×

শেষের পাতা

শাহজালালে থার্ড টার্মিনাল পরিচালনার চুক্তি শিগগিরই

Icon

হরলাল রায় সাগর

প্রকাশ: ২১ জুলাই ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

শাহজালালে থার্ড টার্মিনাল পরিচালনার চুক্তি শিগগিরই

ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনাল আসছে ডিসেম্বরের বিজয় দিবসে উদ্বোধনের লক্ষ্যে এগিয়ে যাচ্ছে বিএনপি সরকার। দীর্ঘ দিন ঝুলে থাকার পর অবেশেষে টার্মিনাল পরিচালনায় আগামী সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহের মধ্যেই জাপানি কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে চুক্তি সম্পন্ন করার কথা জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক। একইসঙ্গে সরকারি ঘোষণা অনুযায়ী ডিসেম্বরেই টার্মিনালটি উদ্বোধনের জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি। সরকারের দায়িত্ব নিয়েই প্রধানমন্ত্রী দ্রুত থার্ড টার্মিনাল চালু করার নির্দেশনা দেয়ার পর তোড়জোড় শুরু করে মন্ত্রণালয়।

শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনালের নির্মাণ কাজ প্রায় শেষ। টার্মিনালটি নির্মাণের জন্য নেয়া ঋণের কিস্তিও শুরু হয়ে গেছে। এই পরিস্থিতিতে আগামী ডিসেম্বর থেকে টার্মিনালটি চালু করতে চায় সরকার। কিন্তু টার্মিনালটি যারা চালাবেন, সেই জাপানিজ কোম্পানিগুলোর জোট বা কনসার্টিয়ামের সঙ্গে সরকারের মন্ত্রী পর্যায়ে কয়েক দফা বৈঠকের পরেও চুক্তি সম্পন্ন হয়নি। চুক্তির পর টার্মিনালে বসানো যন্ত্রগুলোর দায়িত্ব নিয়ে সেগুলো চালিয়ে পরীক্ষণ বা ক্যালিব্রেশনের কাজ শুরু করবে কনসোর্টিয়াম। তারা লোকবল নিয়োগ করবে। বড় টার্মিনালের ক্ষেত্রে ক্যালিব্রেশনেই কয়েক মাস সময় লাগে বলে জানাচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা। এই পরিস্থিতিতে ডিসেম্বরে টার্মিনালটি চালু করা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়।

বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর গত ২২ ফেব্রুয়ারি তৃতীয় টার্মিনাল দ্রুত চালুর জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সেই অনুযায়ী তোড়জোড় শুরু করেন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী ও কর্মকর্তারা। গেল মার্চ ও এপ্রিলে জাপানি কনসোর্টিয়ামের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বসেছিলেন সরকারের চার মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ও এক উপদেষ্টা। এরপর বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম বলেন, তৃতীয় টার্মিনাল পরিচালনায় বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে জাপানি কনসোর্টিয়ামের (চার কোম্পানির জোট) চুক্তি স্বাক্ষরের জোর চেষ্টা চলছে। টার্মিনাল পরিচালনায় রাজস্ব ভাগাভাগিতে জাপান পাবে ৭৩ শতাংশ, বাংলাদেশ পাবে ২৭ শতাংশ। চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষরের পর জাপান এয়ারপোর্ট টার্মিনাল কোম্পানি, সুমিতোমো করপোরেশন, নিপ্পন কোয়েই ও নারিতা ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট করপোরেশন সমন্বয়ে গঠিত একটি জাপানি কনসোর্টিয়াম হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালের পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব নেবে। মূলত থার্ড টার্মিনাল প্রকল্পটি অর্থায়নে জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (জাইকা) থাকায় তাদের দেশি কোম্পানির কাছে এটা পরিচালনার দায়িত্ব দেয়ার কথা শুরু থেকেই হচ্ছিল।

গতকাল সোমবার সাংবাদিকদের এক অনুষ্ঠানে বেবিচক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক বলছেন, সরকারেরর নির্দেশনা অনুযায়ী যথাসাধ্য চেষ্টা করছেন ডিসেম্বরে টার্মিনালটা চালু করার জন্য। এই দফায় টার্মিনালিটি উদ্বোধনের পর এর অপারেশনাল কর্মকাণ্ড আর বন্ধ হবে না। একইসঙ্গে বিমানবন্দরের নিরাপত্তা আরো জোরদার করতে চলতি বছরই এন্টি-ড্রোন সিস্টেম কেনা হবে। তিনি গণমাধ্যমকর্মীদের বিমানবন্দর এলাকায় ড্রোন ব্যবহার থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, জাপানিজরা ৩১ জুলাই দরপত্র জমা দেবে। এরপর সিদ্ধান্ত। চুক্তি স্বাক্ষরের পর জানা যাবে পরবর্তী তারিখ। তবে অগাস্টের শেষে অথবা সেপ্টেম্বরের প্রথম দিকে চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

চেয়ারম্যান বলেন, আমরা জাপানিজদের অনুরোধ করেছি, উদ্বোধনের পর যেন অপারেশন বন্ধ না হয়। প্রথমদিকে ২০ থেকে ২৫ ভাগ ট্রাফিক ওখানে নিতে পারব। এরপর ধাপে ধাপে সিডিউল ফ্লাইটগুলো সেখানে শিফট হবে।

২০২৪ সালের জাতীয় নির্বাচনের আগে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একবার এই টার্মিনালের উদ্বোধন করেছিলেন। তখন এর নাম দেয়া হয়েছিল সফট ওপেনিং। উদ্বোধন হলেও টার্মিনালটির কাজ তখনো পুরোপুরি শেষ হয়নি।

২০১৭ সালে ২১ হাজার কোটি টাকার বেশি ব্যয়ে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল প্রকল্প অনুমোদন করে আওয়ামী লীগ সরকার। এরপর প্রকল্প ব্যয় আরো বাড়িয়ে প্রায় ২৫ হাজার কোটি টাকা করা হয়। প্রকল্পের ব্যয়ের মধ্যে সরকার প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা দিয়েছে, আর অবশিষ্ট অর্থ ঋণ হিসেবে দিয়েছে জাইকা। কিন্তু টার্মিনাল চালু না হলেও গত জুন থেকেই ঋণের কিস্তি পরিশোধ শুরু হয়েছে। ২০৫৬ সাল পর্যন্ত এই কিস্তি চলবে। ২ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার বা ২৫ হাজার ৮৪৬ কোটি টাকার প্রকল্পটি বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলেই ৯০ ভাগ শেষ হয় বলে দাবি করা হয়েছিল। বিগত অন্তর্বর্তী সরকার চেষ্টা করেও থার্ড টার্মিনাল পরিচালনার জন্য কোনো কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি করতে পারেনি।

২০২৪ সালের কোটাবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে ৫ অগাস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর দেশের হাল ধরা অন্তর্বর্তী সরকারও চারটি কোম্পানির একটি জাপানি কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে থার্ড টার্মিনাল পরিচালনার চুক্তি করে বিরাট এই অবকাঠামোটাকে ব্যবহারযোগ্য করে তোলার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত জাপানি কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে ওই চুক্তি হয়নি।

রাজধানীর কুর্মিটোলায় বেবিচক সদর দপ্তরের অডিটোরিয়ামে ‘সিভিল এভিয়েশন অ্যান্ড এয়ার ট্রাফিক অপারেশন’ শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথি ছিলেন সংস্থাটির চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক। দেশের এভিয়েশন খাত সম্পর্কে সাংবাদিকদের কারিগরি ও বাস্তবভিত্তিক ধারণা দিতে বেবিচকের জনসংযোগ বিভাগের উদ্যোগে এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়।

মাহমুদ সিদ্দিক বলেন, নতুন এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল (এটিসি) ব্যবস্থা চালুর ফলে বাংলাদেশের আকাশসীমা ব্যবহারকারী বিদেশি উড়োজাহাজ থেকে ফ্লাইট চার্জ বাবদ রাজস্ব আয় বছরে প্রায় ৮ শতাংশ বাড়বে।

এভিয়েশন খাতে দায়িত্বশীল সংবাদ প্রকাশের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, বেসামরিক বিমান চলাচল একটি অত্যন্ত কারিগরি ও জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট খাত। তাই সঠিক তথ্য, কারিগরি জ্ঞান ও বাস্তবভিত্তিক ধারণা ছাড়া এ বিষয়ে নির্ভুল সংবাদ প্রকাশ সম্ভব নয়। সাংবাদিকদের এ বিষয়ে দক্ষ করে তুলতেই এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়েছে। ভবিষ্যতেও অপারেশন, নিরাপত্তা ও এভিয়েশনের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে এমন কর্মশালা আয়োজন করা হবে বলে জানান তিনি।

কর্মশালায় বেবিচকের সদস্য (অপারেশনস অ্যান্ড প্ল্যানিং) এয়ার কমোডোর আবু সাঈদ মেহবুব খান, সদস্য (প্রশাসন) মোহাম্মদ লাবলুর রহমান, সদস্য (এয়ার ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট) এয়ার কমোডোর মো. নূর-ই-আলম বেবিচকের দায়িত্ব ও কার্যক্রম, বিমানবন্দর পরিচালনা, এয়ারসাইড ও ল্যান্ডসাইড অপারেশন, যাত্রীসেবা, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার (আইকাও) মানদণ্ড ও সুপারিশকৃত কার্যপদ্ধতি (এসএআরপি) অনুসরণ, এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল (এটিসি), আকাশপথে বিমান চলাচল ব্যবস্থাপনা, এয়ার ট্রাফিক ফ্লো ম্যানেজমেন্ট, রেডিও ও ন্যাভিগেশন ব্যবস্থা, ইনস্ট্রæমেন্ট ল্যান্ডিং সিস্টেম (আইএলএস), এয়ারফিল্ড পরিচালনা এবং জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলাসহ বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।

কর্মশালায় রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা অংশ নেন। শেষে অংশগ্রহণকারী সাংবাদিকদের হাতে সনদপত্র তুলে দেয়া হয়। এসময় বেবিচকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

উত্তপ্ত পশ্চিমবঙ্গ, রাস্তায় নামলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

উত্তপ্ত পশ্চিমবঙ্গ, রাস্তায় নামলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

চিকিৎসার জন্য রাতেই সিঙ্গাপুর যাচ্ছেন ধর্মমন্ত্রী, চাইলেন দেশবাসীর দোয়া

চিকিৎসার জন্য রাতেই সিঙ্গাপুর যাচ্ছেন ধর্মমন্ত্রী, চাইলেন দেশবাসীর দোয়া

স্পেনকে রাজকীয় সংবর্ধনা দিলো মাদ্রিদ

স্পেনকে রাজকীয় সংবর্ধনা দিলো মাদ্রিদ

সাবেক রূপালী ব্যাংক ব্যবস্থাপকের ২৫ বছরের কারাদণ্ড

সাবেক রূপালী ব্যাংক ব্যবস্থাপকের ২৫ বছরের কারাদণ্ড

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App