পরিবেশ রক্ষার বার্তা নিয়ে টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়ায় ফাহিমের পদযাত্রা
মো. রাজীব চৌধুরী রাজু, নীলফামারী থেকে
প্রকাশ: ২৯ জুলাই ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
পরিবেশ রক্ষা, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং মানুষকে হাঁটার অভ্যাসে উদ্বুদ্ধ করার বার্তা নিয়ে কক্সবাজারের টেকনাফ থেকে দেশের সর্বউত্তরের জনপদ পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ার উদ্দেশ্যে পদযাত্রা করছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ২৬ বছর বয়সী তরুণ ফাহিম মুনতাসির। ‘কালো ধোঁয়া আর নয়, হেঁটে করব দূরত্ব জয়’- এই স্লোগান বুকে ধারণ করে গতকাল মঙ্গলবার ১৯ দিনের টানা হাঁটা শেষে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তিনি উত্তরের জেলা নীলফামারী শহরে পৌঁছান।
ফাহিম মুনতাসির জানান, গত ১০ জুলাই টেকনাফ শাপলা চত্বর জিরো পয়েন্ট থেকে তিনি দুই সহযাত্রীকে নিয়ে যাত্রা শুরু করেন। তবে ফেনী পৌঁছানোর পর ব্যক্তিগত কারণে দুই সহযাত্রী পদযাত্রা থেকে সরে দাঁড়ান। এরপর থেকে একাই পথচলা অব্যাহত রেখেছেন তিনি।
চট্টগ্রাম, ফেনী, কুমিল্লা, ঢাকা, টাঙ্গাইল, সিরাজগঞ্জ, পাবনা, বগুড়া ও রংপুর অতিক্রম করে প্রায় এক হাজার কিলোমিটার পথ হেঁটে গতকাল মঙ্গলবার নীলফামারীতে পৌঁছান ফাহিম। পরিকল্পনা অনুযায়ী আজ বুধবার দুপুরের মধ্যে তিনি তেঁতুলিয়া জিরো পয়েন্টে পৌঁছে ২০ দিনের এই পদযাত্রার সমাপ্তি করবেন। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে নীলফামারী প্রেস ক্লাবে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন ফাহিম।
এই উদ্যমী তরুণ জানান, ‘কালো ধোঁয়া আর নয়, হেঁটেই করব দূরত্ব জয়’- এই স্লোগানকে বুকে ধারণ করে পদযাত্রা শুরু করেন তিনি। পথে বিভিন্ন জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন ও পৌরসভা এলাকার মানুষের সঙ্গে কথা বলে পরিবেশ সুরক্ষা, জীববৈচিত্র্য রক্ষা এবং জ্বালানির ব্যবহার কমানোর বিষয়ে সচেতনতা তৈরির চেষ্টা করছেন। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, বর্তমানে আমরা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক বেশি জ্বালানি চালিত যানবাহনের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছি। সামান্য দূরত্বেও মোটরচালিত যান ব্যবহার করছি। এতে যেমন নিজের শারীরিক ক্ষতি হচ্ছে, তেমনি পরিবেশও দূষিত হচ্ছে। তাই প্রতিদিন অন্তত পাঁচ কিলোমিটার হাঁটার অভ্যাস গড়ে তোলা উচিত।
ফাহিম আরো বলেন, প্রতিবছর সরকার কোটি কোটি বৃক্ষরোপণ করলেও সঠিক পরিচর্যা ও জনসচেতনতার অভাবে অনেক গাছই টিকে থাকে না। শুধু গাছ লাগালেই হবে না, সেগুলোকে বাঁচিয়ে রাখার দায়িত্বও আমাদের সবার। পরিবেশ রক্ষায় ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজ-সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
আলাপ কালে ফাহিম মুনতাসির বলেন, আমি স্কুল জীবন থেকেই সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত। বর্তমানে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সাংস্কৃতিক সংগঠন সোনালী সকাল-এর সভাপতি এবং বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির যুব প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি। পাশাপাশি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার একটি বেসরকারি কলেজে শিক্ষকতাও করছি। এর আগে প্রকৃতি সংরক্ষণ, জলাধার রক্ষা এবং পরিবেশবিষয়ক বিভিন্ন সামাজিক উদ্যোগেও সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছি।
