৪৩ খাতে মিলছে সরকারি প্রণোদনা ও নগদ সহায়তা
কাগজ প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৬ জুলাই ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
দেশের রপ্তানি বাণিজ্যকে আরো গতিশীল ও উৎসাহিত করতে বড় উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরে বিভিন্ন পণ্যের রপ্তানির বিপরীতে মোট ৪৩টি খাতে বিশেষ রপ্তানি প্রণোদনা ও নগদ সহায়তা দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
গতকাল রবিবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ফরেন এক্সচেঞ্জ পলিসি ডিপার্টমেন্ট থেকে জারি করা এক সার্কুলারে (এফইপিডি-১ সার্কুলার নম্বর ১৭) এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালক (এফইপিডি-১) মো. হারুন-অর-রশিদ স্বাক্ষরিত এই নির্দেশনাটি দেশের সকল অনুমোদিত ডিলার ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় ও প্রিন্সিপাল অফিসে পাঠানো হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে আগামী বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত সময়ে জাহাজীকৃত পণ্যের ক্ষেত্রে এই প্রণোদনা ও নগদ সহায়তার হার কার্যকর হবে। রপ্তানিকারকদের দাখিলকৃত আবেদনপত্রগুলো পরবর্তীতে বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক নির্ধারিত বহিঃনিরীক্ষা ফার্ম (অডিট ফার্ম) দ্বারা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে নিরীক্ষা করাতে হবে।
কোন খাতে কত প্রণোদনা? : ঘোষিত সার্কুলার অনুযায়ী, খাতভেদে নগদ সহায়তার হারে ভিন্নতা রয়েছে। সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ পর্যন্ত নগদ সহায়তা রাখা হয়েছে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ খাতের জন্য।
সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ প্রণোদনা : বৈচিত্র্যকৃত পাটপণ্য (আইন অনুযায়ী ন্যূনতম ৫০ ভাগ পাটের ব্যবহার থাকতে হবে), চামড়াজাত দ্রব্যাদি, কৃষিপণ্য ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্য, আলু, হালকা প্রকৌশল পণ্য, ১০০ শতাংশ হালাল ও প্রক্রিয়াকৃত মাংস এবং অ্যাকুমুলেটর ব্যাটারি রপ্তানির বিপরীতে সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ হারে নগদ সহায়তা দেয়া হবে।
তৈরি পোশাক ও বস্ত্র খাত : রপ্তানিমুখী দেশীয় বস্ত্রখাতে শুল্ক বন্ড ও ডিউটি ড্র-ব্যাকের বিকল্প হিসেবে ১ দশমিক ৫০ শতাংশ নগদ সহায়তা দেয়া হবে। তবে ইউরো অঞ্চলে বস্ত্রখাতের রপ্তানিকারকরা এর বাইরে আরো শূন্য দশমিক ৫০ শতাংশ বিশেষ সহায়তা পাবেন। তৈরি পোশাক খাতের ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের জন্য অতিরিক্ত ৩ শতাংশ সুবিধা এবং তৈরি পোশাক খাতে বিশেষ নগদ সহায়তা হিসেবে শূন্য দশমিক ৩০ শতাংশ বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এ ছাড়া আমেরিকা, কানাডা, ইইউ ও ইউকে ব্যতীত নতুন পণ্য বা নতুন বাজারে বস্ত্রখাত স¤প্রসারণে মিলবে ২ শতাংশ সহায়তা।
পাট ও চামড়া শিল্প : বৈচিত্র্যকৃত পাটপণ্যের পাশাপাশি পাটজাত
চূড়ান্ত দ্রব্য (হেসিয়ান, সেকিং ও সিবিসি) রপ্তানিতে ৫ শতাংশ এবং পাটসুতা ও টোয়াইনে ৩ শতাংশ প্রণোদনা দেয়া হবে। সাভারের চামড়া শিল্প নগরী ও নিজস্ব ইটিপি থাকা কারখানার ক্রাস্ট ও ফিনিশড লেদার রপ্তানিতে মিলবে ৬ শতাংশ সহায়তা।
আইটি ও ফ্রিল্যান্সিং খাত : তথ্যপ্রযুক্তি খাতের বিকাশে বাংলাদেশ থেকে সফটওয়্যার, আইটিইএস ও হার্ডওয়্যার রপ্তানির বিপরীতে ৬ শতাংশ প্রণোদনা দেয়া হবে। পাশাপাশি ব্যক্তি পর্যায়ের ফ্রিল্যান্সারদের জন্য ২ দশমিক ৫০ শতাংশ রপ্তানি প্রণোদনা নির্ধারণ করা হয়েছে।
অন্যান্য সম্ভাবনাময় খাত : ফার্নিচার, আগর-আতর, পাটকাঠি থেকে উৎপাদিত কার্বন ও জুট পার্টিকেল বোর্ড এবং শস্য ও শাকসবজির বীজ রপ্তানিতে ৮ শতাংশ প্রণোদনা মিলবে। টুপি রপ্তানিতে ৭ শতাংশ; এবং প্লাস্টিক দ্রব্য, কাগজ, পেট বোতল-ফ্লেক্স, পলিইয়েস্টার স্টাপল ফাইবার, জাহাজ, মোটরসাইকেল, রেজার, সিরামিক, কাঁকড়া-কুঁচে ও কনজিউমার ইলেকট্রনিক্স রপ্তানিতে ৬ শতাংশ হারে নগদ সহায়তা পাওয়া যাবে।
ওষুধ ও ভারি শিল্প : অ্যাক্টিভ ফার্মাসিউটিক্যালস ইনগ্রেডিয়েন্টস (এপিআই) এবং কেমিক্যাল পণ্য রপ্তানিতে ৫ শতাংশ এবং অন্যান্য ওষুধ বা মেডিকেল ইকুইপমেন্ট রপ্তানিতে ৬ শতাংশ প্রণোদনা থাকবে। চাল, বাইসাইকেল, সিমেন্ট সিট এবং বিশেষায়িত অঞ্চলের (বেজা, বেপজা, হাইটেক পার্ক) টাইপ-এ ও টাইপ-বি প্রতিষ্ঠানের প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্য রপ্তানিতে ৩ শতাংশ পর্যন্ত সহায়তা দেয়া হবে। এ ছাড়া দেশে উৎপাদিত এমএস স্টিল ও চা রপ্তানিতে নগদ সহায়তার হার ২ শতাংশ।
হিমায়িত মাছ ও অন্যান্য শর্ত : হিমায়িত চিংড়ি ও অন্যান্য মাছ রপ্তানির ক্ষেত্রে বরফ আচ্ছাদনের (গেøজিং) পরিমাণের ওপর ভিত্তি করে প্রণোদনার হার নির্ধারণ করা হয়েছে । চিংড়ির ক্ষেত্রে বরফের পরিমাণ ২০ শতাংশ পর্যন্ত হলে ৮ শতাংশ এবং সর্বোচ্চ ৮০ শতাংশের ওপরে হলে ৪ শতাংশ প্রণোদনা মিলবে। অন্যান্য মাছের ক্ষেত্রে এই হার সর্বনি¤œ ১ দশমিক ৫০ শতাংশ থেকে সর্বোচ্চ ৩ দশমিক ৫০ শতাংশ পর্যন্ত। সিনথেটিক ও ফেব্রিকসের জুতো ও ব্যাগের ক্ষেত্রে শুল্ক বন্ড সুবিধা না নিলে ৮ শতাংশ এবং সুবিধা নিলে ২ শতাংশ প্রণোদনা প্রযোজ্য হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, রপ্তানি প্রণোদনা প্রদানের ক্ষেত্রে আগের সকল সার্কুলারের প্রযোজ্য শর্তাবলী যথারীতি কার্যকর থাকবে। সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে দ্রুত এই নির্দেশনা বাস্তবায়নের অনুরোধ জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
