ফ্যামিলি কার্ডের গ্রহণযোগ্য তথ্যভাণ্ডার গড়ার নির্দেশনা
কাগজ প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২১ জুলাই ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
দেশের প্রকৃত উপকারভোগীদের কাছে ফ্যামিলি কার্ডের সুবিধা কার্যকর, স্বচ্ছ ও নির্ভুলভাবে পৌঁছে দিতে একটি নির্ভুল ও গ্রহণযোগ্য তথ্যভাণ্ডার গড়ে তুলতে তাগিদ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে গতকাল সোমবার দুপুরে ফ্যামিলি কার্ড সম্প্রসারণের অগ্রগতি জানতে অনুষ্ঠিত বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী এই নির্দেশনা দেন। প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে বৈঠকে ফ্যামিলি কার্ড সম্প্রসারণ পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন কৌশল নিয়ে আলোচনা হয়।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় জানায়, বৈঠকে ধাপে ধাপে ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রম বিস্তারে বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা গ্রহণ, আধুনিক প্রযুক্তির সর্বোত্তম ব্যবহার এবং সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয় ও সংস্থার মধ্যে কার্যকর সমন্বয় নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় বলছে, দেশের প্রকৃত উপকারভোগীদের কাছে ফ্যামিলি কার্ডের সুবিধা কার্যকর, স্বচ্ছ ও নির্ভুলভাবে পৌঁছে দিতে একটি নির্ভুল ও গ্রহণযোগ্য তথ্যভাণ্ডার গড়ে তুলতে তাগিদ দিয়েছেন তারেক রহমান। এ সময় তিনি তথ্য সংগ্রহ, যাচাই-বাছাই এবং উপকারভোগী নির্বাচন প্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেন। সরকার গঠনের পর তারেক রহমান তার নির্বাচনী অঙ্গীকার ফ্যামিলি কার্ড প্রদানের কার্যক্রম শুরু করেন। এদিকে পরিবার-শুমারির তথ্য সংগ্রহ ও যাচাই শেষে আগামী অক্টোবর থেকে সারাদেশে পূর্ণাঙ্গভাবে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ শুরুর আশা প্রকাশ করেছেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন।
কদিন আগে শেষ হওয়া সংসদ অধিবেশনে তিনি বলেন, এ কর্মসূচির আওতায় প্রতিটি উপজেলায় গড়ে অন্তত ৮ হাজার পরিবারকে কার্ড দেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। সরকার চলতি অর্থবছরে ৪১ লাখ নতুন ফ্যামিলি কার্ড দেয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে বলেও তথ্য দেন তিনি।
বৈঠকে সমাজকল্যাণমন্ত্রী এ. জেড এম জাহিদ হোসেন, প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ. বি. এম. আব্দুস সাত্তার, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এসডিজি-বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক এস. এম. আব্দুল আওয়াল, বিএনপির নির্বাহী কমিটির বিশেষ সম্পাদক বেলায়েত হোসেন মৃধাসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
আইএলও মহাপরিচালকের সাক্ষাৎ, সহযোগিতা বাড়ানোর আশ্বাস : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) মহাপরিচালক গিলবার্ট এফ হোংবো। গতকাল সোমবার সকালে সচিবালয়ে সরকার প্রধানের দপ্তরে এ বৈঠক হয় বলে প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি জানান।
তিনি বলেন, তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করায় বৈঠকের শুরুতেই তাকে অভিনন্দন জানান আইএলও মহাপরিচালক। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শ্রমিকবান্ধব ও টেকসই কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি আইএলওর ধারাবাহিক সহযোগিতার জন্য সংস্থাটির মহাপরিচালককে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, সরকার শ্রমিকদের অধিকার সংরক্ষণ, নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা এবং আন্তর্জাতিক শ্রমমান বাস্তবায়নকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে।
উপ-প্রেস সচিব বলেন, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানান আইএলও মহাপরিচালক। তিনি এই অর্জনকে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সক্ষমতা ও গ্রহণযোগ্যতার একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতি হিসেবে বর্ণনা করেন। স্বল্প সময়ে আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশের অন্যান্য কূটনৈতিক সাফল্যেরও বর্তমান সরকারের ভূয়সী প্রশংসা করেন।
বৈঠকে শ্রমিকদের সামাজিক নিরাপত্তা, দক্ষতা উন্নয়ন, কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি, পরিবর্তিত বৈশ্বিক শ্রমবাজারের চাহিদা মোকাবিলায় দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা, তৈরি পোশাক শিল্পের অগ্রগতি, কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা, অনানুষ্ঠানিক শ্রমবাজারের উন্নয়ন, আন্তর্জাতিক শ্রমমান বাস্তবায়নে বাংলাদেশের অগ্রগতি, অভিবাসী শ্রমিকদের অধিকার ও কল্যাণ, নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল অভিবাসন ব্যবস্থা এবং বিদেশগামী কর্মীদের দক্ষতা উন্নয়নে সহযোগিতা জোরদারসহ শ্রম খাতে সরকারের চলমান সংস্কার নিয়ে আলোচনা হয়।
গিলবার্ট এফ হোংবো বলেছেন, জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর বাংলাদেশের প্রতি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আস্থা আরো সুদৃঢ় হয়েছে। আইএলও বাংলাদেশের সঙ্গে দীর্ঘদিনের অংশীদারত্ব আরো জোরদার করতে আগ্রহী এবং শ্রম খাতের উন্নয়নে সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ অব্যাহত রাখবে।
সাক্ষাৎকালে অন্যদের মধ্যে শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন, শ্রমসচিব আব্দুর রহমান তরফদার, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক (জাতিসংঘ) মো. কামরুজ্জামান, বাংলাদেশে আইএলওর কান্ট্রি ডিরেক্টর ম্যাক্স তুনোঁ এবং আইএলও মহাপরিচালকের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা হিতোমি নাকাগোমে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।
