×

শেষের পাতা

পানি অপসারণ না করে ভেকু দিয়ে শুধু কাদা মাটি উত্তোলন

Icon

বাবুল আকতার, খুলনা ব্যুরো

প্রকাশ: ০৭ জুলাই ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

পানি অপসারণ না করে ভেকু দিয়ে শুধু কাদা মাটি উত্তোলন

খুলনা ডুমুরিয়া উপজেলার তেলিখালী ও বিলডাকাতিয়ার নিমতলা খাল খননে সরকারি নির্দেশ মানছে না স্থানীয় উপজেলা প্রশাসন। খালের পানি অপসারণ না করে ভাসমান ভেকু দিয়ে পেড়ি (কাদা) মাটি তুলে ফেলেছে খালের পাড়েই। এই প্রকল্পে ২ কোটি ৬৮ লাখ ৯১ হাজার ৮৪৩ টাকা বরদ্দ দেয়া হলেও জলাবদ্ধতা নিরসন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। যে করণে প্রধানমন্ত্রীর খাল খনন কর্মসূচি এ অঞ্চলে কোনো সুফলই আসছে না। ফলে আবারও পানিবন্দি হয়ে পড়বে ডুমুরিয়া উপজেলার কয়েক লাখ মানুষ। এদিকে খাল পুনর্খননে প্রকল্পের সভাপতি উপজেলা নির্বাহী অফিসারে বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। বিলডাকাতিয়ার নিমতলা খাল খননের কাজ ৫০ ভাগ শেষ হলেও কাগজ কলমে ৭১ ভাগ দেখিয়ে জেলা প্রশাসকের দপ্তরে প্রকল্পের অগ্রগতির প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে। অন্যদিকে শ্রমিকদের কাজে না নিয়ে বরাদ্দকৃত ১ কোটি ১ লাখ ২৯ হাজার ৫শ’ টাকা আত্মসাতের চেষ্টা করেছে বলে অভিযোগ উপজেলাবাসীর।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনী প্রতিশ্রæতি অনুযায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং জলাবদ্ধতা নিরসনের লক্ষ্যে দেশব্যাপী জনগুরুত্বপূর্ণ খালগুলো খনন, পুনর্খনন এবং খালপাড়ে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেয়া হয়। তারই অংশ হিসাবে অগ্রাধিকার ভিক্তিতে খুলনা ডুমুরিয়া উপজেলার ৩টি খাল অগ্রধিকার দিয়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়। ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের অর্থায়নে ইজিপিপি অর্থাৎ অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচির আওতায় ৩টি খালের মধ্যে ২টি খাল পুনর্খননের অনুমোদন দেয়া হয়। ডুমুরিয়া উপজেলার কৃষ্ণনগর নিমতলা হতে বিল ডাকাতিয়া হয়ে রংপুর সাড়াতলা দক্ষিণপার্শ্ব আশি ফুট পর্যন্ত খাল পুনর্খনন, যার দৈর্ঘ্য ৭ কিলোমিটার। খালটির পুনর্খননে ব্যয় ধরা হয়েছে ১ কোটি ৩০ লাখ ১১ হাজার ৮৪৩ টাকা। এর মধ্যে শ্রমিকদের বিভিন্ন কাজে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ৩৯ লাখ ৪৪ হাজার টাকা। এ ছাড়া আধুনিক যন্ত্রের সাহায্যে খাল পুনর্খননের জন্য বরাদ্দ ৯০ লাখ ৭১ হাজার ৮৪৩ টাকা। সাহস ডোলডাঙ্গা খাল হতে কাঠবুনিয়া বড় দোয়ানে হয়ে তেলিখালী গেট অভিমুখে ভদ্রা নদী পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ৩ কিলোমিটার খাল পুনর্খনন। এ কাজের অর্থিক বাজেট ১ কোটি ২৮ লাখ ৭৯ হাজার ৮৮৮ টাকা। যার মধ্যে শ্রমিকদের কাজের জন্য বরাদ্দ ৬৩ লাখ ৮৫ হাজার

৫০০ টাকা এবং আধুনকি যন্ত্রের সাহায্যে খাল পুনর্খননের জন্য বরাদ্দ ৬৪ লাখ ৭৯ হাজার ৮৮৮ টাকা।

সরোজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ডুমুরিয়া উপজেলার সাহস ডোলডাঙ্গা খাল হতে কাঠবুনিয়া বড় দোয়ানে হয়ে তেলিখালী গেট অভিমুখে ভদ্রা নদী পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ৩ কিলোমিটার খাল গত ২৪ এপ্রিল থেকে পুনর্খননের কাজ শুরু করেন উপজেলা প্রশাসন। ৩০ জুন প্রকল্পের সকল কাজ শেষ করা হয়। কৃষ্ণনগর নিমতলা হতে বিল ডাকাতিয়া হয়ে রংপুর সাড়াতলা দক্ষিণপার্শ্ব আশি ফুট পর্যন্ত ৭ কিলোমিটার খাল গত ১৩ মে পুনর্খননের কাজ শুরু হয়। স্থানীয় উপজেলা প্রশাসন ওই খালের ৭১ ভাগ কাজ শেষ করে ৩০ জুন। প্রকল্পের কাজের অগ্রগতির প্রতিবেদন দুই দফা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে দাখিল করেন ডুমুরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সবিতা সরকার। ২৩ জুন দাখিলকৃত প্রথম দফা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, উপজেলার কৃষ্ণনগর নিমতলা হতে বিল ডাকাতিয়া হয়ে রংপুর সাড়াতলা দক্ষিণপার্শ্ব আশি ফুট পর্যন্ত খাল পুনর্খননের কাজের কর্মসূচিভুক্ত ৭ কিলোমিটার। ১৩ জুন কাজটি শুরু হয়ে এ পর্যন্ত খনন করা হয়েছে ৫০ শতাংশ। জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ৩০ দাখিলকৃত ২য় দফায় প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, খনন কাজে ৫০ শতাংশর স্থলে ৭১ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। মাত্র ৫ দিনে কিভাবে খাল খননের কাজ ২১ শতাংশ হয়েছে, সেটা নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। সম্প্রতি খাল খনন কাজ পরদির্শনে এসে ছিলেন ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মিনাক্ষী ব্রহ্ম। তিনি প্রকল্প কাজে অসন্তোষ প্রকাশ করে নকশা অনুযায়ী ও পানি অপসারণ করে খাল খননের নির্দেশনা দেন। দুটি খালের পড়ে ১ জুলাই থেকে বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম শুরু করার কথা থাকলেও এখনো পর্যন্ত শুরু করতে পারেনি উপজেলা প্রশাসন ।

এদিকে স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, খালের কোথাও ৫ ফুট কোথাও ৭ ফুট আবার কোথাও ১০ ফুটের মতো পানি রয়েছে। সেই পানরি মধ্যে ভাসমান ভেকু দিয়ে পেড়ি মাটি তুলে ফেলা হচ্ছে খালের পাড়ে। কোনো শ্রমিকেরই দেখা মেলেনি সেখানে। প্রকল্প শুরুর আগে থেকে অনেকের কাছ থেকে কাজ দেয়ার কথা বলে জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি সংগ্রহ করা হয়েছে। কিন্তু প্রকল্প শুরুর পর তাদের কাউকেই কাজে নিয়োগ দেয়া হয়নি। ফলে যাদের নামে ব্যাংকে একাউন্ট করা হচ্ছে বা হয়েছে, বাস্তবে ওইসব ব্যক্তির স্বাক্ষরের সঙ্গে মাস্টাররোলের স্বাক্ষর বা টিপসইয়ের কোনো মিল খুঁজে পাওয়া যাবে না। প্রকল্পের অর্থ লুটপাটের উদ্দেশ্যে শ্রমিকের এসব ভুয়া একাউন্ট ও মাস্টাররোল তৈরি করা হচ্ছে।

খুলনা জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. আব্দুল করিম জানান, জলাবদ্ধতা নিরসনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশ অনুযায়ী খুলনা ডুমুরিয়া উপজেলায় ২টি খাল খনন সূচি শুরু হয়ে জুন মাসে শেষ হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দপ্তর থেকে প্রকল্পের কাজের প্রতিবেদন জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে দাখিল করা হয়েছে। তিনি বলেন একটি প্রকল্পের শতভাগ ও আর একটি প্রকল্পের ৭১ শতাংশ কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। বাকি ২৯ শতাংশ খননের কাজ আগামী অর্থবছরে সম্পন্ন করার জন্য জেলা প্রশাসনের দপ্তর থেকে মন্ত্রণালয়ে পত্র প্রেরণ করা হবে।

ডুমুরিয়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. রবিউল ইসলাম জানান, যান্ত্রিক ও শ্রমিকদের মাধ্যমেই খাল পুনর্খননের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। সাহস ডোলডাঙ্গা খাল হতে কাঠবুনিয়া বড় দোয়ানে হয়ে তেলিখালী গেট অভিমুখে ভদ্রা নদী পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ৩ কিলোমিটার খাল পুনর্খননে যন্ত্রের মাধ্যমে কাজের অর্ধেক বিল ২৫ লাখ টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। এ ছাড়া শ্রমিকদের কাজের পাওনার অর্ধেক ১৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা প্রদান করা হয়েছে। তবে কৃষ্ণনগর নিমতলা হতে বিল ডাকাতিয়া হয়ে রংপুর সাড়াতলা দক্ষিণপার্শ্ব আশি ফুট পর্যন্ত ৭ কিলোমিটার এর মধ্যে ৫ কিলোমিটার খাল পুনর্খননে শ্রমিকদের কাজের পাওনার কোনো অর্থ পরিশোধ করা হয়নি। শুধু মাত্র যন্ত্রের মাধ্যমে কাজের আংশিক ২০ লাখ টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। উপজলো প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আরো জানান, খাল খননোর দুই পাড়ে বৃক্ষ রোপণের জন্য ১০ হাজার ২শ’ ৫০টি গাছ ১৪ লাখ ৩৫ হাজার টাকায় ক্রয় করা হয়েছে। বৃষ্টির কারণে এই মুহূর্তে গাছ লাগানো সম্ভ্যব হচ্ছে না। আবহওয়া স্বাভাবিক হলে ওই গাছগুলো রোপণ করা হবে। শ্রমিকদের কাজের টাকা বা কাজ না করিয়ে কোনো অর্থ আত্মসাতের কারো কোনো সুযোগ নেই বলেও জানান উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. রবিউল ইসলাম।

এ ব্যাপারে ডুমুরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সবিতা সরকার বলেন, প্রকল্পের শর্ত মেনে খাল পুনখনন করা হয়েছে। প্রকল্প দুইটির মধ্যে একটি শতভাগ ও অন্যটি ৭১ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। বৃষ্টির পানির লেবেল বেড়ে যাওয়ায় কৃষ্ণনগর নিমতলা হতে বিল ডাকাতিয়া হয়ে রংপুর সাড়াতলা দক্ষিণপার্শ্ব আশি ফুট পর্যন্ত খাল খননের কাজ সম্পন্ন করা যায়নি। তাছাড়া জুন মাস প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ায় সমস্যা দেখা দিয়েছে । যে কারণে আগামী অর্থ বছরে খাল পুনর্খনের অসমাপ্ত কাজ শেষ করার জন্য জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে মন্ত্রণালয়ে পত্র প্রেরণ করা হবে। তিনি আরো বলেন, এই খাল দুটির কোথাও কোথাও ২/৩, আবার কোথাও কোথাও ৩/৪ ফুট গভীরতায় খনন করা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, আমি দফায় দফায় পরিদর্শনে গিয়েছি। এ কাজে অনিয়মের কোনো সুযোগ নেই।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

ব্রাজিল ভক্তের মৃত্যুর খবরে অপূর্বর আবেগঘন বার্তা

ব্রাজিল ভক্তের মৃত্যুর খবরে অপূর্বর আবেগঘন বার্তা

সরকারি হাসপাতালে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গু পরীক্ষা ফ্রি

সরকারি হাসপাতালে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গু পরীক্ষা ফ্রি

বান্দরবানে পর্যটকদের জন্য নতুন নির্দেশনা

বান্দরবানে পর্যটকদের জন্য নতুন নির্দেশনা

গ্রামপর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছে সরকার

স্বাস্থ্যমন্ত্রী গ্রামপর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছে সরকার

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App