আপত্তিকর ভিডিওতে ব্ল্যাকমেইল হানিট্র্যাপ চক্রের ৫ সদস্য গ্রেপ্তার
কাগজ প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৭ জুলাই ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
রাজধানীর সবুজবাগ, খিলগাঁও ও বাড্ডা এলাকায় অভিযান চালিয়ে হানিট্র্যাপের মাধ্যমে অর্থ আদায়কারী সংঘবদ্ধ চক্রের পাঁচ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। গ্রেপ্তাররা হলেন-মো. আনোয়ার হোসেন (৪৫), বদিউজ্জামান শাহীন (৪৫), মরিয়ম (৪৯), শাহাদাত হোসেন (৫৮) ও ঊর্মী বেগম (৩৯)। ডিবি বলছে, ঋণগ্রহীতা পরিচয়ে ফাঁদে ফেলে আপত্তিকর ভিডিও ধারণ করে ব্ল্যাকমেইলের মাধ্যমে অর্থ আদায় করত সংঘবদ্ধ এই হানিট্র্যাপ চক্র।
গতকাল সোমবার রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে হানিট্র্যাপ চক্রের সদস্যদের গ্রেপ্তারের ঘটনায় সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপি ডিবির সাইবার এন্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগের (দক্ষিণ) উপকমিশনার (ডিসি) মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, গত ১৫ এপ্রিল একটি বেসরকারি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ঋণ বিতরণকারী কর্মকর্তা ঋণসংক্রান্ত কাজে রামপুরার দক্ষিণ বনশ্রীর একটি মার্কেটে যান। সেখানে এক নারী নিজেকে ঋণগ্রহীতা পরিচয় দিয়ে তার সঙ্গে পরিচিত হন ও ভিজিটিং কার্ড সংগ্রহ করেন। পরবর্তী কয়েকদিন মোবাইল ফোনে নিয়মিত যোগাযোগের মাধ্যমে তার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা গড়ে তোলা হয়। একপর্যায়ে বনশ্রী ইউনিটি হাসপাতালের সামনে দেখা করার কথা বলে তাকে ডেকে নেয়া হয়। সেখান থেকে আরেক নারী তাকে খিলগাঁওয়ের একটি ফ্ল্যাটে নিয়ে যান। ফ্ল্যাটে প্রবেশের পর আগে থেকে ওঁৎ পেতে থাকা চারজন তাকে মারধর করে ও এক নারীর সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থার ভিডিও ধারণ করে। পরে তার মোবাইল ফোন, মানিব্যাগ, নগদ টাকা, বিভিন্ন ব্যাংকের এটিএম কার্ড, জাতীয় পরিচয়পত্র, ড্রাইভিং লাইসেন্স ও মোটরসাইকেলের রেজিস্ট্রেশনসহ গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র ছিনিয়ে নেয়া হয়। ডিসি তরিকুল ইসলাম জানান, এরপর চক্রটি ভুক্তভোগীর কাছে ৩ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। একই সঙ্গে তার ব্যাংক হিসাব থেকে বিকাশ ও উপায়ের মাধ্যমে ১ লাখ ১০ হাজার টাকা আত্মসাৎ করা হয়। পরে আপত্তিকর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়ার হুমকি দিয়ে বিভিন্ন সময়ে তাকে ব্ল্যাকমেইল করা হয়। এ ঘটনায় খিলগাঁও থানায় মামলা হওয়ার পর তদন্তে নামে ডিবি। তদন্তের ধারাবাহিকতায় রাজধানীর সবুজবাগ, খিলগাঁও ও বাড্ডা এলাকায় অভিযান চালিয়ে চক্রটির পাঁচ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযানের সময় তাদের কাছ থেকে নয়টি মোবাইল ফোন, একটি ওয়াকিটকি এবং চার হাজার টাকা জব্দ করা হয়। ডিবির এই কর্মকর্তা আরো জানান, জব্দ করা মোবাইল ফোন ও অন্যান্য ডিজিটাল ডিভাইস বিশ্লেষণে একই কৌশলে আরো একাধিক ব্যক্তিকে ফাঁদে ফেলে নির্যাতন ও আপত্তিকর ছবি-ভিডিও ধারণের আলামত পাওয়া গেছে। সম্ভাব্য আরো ভুক্তভোগী ও চক্রটির অন্যান্য সদস্যকে শনাক্তে তদন্ত চলছে।ধ
