ঢাকা ও চট্টগ্রামের সড়কে নারীর জন্য গোলাপি বাস
কাগজ প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৯ আগস্ট ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
গণপরিবহনে নারীর দুর্ভোগের চিত্র নতুন নয়। রাজধানীর সড়কে নারীদের যাতায়াত আরো নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় করতে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশন (বিআরটিসি) চালু করেছে বিশেষ সেবা-গোলাপি বাস। এর অংশ হিসেবে ১৪টি বিশেষ বাস চালু করা হচ্ছে। ঢাকার ১০টি রুটে ১০টি বাস, চট্টগ্রামে দুটি রুটে দুটি এবং বগুড়ায় দুটি রুটে দুটি বাস চলবে। ঢাকার ১০টি বাসের মধ্যে একটি একতলা এবং ৯টি দ্বিতল বাস। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর তেজগাঁও বিআরটিসির ট্রাক ডিপোতে এই সেবার উদ্বোধন করেন সড়ক পরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। অনুষ্ঠানে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব, বিআরটিসির চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সড়ক ও পরিবহনমন্ত্রী বলেন, এই সেবার মান সময়ের সঙ্গে আরো উন্নত করতে হবে এবং নারী যাত্রীরা যাতে নিরাপদ ও স্বস্তিতে যাতায়াত করতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে হবে। অতীতের অনেক উদ্যোগের মতো এই গোলাপি বাস যেন হারিয়ে না যায়।
তিনি বলেন, অতীতে বিভিন্ন উদ্যোগ উদ্বোধনের কয়েক মাসের মধ্যে বন্ধ হয়ে যাওয়ার উদাহরণ আছে। এমনো হয়েছে, কোনো সেবা উদ্বোধনের ৬ মাস পর সেটির আর অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায়নি। এই সরকার এমনটি হতে দেবে না।
বিআরটিসি ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আজ যে সেবা শুরু হচ্ছে, দুই মাস পর এই সেবার মান আরো বাড়াতে হবে। বিদ্যমান লজিস্টিক সহায়তা ও জনবল হয়তো নতুন ব্যবস্থার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত নাও থাকতে পারে। তবে প্রতিদিন ব্যবস্থাপনার উন্নতি করতে হবে।
নারী যাত্রীরা যাতে নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যে বাসে যাতায়াতে উৎসাহিত হন, সে পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেন মন্ত্রী। তিনি আরো বলেন, এ জন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা সরকার করবে এবং মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে দায়বদ্ধ থাকবে। এই উদ্যোগকে টেকসই রাখা, আরো সমৃদ্ধ করা এবং প্রসারিত করাই মূল চ্যালেঞ্জ। সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় মন্ত্রণালয় প্রস্তুত রয়েছে। সাংবাদিকদের উদ্যোগটির ভুল-ত্রæটি তুলে ধরে তা সংশোধনে সহযোগিতা করবেন।
নারীদের যাতায়াতের পুরো প্রক্রিয়াকে নিরাপদ করার ওপর জোর দিয়ে মন্ত্রী বলেন, নারী যাত্রীদের জন্য বাসে ওঠার আগের অপেক্ষার সময় থেকে শুরু করে বাসে ওঠা এবং বাস থেকে নামা পর্যন্ত পুরো যাত্রাটিই নিরাপদ ও যাত্রীবান্ধব করতে হবে। অপেক্ষার সময় অনেক নারী বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হন। বাসের ভেতরেও ব্যবস্থাপনার কারণে অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়। আবার বাস থেকে নামার সময়ও অনেক ক্ষেত্রে অনিরাপদ পরিবেশ তৈরি হয়। নারীদের সক্ষমতাকে রাষ্ট্রের কাজে পুরোপুরি ব্যবহার করতে হলে তাদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
যেসব রুটে চলবে বাস : মতিঝিল বাস ডিপোর অধীনে নতুন বাজার (কোকাকোলা)-মতিঝিল এবং তালতলা-মতিঝিল রুটে বাস চলবে। নতুন বাজার (কোকাকোলা)-মতিঝিল রুটে কোকাকোলা, নতুন বাজার, উত্তর বাড্ডা, মধ্য বাড্ডা, মেরুল বাড্ডা, রামপুরা, আবুল হোটেল, মালিবাগ,
কাকরাইল, পল্টন ও গুলিস্তান হয়ে মতিঝিলে যাবে বাস। তালতলা-মতিঝিল রুটে তালতলা, খিলগাঁও রেলগেট, বাসাবো, বৌদ্ধমন্দির, মুগদা, কমলাপুর রেলস্টেশন, আরামবাগ, শাপলা চত্বর ও সচিবালয় হয়ে মতিঝিলে চলাচল করবে বাস।
যাত্রাবাড়ী বাস ডিপোর অধীনে ডেমরা স্টাফ কোয়ার্টার-জিপিও রুটে চলবে একটি বাস। এ পথে ডেমরা স্টাফ কোয়ার্টার, বাঁশের পুল, কাজলা, যাত্রাবাড়ী, জনপথ মোড়, গুলিস্তান, পল্টন, সচিবালয় ও মৎস্য ভবন হয়ে জিপিও পর্যন্ত যাবে। কল্যাণপুর বাস ডিপোর অধীনে মিরপুর-১০-মতিঝিল রুটে বাস চলবে। এ রুটে মিরপুর-১০, টেকনিক্যাল, কল্যাণপুর, শ্যামলী, আসাদগেট, কলাবাগান, শাহবাগ ও পল্টন হয়ে মতিঝিলে যাবে বাস। এছাড়া মিরপুর বাস ডিপোর অধীনে মিরপুর-মতিঝিল এবং মিরপুর-১২-মতিঝিল রুটে বাস চলাচল করবে। মিরপুর-মতিঝিল রুটে মিরপুর-১২, মিরপুর-১০, মিরপুর-১, টেকনিক্যাল, শ্যামলী, ফার্মগেট, শাহবাগ ও গুলিস্তান হয়ে মতিঝিলে যাবে বাস। অন্যদিকে মিরপুর-১২-মতিঝিল রুটে মিরপুর-১২, মিরপুর-১১, মিরপুর-১০, কাজীপাড়া, শেওড়াপাড়া, ফার্মগেট, শাহবাগ, প্রেস ক্লাব ও গুলিস্তান হয়ে মতিঝিলে চলবে। মোহাম্মদপুর বাস ডিপোর অধীনে মোহাম্মদপুর-মতিঝিল রুটেও চলবে বিশেষ বাস। এ পথে মোহাম্মদপুর, শংকর, ধানমন্ডি-১৫, সিটি কলেজ, নিউমার্কেট, এলিফ্যান্ট রোড, শাহবাগ ও পল্টন হয়ে মতিঝিলে চলাচল করবে। জোয়ারসাহারা বাস ডিপোর অধীনে আব্দুল্লাহপুর-মতিঝিল রুটে চলবে বাস। এ রুটে আব্দুল্লাহপুর, বিমানবন্দর, খিলক্ষেত, বিশ্বরোড, কুড়িল, বনানী, মহাখালী, ফার্মগেট, শাহবাগ, প্রেস ক্লাব ও গুলিস্তান হয়ে মতিঝিলে যাবে। গাজীপুর বাস ডিপোর অধীনে গাজীপুর-বিমানবন্দর রুটেও বিশেষ বাস চলবে। গাজীপুর, শিববাড়ী, গাজীপুর চৌরাস্তা, মালেকের বাড়ি, বোর্ডবাজার, গাজীপুরা, কলেজগেট, স্টেশন রোড, আব্দুল্লাহপুর ও আশপুর হয়ে বিমানবন্দর পর্যন্ত চলাচল করবে বাস।
রাজধানীর বাইরে বগুড়ায় শেরপুর-মাটিডালি রুটে দুটি এবং চট্টগ্রামে কালুরঘাট-পতেঙ্গা রুটে দুটি বাস চলবে। চট্টগ্রামের বাসগুলো কালুরঘাট, কাপ্তাই রাস্তার মাথা, বহদ্দারহাট, মুরাদপুর, ২ নম্বর গেট, জিইসি মোড়, লালখান বাজার, টাইগারপাস, দেওয়ানহাট, চৌমুহনী, আগ্রাবাদ, বারেক বিল্ডিং, ফ্রিপোর্ট ও কাটগড় হয়ে পতেঙ্গা পর্যন্ত চলাচল করবে।
আগামী দিনে এই সেবা আরো স¤প্রসারণ করা হবে জানিয়ে শেখ রবিউল আলম বলেন, রুটের সংখ্যা ও বাসের সংখ্যা বাড়ানো হবে। বর্তমানে যে পরিবেশে নারীরা যাতায়াত করছেন, সেটিও ধীরে ধীরে আরো উন্নত করা হবে।
চট্টগ্রামেও এই সেবা চালু : এদিকে চট্টগ্রামের কালুরঘাট এলাকায় গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে উদ্বোধন করা হয় গোলাপি বাস। এ সেবার আওতায় বিআরটিসির একটি দ্বিতল ও একটি একতলা বাস চলবে। কালুরঘাট থেকে পতেঙ্গা রুটে চলাচলকারী দ্বিতল বাসটি ৭৫ আসনের, আর একতলা বাসের আসন ৪৫টি। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহ বলেন, এই বাস সার্ভিস নারীদের জন্য বিরাট একটা সুযোগ। কারণ একটা বাসে ওঠা নারীর পক্ষে সম্ভব না। সুতরাং নতুন করে যে সিস্টেম চালু হয়েছে, এটা নারীদের জন্য নিরাপদ আর তারা স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করবে।
চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, বাংলাদেশ সরকার নারীদের যাত্রা নিরাপদ এবং স্বাচ্ছন্দ্য করতে নারী চালক ও নারী সহকারী দিয়ে নারীদের জন্য বাস সার্ভিস চালু করেছে।
কালুরঘাট থেকে কাপ্তাই রাস্তার মাথা, বহদ্দারহাট, মুরাদপুর, দুই নম্বর গেট, জিইসি, লালখান বাজার, টাইগার পাস মোড়, দেওয়ান হাট, চৌমুহনী, আগ্রাবাদ, বারেক বিল্ডিং মোড়, ফ্রি পোর্ট, কাঠগড় হয়ে পতেঙ্গা পর্যন্ত চলবে এ গোলাপি বাস। সর্বনি¤œ ১০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৬৮ টাকা পর্যন্ত ভাড়া দিয়ে এই বাসে চলাচল করতে পারবেন যাত্রীরা।
