ষেত্রে প্রতি ভরির উপরে আড়াই হাজার টাকা, ডায়মন্ডের ক্ষেত্রে প্রতি গ্রাম আড়াই হাজার টাকা এবং রূপার গহনার ক্ষেত্রে প্রতি ভরি একশ টাকা কর ভ্যাটের যে হার রয়েছে, তা পুনর্নির্ধারণের জন্য অর্থমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন প্রধানমন্ত্রী।
এছাড়া বিটিআরসির সঙ্গে টেলিকম কোম্পানিগুলোর রেভিনিউ শেয়ারিংয়ের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য ১৫ শতাংশ ভ্যাট সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাহার, সব প্রকার মাঠ সরবরাহের ক্ষেত্রে যোগানদার পর্যায়ে ১০ শতাংশ ভ্যাট থেকে সম্পূর্ণ অব্যাহতি দেয়ার সুপারিশ করেন তারেক রহমান।
স্থানীয়ভাবে ডাবল কেবিন পিকআপ এবং মাইক্রোবাস উৎপাদনের ক্ষেত্রে ১৫ শতাংশ যে ভ্যাট আছে, তা কমিয়ে ৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এবারের প্রস্তাবিত বাজেটে ফ্রিল্যান্সার এবং স্টার্টআপ উদ্যোক্তাদের জন্য বর্তমান সরকার একটি বিশাল ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। দেশের ইতিহাসে এবারই প্রথমবারের মতো সরকার বাজেটে স্টার্টআপ ফান্ডিং এর জন্য ৫শ কোটি টাকার একটি বাজেট রেখেছে।
পরে বিরোধী দলীয় নেতা শফিকুর রহমান সংসদ নেতার প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, সাইকেলের ওপর সব শুল্ক প্রত্যাহার করে নেয়ার জন্য-উনি (প্রধানমন্ত্রী) যদি একটু মেহেরবানি করে মাননীয় অর্থমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন, তাহলে বিরোধী দলের পক্ষে উনি যে ভূমিকা পালন করেছেন, তা ষোলোআনা পূরণ হয়ে যাবে।
পরে সংসদ নেতা বলেন, এইমাত্র বিরোধী দলের নেতা উনাদের অবস্থান থেকে একটি প্রস্তাব দিয়েছেন। আমি অর্থমন্ত্রীকে অনুরোধ করব এই প্রস্তাবটি সব কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে যতটুকু বিবেচনা করা যায়, উনি বিবেচনা করবেন।
যেকোনো মূল্যে তিস্তা ব্যারাজ মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবে সরকার : দেশের উত্তরাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি ও পানিসংকট নিরসনে জাতীয় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে যেকোনো মূল্যে তিস্তা ব্যারাজ মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
প্রধানমন্ত্রী দেশের অর্থনীতি, কৃষি, ক্রিয়েটিভ ইকোনমি, শিক্ষা এবং জ্বালানি খাতের দীর্ঘমেয়াদি সংস্কার ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার চিত্র তুলে ধরেন। তিনি বলেন, রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের সংসদ সদস্যসহ উত্তরাঞ্চলের সাধারণ মানুষের পানি ও তিস্তা নিয়ে যে গভীর উদ্বেগ রয়েছে, বর্তমান সরকার তা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে এবং এর স্থায়ী সমাধানে বদ্ধপরিকর।
উত্তরাঞ্চলের পানির অধিকার নিশ্চিত করার ঘোষণা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের উত্তরাঞ্চল, বিশেষ করে রাজশাহী ও রংপুর বিভাগ থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের দুটি বড় উদ্বেগ হচ্ছে পদ্মা ও তিস্তা নদী। বিএনপি সরকার বরাবরই কৃষি ও কৃষিবান্ধব সরকার এবং যখনই দেশ পরিচালনার সুযোগ পেয়েছে, মানুষের পানির অধিকার নিশ্চিত করার চেষ্টা করেছে।
তিনি জানান, বর্ষা মৌসুমের অতিরিক্ত পানি সংরক্ষণ করে শুষ্ক মৌসুমে সারাবছর কৃষকদের নিরবচ্ছিন্ন সেচ সুবিধা নিশ্চিত করতে সরকার পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে। এরপর তিস্তা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘জাতীয় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ইনশাআল্লাহ এই সরকার যেকোনো মূল্যে তিস্তা ব্যারাজ মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবে।
ক্রিয়েটিভ ইকোনমি ও খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে স্বীকৃতি : চলচ্চিত্র, থিয়েটার, সংগীত, ওটিটি, ডিজিটাল কনটেন্ট, গেমিং, ফ্যাশন ও সফটওয়্যারের মতো উদীয়মান খাতগুলোকে ক্রিয়েটিভ ইকোনমি হিসেবে অর্থনীতির মূলধারায় নিয়ে আসার ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, এ খাতের মাধ্যমে দেশে বিপুল কর্মসংস্থানের পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনেরও সুযোগ সৃষ্টি হবে।
তিনি আরো জানান, দেশে-বিদেশে সাফল্য অর্জনকারী খেলোয়াড়দের জন্য প্রথমবারের মতো একটি জাতীয় সম্মানি কাঠামো চালু করা হবে। পাশাপাশি খেলাধুলাকে তরুণদের জন্য সম্মানজনক পেশা হিসেবে গড়ে তুলতে আগামী এক বছরের মধ্যে জাতীয় শিক্ষা কারিকুলামে ‘স্পোর্টস’কে একটি স্বাধীন বিষয় হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার কাজ চলছে। শিশু-কিশোরদের প্রতিভা বিকাশে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের চালু করা নতুন কুঁড়ির আদলে খেলাধুলার জন্য একটি নতুন স্পোর্টস সংস্করণ চালুর কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময় মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের শ্রমবাজার উন্মোচনের কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার বৈশ্বিক শ্রমবাজারে আরো বেশি দক্ষ জনশক্তি পাঠাতে নতুন নতুন দেশের সঙ্গে যোগাযোগ করছে।
তিনি বলেন, প্রবাসীরা দেশে ফেরার পর কিংবা বিদেশে অবস্থানকালে যেসব দৈনন্দিন সমস্যার মুখোমুখি হন, সেগুলো থেকে তাৎক্ষণিক সহায়তা দিতে সরকার একটি প্রবাসী কার্ড চালুর ওপর কাজ করছে।
জ্বালানি খাতে শৃঙ্খলা, শিক্ষাব্যবস্থা পুনর্গঠনের অঙ্গীকার
বিগত দেড় দশকের শাসনামলে জ্বালানি ও শিক্ষা খাত যেভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তার সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশীয় অনুসন্ধান অবহেলা করে বিদেশি কোম্পানিগুলোকে সুবিধা দেয়ায় জ্বালানি খাতে সীমাহীন দুর্নীতি হয়েছে। আমদানিনির্ভর জ্বালানির ঝুঁকি কমাতে বর্তমান সরকার দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির সম্প্রসারণের মাধ্যমে খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনছে। দেশের শিক্ষাব্যবস্থা পুনর্গঠনের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তারেক রহমান বলেন, একটি দেশের সবচেয়ে বড় সম্পদ শিক্ষিত, দক্ষ ও নৈতিক মূল্যবোধসম্পন্ন মানুষ। অতীতের ধ্বংসস্তূপ ও গøানি মুছে যুবসমাজের স্বপ্নের একটি নতুন, স্বনির্ভর ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
