মায়ের কবরের পাশেই শায়িত শাহেদ কামাল
কাগজ প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৬ জুলাই ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
মা জননী সাহসিকা কবি সুফিয়া কামালের পাশেই চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন সাংবাদিক-শিক্ষক শাহেদ কামাল। গতকাল রবিবার বেলা ১২টায় ধানমন্ডির তাকওয়া মসজিদে জানাজা শেষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ ভবনের সামনে তার কফিন আনা হয়। সেখানে ফুল দিয়ে তাকে শ্রদ্ধা জানান সহকর্মী এবং বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থীরা। বিভাগের পাশাপাশি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন, ধরিত্রী রক্ষায় আমরা, বাংলাদেশ সংবাদসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের তরফে বিদায় জানানো হয় সাংবাদিকতার এই শিক্ষককে।
শাহেদ কামালের শেষ বিদায়ে শ্রদ্ধা অনুষ্ঠানস্থলে উপস্থিত ছিলেন- বিভাগের অধ্যাপক ড. গোলাম রহমান, অধ্যাপক আবুল মনসুর আহমেদ, অধ্যাপক কাবেরী গায়েন, অধ্যাপক মফিজুর রহমান, অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌস, সহযোগী অধ্যাপক সাইফুল হক, সহযোগী অধ্যাপক শাওন্তী হায়দার, সহযোগী অধ্যাপক শবনম আজীম, সাংবাদিক মুন্নী সাহা, অধিকারকর্মী খুশী কবির, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক শারমিন রিমি প্রমুখ।
গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌস বলেন, তিনি একজন চলন্ত এনসাইক্লোপিডিয়া ছিলেন। রাজনীতি, দর্শন, সমাজবিজ্ঞান- এমন কোনো বিষয় ছিল না, উনি জানতেন না। তার সবচেয়ে বড় গুণ হচ্ছে তিনি সবসময় সঠিক ও তথ্যনির্ভর কথা বলতেন। আর তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের আমৃত্যু খণ্ডকালীন শিক্ষক ছিলেন; যেটা একজন শিক্ষক হিসেবে বড় পাওয়া।
সাংবাদিক মুন্নী সাহা বলেন, শাহেদ কামাল ছিলেন আমার স্প্রিচুয়াল ফাদার। যারা তার সাবেক শিক্ষার্থী, আজ একজন তাদের মাথা গোজার ঠাঁই হারিয়েছে। আমার সঙ্গে স্যারের নিয়মিত যোগাযোগ হতো। স্যার রেগুলার নিউজ পড়তেন।
শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে শাহেদ কামালের কফিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে নেয়া হয়। বাদ জোহর সেখানে শাহেদ কামালের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। সেখান থেকে বেলা আড়াইটায় জাতীয় প্রেস ক্লাব প্রাঙ্গণে নিয়ে যাওয়া হয় শাহেদ কামালের মরদেহ। সেখানে শ্রদ্ধা জানানো শেষে আজিমপুর কবরস্থানে তাকে মায়ের কবরের পাশে দাফন করা হয়।
এর আগে আত্মীয়, বন্ধু-বান্ধবদের শেষ শ্রদ্ধা জানানোর লক্ষ্যে শনিবার রাতে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের সাঁঝের মায়ায় তার মরদেহ রাখা হয়।
শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে রাজধানীর শিকদার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার বয়স হয়েছিল ৮৫ বছর। তিনি জননী সাহসিকা কবি সুফিয়া কামালের বড় ছেলে। শাহেদ কামাল ১৯৫৭ সালে সাংবাদিকতা পেশায় যোগ দেন। তৎকালীন পাকিস্তান অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপিপি)-এ কাজ শুরু করেন এবং স্বাধীনতার পর বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)-এ কর্মরত ছিলেন। বাসস’র বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে তিনি বাসসের প্রধান বার্তা সম্পাদক হিসেবে অবসর নেন। ১৯৭৬ সালে খণ্ডকালীন শিক্ষক হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে যোগ দেন শাহেদ কামাল। ১৯৭৬ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা বিভাগে খণ্ডকালীন শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। নটর ডেম কলেজে পড়াশোনা শেষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন তিনি। আজীবন অবিবাহিত শাহেদ কামাল বাংলাদেশের স্কাউট আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন। তিনি ধ্রæপদী সংগীত, চারুকলা, সাহিত্য এবং রাজনৈতিক ও সামাজিক ইতিহাসে বিশেষ দক্ষতার জন্য পরিচিত ছিলেন।
সাংবাদিক শাহেদ কামালে মৃত্যুতে ঢাবি গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ, জাতীয় প্রেস ক্লাবসহ বিভিন্ন সংগঠন ও মহল শোক প্রকাশ করেছে। আলাদা শোকবার্তায় বিদেহ আত্মার মাগফিরাত কামনা এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানানো হয়।
