×

শেষের পাতা

আরো ২ সন্দেহভাজনের ডিএনএ পরীক্ষার নির্দেশ

Icon

এম. ফিরোজ মিয়া, কুমিল্লা থেকে

প্রকাশ: ২২ জুলাই ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

আরো ২ সন্দেহভাজনের ডিএনএ পরীক্ষার নির্দেশ

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ইতিহাস বিভাগের ছাত্রী ও নাট্যকর্মী সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলায় সন্দেহভাজন আরো দুই ব্যক্তির ডিএনএ পরীক্ষার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। তাদের একজন সাবেক সেনাসদস্য, অন্যজন বেসামরিক ব্যক্তি। তনুর পোশাক থেকে পাওয়া ডিএনএ প্রোফাইলের সঙ্গে তাদের নমুনা মিলিয়ে দেখতে এ নির্দেশ দেয়া হয়েছে বলে আদালত সূত্র জানায়।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা, পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) ঢাকা ইউনিটের পরিদর্শক মো. তারিকুল ইসলাম গতকাল মঙ্গলবার বিকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, আসল অপরাধীদের সামনে আনতে এই পদক্ষেপ নিয়েছেন আদালত।

ডিএনএ পরীক্ষার অনুমতি পাওয়া দুই ব্যক্তি হলেন- কুমিল্লা সেনানিবাসের সাবেক সৈনিক মো. জাহিদুল ইসলাম (৪১) এবং কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলার বাসিন্দা ফয়সাল আহমেদ ওরফে রাব্বী (৩২)। তবে রাব্বীকে কী কারণে সন্দেহভাজন হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে, সে বিষয়ে তদন্তের স্বার্থে বিস্তারিত জানাতে অপারগতা প্রকাশ করেছে পিবিআই।

পিবিআই ও আদালত সূত্রে জানা গেছে, তনুর পরনের জব্দ করা পোশাকের ডিএনএ বিশ্লেষণে একাধিক পুরুষের পূর্ণাঙ্গ ডিএনএ প্রোফাইল পাওয়া যায়। ওই প্রোফাইলের সঙ্গে মিলিয়ে দেখার জন্য দুই সন্দেহভাজনের রক্তের নমুনা সংগ্রহ করে ডিএনএ পরীক্ষা করার আবেদন করে পিবিআই। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ জুলাই কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মমিনুল হক আবেদনটি মঞ্জুর করেন। গতকাল মঙ্গলবার বিকালে বিষয়টি গণমাধ্যমকে জানানো হয়।

আদালতের পরিদর্শক সাদেকুর রহমান বলেন, তনুর পোশাক থেকে পাওয়া ডিএনএর সঙ্গে সন্দেহভাজনদের ডিএনএ মিলিয়ে দেখা গেলে হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করা সম্ভব হতে পারে। এ কারণেই আদালত তাদের ডিএনএ পরীক্ষার অনুমতি দিয়েছেন।

এর আগে গত ২২ এপ্রিল আদালতের নির্দেশে কেরানীগঞ্জ থেকে সেনাবাহিনীর সাবেক সিনিয়র ওয়ারেন্ট কর্মকর্তা হাফিজুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে পিবিআই। একই দিন সিআইডির ডিএনএ ল্যাবে তার নমুনা সংগ্রহ করা হয়। পরে আদালত তার তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। বর্তমানে তিনি কারাগারে আছেন।

এরপর গত ৮ জুন তনু হত্যার সময় কুমিল্লা সেনানিবাসে কর্মরত সন্দেহভাজন সার্জেন্ট জাহিদুজ্জামান ওরফে জাহিদ এবং সৈনিক শাহীন আলমের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত। একই সঙ্গে তাদের গ্রেপ্তারে ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিস জারির নির্দেশ দেয়া হয়। পিবিআই জানিয়েছে, দুজনই বর্তমানে পলাতক।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তারিকুল ইসলাম বলেন, মামলাটি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী একজন সাবেক সেনাসদস্য ও একজন বেসামরিক ব্যক্তির রক্তের নমুনা সংগ্রহ করে ডিএনএ প্রোফাইল প্রস্তুত এবং তুলনামূলক পরীক্ষা করা হবে। তবে বর্তমানে ওই দুই ব্যক্তি তাদের হেফাজতে আছেন কিনা তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

২০১৬ সালের ২০ মার্চ কুমিল্লা সেনানিবাস এলাকায় টিউশনি করতে গিয়ে নিখোঁজ হন ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী ও নাট্যকর্মী সোহাগী জাহান তনু। পরদিন সেনানিবাসের একটি জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করেন তার বাবা ইয়ার হোসেন।

প্রথমে থানা-পুলিশ, পরে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) এবং সিআইডি মামলাটি তদন্ত করলেও হত্যার রহস্য উদঘাটন করতে পারেনি। ২০১৭ সালে সিআইডি তনুর পোশাক থেকে সংগৃহীত নমুনায় তিনজন পুরুষের শুক্রাণুর উপস্থিতির তথ্য জানায়। সে সময় ডিএনএ প্রোফাইল তৈরি হলেও সন্দেহভাজনদের সঙ্গে তা মিলিয়ে দেখা হয়নি।

২০২০ সালের অক্টোবরে মামলার তদন্তভার সিআইডির কাছ থেকে পিবিআইয়ের কাছে হস্তান্তর করা হয়। সর্বশেষ ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে মামলাটির তদন্ত করছেন পিবিআইয়ের পরিদর্শক মো. তারিকুল ইসলাম।

তদন্ত-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভাষ্য, সাবেক সেনা কর্মকর্তা হাফিজুর রহমানের গ্রেপ্তার, দুই সন্দেহভাজনের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের রেড নোটিস জারির উদ্যোগ এবং এখন আরো দুই ব্যক্তির ডিএনএ পরীক্ষার নির্দেশ- এসবের মধ্য দিয়ে তনু হত্যা মামলার তদন্তে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে ।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

এক নজরে বিশ্বকাপজয়ী ১০ জন কনিষ্ঠ ফুটবলার

এক নজরে বিশ্বকাপজয়ী ১০ জন কনিষ্ঠ ফুটবলার

নিট ইস্যুতে আলোচনায় রাজি মোদী সরকার, প্রত্যাখ্যান কংগ্রেসের

নিট ইস্যুতে আলোচনায় রাজি মোদী সরকার, প্রত্যাখ্যান কংগ্রেসের

বস্ত্রখাতের সমস্যা সমাধানে প্রধানমন্ত্রীর কমিটি গঠন

বস্ত্রখাতের সমস্যা সমাধানে প্রধানমন্ত্রীর কমিটি গঠন

লেবাননে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা ৪ লাখ ছাড়াল

জাতিসংঘের প্রতিবেদন লেবাননে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা ৪ লাখ ছাড়াল

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App