সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজদের হাতে জিম্মি চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীরা
চট্টগ্রাম অফিস
প্রকাশ: ১৫ জুলাই ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
শুধু এই একটা প্রতিষ্ঠান না, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অনেক প্রতিষ্ঠানে ফোন করে চাঁদা চাওয়া হচ্ছে। কারো কাছে ৫০ হাজার, কারো কাছে এক লাখ, ৫০ লাখ, এক কোটি, দুই কোটি টাকা এভাবে চাঁদা চাচ্ছে। আমাদের কর্মচারীরা অফিসে আসতে ভয় পাচ্ছে। এ অবস্থায় আমাদের পক্ষে বিজনেস কন্টিনিউট করা অনেক কঠিন হয়ে যাবে।’ গতকাল মঙ্গলবার বিকালে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে আইএসপিএবি’র চট্টগ্রাম বিভাগের আহ্বায়ক রাজিব শাহরিয়ার এমনটাই আশঙ্কা করেন। চট্টগ্রামে চাঁদা না পেয়ে দিনদুপুরে প্রকাশ্যে অফিসে ঢুকে তাণ্ডবের ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছে ইন্টারনেট সেবাদানকারীদের সংগঠন ‘ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ’ (আইএসপিএবি)। সংবাদ সম্মেলনের পর চট্টগ্রামে ডিডিএন অফিসে হামলার প্রতিবাদে ইন্টারনেট খাতের ব্যবসায়ী-কর্মচারীরা প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন করেন।
ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলো সন্ত্রাসীদের টার্গেট কেন- সেটা খতিয়ে দেখার দাবিও জানালেন তিনি, ‘ইন্টারনেট সার্ভিস প্রতিষ্ঠানের ওপর কেন এ ধরনের হামলাগুলো হচ্ছে? ইন্টারনেটের ওপর কিন্তু সারাদেশ, যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ দাঁড়িয়ে আছে। হামলা করে দেশটাকে কেউ অস্থির করতে চাচ্ছে কি-না সেটা বের করা দরকার।’
রাজিব শাহরিয়ার আরো বললেন, ‘আমরা এখানে কাউকে ব্লেম দিতে আসিনি। কাউকে দায়ী করছি না। কিন্তু এসব ঘটনায় জড়িতদের যদি গ্রেপ্তার করা না হয়, বিচার করা না হয়, তাহলে এই অস্থিরতা কিন্তু ইন্টারনেট সেক্টর থেকে অন্যান্য সেক্টরেও ছড়িয়ে পড়বে।’
তাদের অভিযোগ, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ইন্টারনেট ব্যবসায়ীদের চাঁদার জন্য হয়রানি করা হচ্ছে। চাঁদাবাজদের দৌরাত্ম্যে তারা অতিষ্ঠ ও ভীতসন্ত্রস্ত। নিরাপত্তাহীন পরিস্থিতিতে ইন্টারনেট খাতের ব্যবসা অব্যাহত রাখা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরির কথা জানিয়ে সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ চেয়েছেন আইএসপিএবি’র চট্টগ্রাম বিভাগের আহ্বায়ক রাজিব শাহরিয়ার।
গত সোমবার দুপুরে নগরীর চকবাজার থানার বাকলিয়া এক্সেস রোডে মরিয়ম হাইটসের তৃতীয় তলায় ডিজিটাল ডট নেট (ডিডিএন) অফিসে নির্বিচারে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। সন্ত্রাসী ডেভিড ইমন প্রতিষ্ঠানটির মালিক আদিল বিন মামুনকে গত শনিবার একটি বিদেশি নম্বর থেকে হোয়াটসঅ্যাপে কল দিয়ে এককালীন দুই কোটি টাকা ও প্রতিমাসে ১০ লাখ টাকা করে চাঁদা দাবি করেন। অন্যথায় ব্যবসা বন্ধ করে দেয়ার হুমকি দেন।
চাঁদা দিতে রাজি না হওয়ায় দুদিনের মাথায় হামলার ঘটনা ঘটে। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে চকবাজার থানায় মামলা হয়েছে।
ইন্টারনেট খাতের ব্যবসায়ীরা আন্দোলনে যাবেন কি-না, এমন প্রশ্নে তিনি বললেন, ‘এ মুহূর্তে আমাদের কোনো আন্দোলন নেই। আমাদের কেন্দ্রীয় কমিটি আছে। তাদের পরামর্শ অনুযায়ী আমাদের চলতে হয়। কোনো কর্মসূচি নিতে হলে বিচ্ছিন্নভাবে এক জায়গায় তো নেয়া যাবে না।’
