×

শেষের পাতা

এমসি কলেজে ধর্ষণ

১ জনের মৃত্যুদণ্ড, যাবজ্জীবন তিন জনের

Icon

কাগজ প্রতিবেদক ও সিলেট প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৫ জুলাই ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

১ জনের মৃত্যুদণ্ড, যাবজ্জীবন তিন জনের

সিলেটের এমসি কলেজে ছাত্রাবাসে গৃহবধূকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের আলোচিত মামলায় একজনের মৃত্যুদণ্ড এবং তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত।

সিলেটের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক স্বপন কুমার সরকার গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে আসামিদের উপস্থিতিতে এই রায় ঘোষণা করেন।

ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি-পিপি আবুল হোসেন বলেন, মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছে মামলার মূল আসামি সাইফুর রহমানকে (২৮)। আর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে- মাহবুবুর রহমান রনি (২৫), তারেকুল ইসলাম তারেক (২৮), অর্জুন লস্করকে (২৬)। পাশাপাশি যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত তিনজনকে এক লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া পর্যাপ্ত প্রমাণ না পাওয়ায় মামলা থেকে খালাস দেয়া হয়েছে রবিউল ইসলাম (২৫), মাহফুজুর রহমান মাসুম (২৫), আইনুদ্দিন ওরফে আইনুল (২৬) এবং মিজবাউল ইসলাম রাজনকে (২৭)।

মঙ্গলবার সকালে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে আট আসামিকে আদালতে আনা হয়। এ সময় তারা নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন।

মামলার নথিপত্র থেকে জানা যায়, ২০২০ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে স্বামীর সঙ্গে সিলেটের এমসি কলেজে বেড়াতে গিয়েছিলেন এক গৃহবধূ। তাকে ক্যাম্পাস থেকে তুলে ছাত্রাবাসে নিয়ে ধর্ষণ করেন কয়েকজন। পরদিন সকালে গৃহবধূর স্বামী বাদী হয়ে শাহপরাণ থানায় ছাত্রলীগ কর্মী সাইফুর রহমানকে প্রধান আসামি করে ছয়জনের নাম উল্লেখ করে এবং দুজনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে মামলা করেন। ঘটনাটি দেশব্যাপী ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করে। প্রতিবাদে সরব হয় বিভিন্ন সামাজিক, স্বেচ্ছাসেবী ও অধিকার সংগঠন।

ঘটনার পর আসামিরা পালিয়ে গেলেও তিন দিনের মধ্যে ছয় আসামি ও সন্দেহভাজন দুজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ ও র‌্যাব।

মামলার নথি থেকে আরো জানা গেছে, ধর্ষণ মামলায় গ্রেপ্তার আট আসামিকে পাঁচ দিন করে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুলিশ। পরে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন তারা। প্রধান আসামি সাইফুর রহমান, তারেকুল ইসলাম তারেক, শাহ মাহবুবুর রহমান রনি এবং অর্জুন লস্কর ধর্ষণের কথা স্বীকার করেন। এ ছাড়া রবিউল ও মাহফুজুর ধর্ষণে সহায়তার কথা স্বীকার করেন। সন্দেহভাজন দুই আসামিও জবানবন্দি দিয়েছেন। পরে আসামিদের ডিএনএ নমুনা পরীক্ষায় আটজন আসামির মধ্যে ছয়জনের ডিএনএর মিল পাওয়া যায়। ঘটনার মাত্র দুই মাস আট দিন পর ২০২০ সালের ৩ ডিসেম্বর আটজনের বিরুদ্ধে ১৭ পৃষ্ঠার অভিযোগপত্র আদালতে জমা দেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও মহানগর পুলিশের শাহপরাণ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ইন্দ্রনীল ভট্টাচার্য। পরে মামলাটি নারী ও শিশু ট্রাইব্যুনাল থেকে গত বছরের মে মাসে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর হয়ে সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হয়।

মামলায় ২৪ জন সাক্ষী সাক্ষ্য দিয়েছেন। তাদের মধ্যে গৃহবধূ, তার স্বামী, আসামিদের স্বীকারোক্তি নেয়া ম্যাজিস্ট্রেট, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা, এমসি কলেজের অধ্যাপক, ওসমানী হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের চিকিৎসক রয়েছেন। এছাড়া ঘটনার রাতে ছাত্রাবাসে সাইফুর রহমানের কক্ষ থেকে আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে আলাদা মামলা করা হয়। পরে শাহ মো. মাহবুবুর রহমান রনিকে ওই মামলায় আসামি করা হয়। আর ভুক্তভোগী নারীর স্বামীর কাছে চাঁদা দাবি ও গাড়ি ছিনতাইয়ের ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে আরেকটি মামলা করে।

২০২১ সালের ১৭ জানুয়ারি অপহরণ ও ধর্ষণ মামলায় অভিযোগ গঠন করে আসামিদের বিচার শুরুর আদেশ দেয় সিলেটের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল। পরে দুটি মামলার বিচারকাজ একই আদালতে করার নির্দেশনা চেয়ে উচ্চ আদালতে আবেদন করে বাদীপক্ষ।

রায়ে সন্তোষ রাষ্ট্রপক্ষের : আলোচিত এ মামলার রায় ঘোষণার পর সন্তোষ প্রকাশ করেছেন পিপি আবুল হোসেন। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, মামলায় মোট আসামি ছিলেন আটজন। বিচারক অনেক তথ্য উপাত্ত বিচার বিশ্লেষণ করে একজনকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন। এছাড়া তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং আরেকটা মামলায় একটা সেকশনে ১৪ বছরের সাজা দিয়েছেন। তাদের প্রত্যেককে আবার এক লক্ষ টাকা করে জরিমানাও করা হয়েছে। আমরা এই রায়ে সন্তুষ্ট।

তিনি আরো বলেন, মামলায় বিচারক তিনজনকে খালাস দিয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে কোনো সাক্ষী প্রমাণ আসে নাই। তাই তাদের খালাস দেয়া হয়েছে। তবে আমরা বিচার বিশ্লেষণ করে রায় আরো ভালো করে পড়ব। যদি আমরা মনে করি খালাস পাওয়া আসামিদের বিষয়ে উচ্চ আদালতে যাওয়ার প্রয়োজন আছে, তাহলে আমরা উচ্চ আদালতে যাওয়ার চিন্তাভাবনা করবো।

এদিকে রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে আসামি পক্ষের আইনজীবী শাহ মোশাহিদ আলী বলেন, এই মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে কেউ সাক্ষ্য দেয়নি। ভিকটিমও আসামিদের শনাক্ত করেননি। অপরাধ প্রমাণ না হওয়া সত্ত্বেও কয়েকজনকে শাস্তি দেয়া হয়েছে। আমরা এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে যাব।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

রোগীদের ভোগান্তি কমাতে দ্রুত  সেবা নিশ্চিতে সমঝোতা স্মারক

রোগীদের ভোগান্তি কমাতে দ্রুত সেবা নিশ্চিতে সমঝোতা স্মারক

ভারতসহ ৫ দেশের বিরুদ্ধে নতুন মার্কিন শুল্ক

ভারতসহ ৫ দেশের বিরুদ্ধে নতুন মার্কিন শুল্ক

ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের স্বাভাবিক জীবন ফিরিয়ে আনতে কাজ করছে সরকার

ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের স্বাভাবিক জীবন ফিরিয়ে আনতে কাজ করছে সরকার

ক্যারিয়ারে সফল হতে নিয়মিত ছুটি নিতে শিখুন

ক্যারিয়ারে সফল হতে নিয়মিত ছুটি নিতে শিখুন

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App