দারিদ্র্যের গলি থেকে বার্সার রাজপ্রাসাদ: লামিন ইয়ামালের অবিশ্বাস্য গল্প!
স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ১৫ জুলাই ২০২৬, ১১:৫৯ এএম
ছবি: সংগৃহীত
দারিদ্র্য যেখানে নিত্যদিনের সঙ্গী, অভাব যেখানে প্রতিভার ডানা ছেঁটে দিতে চায়। ঠিক সেখান থেকেই উঠে আসে কিছু রূপকথা। স্পেনের এক কোণে, রোকাফোন্ডার এক অতিদরিদ্র মুসলিম পরিবারে জন্ম নেওয়া সেই ছোট্ট ছেলেটিই আজ বিশ্বফুটবলের নতুন মহাবিস্ময়। সে আর কেউ নয়, বার্সেলোনার নতুন রাজপুত্র লামিন ইয়ামাল।
আরো পড়ুন: সাবেক প্রধানমন্ত্রীর বর্ণবিদ্বেষী মন্তব্য নিয়ে যা বললেন স্পেন তারকা
মরোক্কান বাবা আর গিনির মায়ের ঘরে জন্ম নেওয়া ইয়ামালের ছোটবেলাটা রাজকীয় ছিল না। ফুটবলের বুট কেনার সামর্থ্য যেখানে বিলাসিতা, সেখানে কেবল বুকভরা স্বপ্ন আর অদম্য জেদকে সঙ্গী করে পথ চলেছেন এই কিশোর। কিন্তু আল্লাহ যার ভাগ্যে অনন্য সম্মান লিখে রেখেছেন, তাকে আটকায় কে? লা মাসিয়ার আঙিনা পেরিয়ে খুব দ্রুতই বিশ্বমঞ্চ চিনে নেয় তার পায়ের জাদু।
মাত্র ১৬-১৭ বছর বয়সেই যিনি ভেঙে চুরমার করেছেন ফুটবল ইতিহাসের একের পর এক রেকর্ড। পেলে, মেসিদের পাশে উচ্চারিত হয় তার নাম। ইউরোপের বড় বড় ডিফেন্ডাররা যখন তাকে থামাতে হিমশিম খায়, তখন ফুটবলপ্রেমীরা বিস্ময়ে চেয়ে থাকে। মাঠের সবুজ ঘাসে সে যেন এক অপার্থিব জাদুকর।
আরো পড়ুন: জন্মদিনে ইয়ামালের একটাই ইচ্ছা, ফ্রান্সকে হারানো
কিন্তু এই আকাশচুম্বী সাফল্য, কোটি টাকার ঝলকানি আর বিশ্বজোড়া খ্যাতি কোনো কিছুই লামিন ইয়ামালকে তার শিকড় থেকে দূরে সরাতে পারেনি। কোটি কোটি মানুষের ভালোবাসায় সিক্ত এই তরুণ উইঙ্গার মাঠের ভেতরেও ভুলে যাননি তার ধর্মীয় পরিচয়কে। প্রতিপক্ষকে পরাস্ত করে যখনই বল জড়ায় জালে, তখনই অহংকার ভুলে তিনি লুটিয়ে পড়েন মহান আল্লাহর দরবারে। সবুজ ঘাসে তার সেই অবনত শিজদাহ আর দুই হাত তুলে করা মোনাজাতের দৃশ্য কোটি মুসলিমের হৃদয় জুড়িয়ে দেয়।
আরো পড়ুন: ইংল্যান্ড ম্যাচে আর্জেন্টিনার নীল জার্সির রহস্য কী?
এই শিজদাহ শুধু কোনো উদযাপন নয়, এ যেন এক পরম কৃতজ্ঞতা প্রকাশ। কোটি তরুণের অনুপ্রেরণা লামিন ইয়ামাল প্রমাণ করেছেন, সাফল্যের চূড়ায় পৌঁছেও কিভাবে নিজের বিশ্বাস আর সংস্কৃতিকে বুকে ধরে রাখা যায়। দারিদ্র্যের অন্ধকার গলি থেকে উঠে এসে তিনি আজ শুধু বার্সেলোনার রাজপুত্রই নন, বরং বিশ্বজুড়ে কোটি মানুষের কাছে এক জীবন্ত অনুপ্রেরণার নাম।
