×

শেষের পাতা

নতুন উদ্যোক্তাদের হাত ধরেই সামনে এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ

Icon

কাগজ প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৫ জুলাই ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

নতুন উদ্যোক্তাদের হাত ধরেই সামনে এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ

নতুন প্রজন্মের উদ্যোক্তা ও শিক্ষার্থীদের হাত ধরেই বাংলাদেশ আরো এগিয়ে যাবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, যারা উদ্যোক্তা অথবা উদ্যোক্তা হতে চাচ্ছেন তাদের সহযোগিতার জন্যে সরকার পাশে রয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সকালে ‘তারুণ্য, স্টার্টআপ ও সম্ভাবনার বাংলাদেশ’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবন মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ‘জাতীয় স্টার্টআপ ও উদ্যোক্তা প্ল্যাটফর্ম’ এর উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কুরআন তিলাওয়াতসহ গীতা, ত্রিপিটক ও বাইবেলের বাণী পাঠ করা হয়।

‘স্টার্টআপে গড়বো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগানে তরুণদের উদ্ভাবনী চিন্তা, সৃজনশীলতা ও উদ্যোক্তা সম্ভাবনাকে জাতীয় উন্নয়নের মূলধারায় সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ঢাবির সহযোগিতায় সরকারের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকে যখন আপনাদের (নতুন উদ্যোক্তা) দেখলাম এবং গত দুটো ইভেন্টে ওই বাচ্চাগুলোকে দেখেছি, আজকে আমার কাছে মনে হয়েছে, এই যে আমরা রাতদিন পরিশ্রম করছি, চেষ্টা করছি একটু চেইঞ্জ করার জন্য, আমার মনে হলো যে, হ্যাঁ, আমরা কিছুসংখ্যক মানুষের হাতে দিয়ে যেতে পারব, যারা আমরা যেখানে ছেড়ে যাব, সেখান থেকে তারা দেশটাকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবে। তিনি বলেন, দেশটাকে আপনারাই এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবেন। আপনাদের কাছে এই প্রত্যাশাটা, এই দৃঢ় আশাটা, এই বিশ্বাসটা রাখছি। সামর্থ্যরে সবটুকু দিয়ে তরুণদের পাশে থাকার প্রতিশ্রæতি দেন সরকারপ্রধান।

অনুষ্ঠানের শুরুতে বাংলাদেশের স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে একটি অডিও-ভিজ্যুয়াল উপস্থাপনা দেখানো হয়। বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য অধ্যাপক আবদুল্লাহ আল মামুনের সঞ্চালনায় প্রথম পর্বে চারজন উদ্যোক্তা নিজেদের যাত্রার গল্প তুলে ধরেন। তারা হলেন- শেয়ারট্রিপের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) সাদিয়া হক; চর্চা’র প্রতিষ্ঠাতা রায়হানুল ইসলাম; রাফিয়া ফ্যাশন হাউজের প্রতিষ্ঠাতা লুৎফুন্নেসা মেঘনা; কৃষি প্রযুক্তিভিত্তিক প্রতিষ্ঠান আই ফার্মারর প্রধান নির্বাহী ফাহাদ ইফাজ।

অনুষ্ঠানে রাফিয়া ফ্যাশন হাউসের প্রতিষ্ঠাতা লুৎফুন্নেসা মেঘনা তার প্রতিষ্ঠানের জন্য সরকারি অনুদানের আবেদন জানালে প্রধানমন্ত্রী তাৎক্ষণিকভাবে অনুদান দেয়ার ঘোষণা দেন।

অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে ছিল প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে প্রশ্নোত্তর পর্ব। দেশের আটটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৩০ জন শিক্ষার্থী সেখানে অংশ নেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নুসরাত জাহান ও মেহরাব আনোয়ার; বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের নাজমুল ইসলাম নাফিউ ও আসিফ আজাদ; জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সৈয়দা অনন্যা ফারিয়া; জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের মাহিদ হোসেন; ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের আদনান সাবাব আজাদ; মিলিটারি ইনস্টিটউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির নাফিসা তাসকিন জাহারা; ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সামিয়া তাহসিন প্রধানমন্ত্রীকে প্রশ্ন করেন এবং সরকারপ্রধান তার জবাব দেন।

অনুষ্ঠানে কয়েকজন উদ্যোক্তার হাতে অনুদানের চেক তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী। চর্চার নাফিস রায়হান, রেনোভা বায়োটেকের সাজিদুল ইসলাম এবং রাফিয়া ফ্যাশন হাউসের লুৎফুন্নেসা মেঘনা ১০ লাখ টাকা করে পান।

এ ছাড়া ইন্টারভিউ বস এআই-এর শারমিন আখতার, বার্জ শিল্ডের নিশাদ জাহান এবং নিউজ ফিভারের এল. ধীরেন রায় ৫ লাখ টাকা করে পান। কারেক্ট নামের একটি উদ্যোগকে দেয়া হয় ১ লাখ টাকা অনুদান।

পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম প্রধানমন্ত্রীর হাতে স্মারক তুলে দেন।

অতীতে নিজের ওপর নেমে আসা নির্যাতনের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, কিন্তু এই এগিয়ে যাওয়ার জন্যে আমাকে অমানুষিক নির্যাতনের মধ্যদিয়ে যেতে হয়েছে। আমাকে অনেক ধৈর্যের পরীক্ষা দিতে হয়েছে। এরপর আল্লাহর রহমতে আজ একটা জায়গায় এসে পৌঁছেছি।

প্রধানমন্ত্রী তরুণ উদ্যোক্তাদের উদ্দেশে বলেন, তাই আপনাদের বলি আপনাদের কাজও খুব কঠিন। এখন কাজ করার সময়। যারা নতুন উদ্যোক্তা অথবা উদ্যোক্তা হতে চান তাদের জন্য কাজটি অনেক কঠিন। কিন্তু ইচ্ছাশক্তি থাকলে সম্ভব। আপনাদের অনেক কষ্টের মধ্যদিয়ে যেতে হবে। আপনাদের এ রকম অনেক কষ্টের মধ্যদিয়ে যেতে হবে। তবে আপনাদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য আমরা আছি। কতটুকু পারব জানি না। তবে সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে আমরা আপনাদের পাশে থাকার চেষ্টা করব।

তিনি বলেন, রাজনীতির কারণে মাঝে মাঝেই হতাশ হয়ে যাই। কিন্তু এ দুটি অনুষ্ঠান দেখার পর, সেই বাচ্চাগুলোকে দেখার পর আমার সে হতাশা কেটে গেছে। আমার নিজেকে অনেক আত্মবিশ্বাসী মনে হয়েছে। আর আজ আপনাদের বক্তব্য শুনে ও আপনাদের কাজ দেখে আমার আত্মবিশ্বাস আরো বেড়ে গেছে।

তারেক রহমান তরুণ উদ্যোক্তাদের কাছে প্রত্যাশা ও দৃঢ় বিশ্বাস রেখে বলেন, যেহেতু রাজনীতি করি, তাই আমার তো একটি লক্ষ্য আছে, উদ্দেশ্য আছে। দলের পরিকল্পনা আছে। দেশ পরিচালনার দায়িত্বে আছি, দেশকে নিয়ে আমরা চিন্তা করি। দেশের বিভিন্ন সেক্টর নিয়ে চিন্তা করি। আমরা রাতদিন পরিশ্রম করে চেষ্টা করেছি একটু পরিবর্তন আনার। আজকে আপনাদের দেখে এবং ওই দুটো অনুষ্ঠানে বাচ্চাদের দেখে মনে হয়েছে আমরা কিছু সংখ্যক মানুষের হাতে দায়িত্ব দিয়ে যেতে পারব। আমরা যেখানে ছেড়ে যাব, সেখান থেকে দেশটাকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবেন আপনারা।

অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম এবং প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ। সূচনা বক্তব্য রাখেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সচিব মো. মামুনুর রশীদ ভূঞা। স্বাগত বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক এবং অনুষ্ঠান ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য ড. মো. মোর্শেদ হাসান খান। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম ধন্যবাদ জ্ঞাপন করে বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রী সিনেট ভবনের পাশে তরুণ উদ্যাক্তাদের স্টল পরিদর্শন করেন।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

রোগীদের ভোগান্তি কমাতে দ্রুত  সেবা নিশ্চিতে সমঝোতা স্মারক

রোগীদের ভোগান্তি কমাতে দ্রুত সেবা নিশ্চিতে সমঝোতা স্মারক

ভারতসহ ৫ দেশের বিরুদ্ধে নতুন মার্কিন শুল্ক

ভারতসহ ৫ দেশের বিরুদ্ধে নতুন মার্কিন শুল্ক

ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের স্বাভাবিক জীবন ফিরিয়ে আনতে কাজ করছে সরকার

ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের স্বাভাবিক জীবন ফিরিয়ে আনতে কাজ করছে সরকার

ক্যারিয়ারে সফল হতে নিয়মিত ছুটি নিতে শিখুন

ক্যারিয়ারে সফল হতে নিয়মিত ছুটি নিতে শিখুন

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App