×

ভারত

কলকাতার হোটেলে আগুন, বেঁচে ফেরা ৩ বাংলাদেশির ভয়াবহ অভিজ্ঞতা

Icon

কাগজ ডেস্ক

প্রকাশ: ১৯ আগস্ট ২০২৬, ০৪:১৪ পিএম

কলকাতার হোটেলে আগুন, বেঁচে ফেরা ৩ বাংলাদেশির ভয়াবহ অভিজ্ঞতা

ছবি : সংগৃহীত

কলকাতার নিউ মার্কেট এলাকার মির্জা গালিব স্ট্রিটের একটি হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের অধিকাংশই বাংলাদেশি নাগরিক বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় প্রাণে বেঁচে যাওয়া তিন বাংলাদেশি নাগরিক জানিয়েছেন আগুনের সময় তাদের ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা।

গাজীপুরের বাসিন্দা মোহাম্মদ আশরাফুল জামাল গত শনিবার থেকে ওই ভবনের চতুর্থ তলার একটি হোটেলে অবস্থান করছিলেন। ব্যবসায়িক কাজে কলকাতায় যাওয়া আশরাফুল মঙ্গলবার রাতে ভাইকে নিয়ে ঘুমিয়ে ছিলেন। হঠাৎ চিৎকার-চেঁচামেচিতে তাদের ঘুম ভেঙে যায়।

জানালা খুলে নিচে তাকিয়ে আশরাফুল দেখতে পান, লোকজন চিৎকার করে বলছেন‘আগুন লেগেছে।’ পরিস্থিতি বুঝে ভাইকে নিয়ে বের হওয়ার চেষ্টা করেন তিনি। কিন্তু দরজা খোলার সঙ্গে সঙ্গে ঘরে ঢুকে পড়ে ঘন ধোঁয়া। পরে ধোঁয়ার মধ্য দিয়েই তারা কোনোভাবে ছাদে উঠে যান এবং দমকল বাহিনী আসা পর্যন্ত সেখানেই অবস্থান করেন।

আশরাফুল জানান, ওই সময় চতুর্থ তলার প্রায় ২০ থেকে ২৫ জন ছাদে উঠে পানির ট্যাঙ্কের কাছে আশ্রয় নেন। আগুন কোন দিক থেকে ছড়িয়ে পড়বে, তা বুঝতে পারছিলেন না তারা। আগুনের শিখা দেখা গেলে ট্যাঙ্কের পানি দিয়ে তা নেভানোর চেষ্টা করবেন এমন প্রস্তুতিও নিয়েছিলেন সবাই।

একই হোটেলে থাকা ঢাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ নাজমুল সরকারও সেই রাতের আতঙ্কের কথা জানিয়েছেন। হৃদ্‌রোগের চিকিৎসার জন্য তিনি কলকাতায় গিয়েছিলেন। আগুনের সময় চারপাশ ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়ায় তার শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছিল। একপর্যায়ে তার মনে হয়েছিল, হয়তো আর বাঁচতে পারবেন না।

নাজমুল বলেন, হোটেলের কর্মীরা বারবার তাদের ওপরে উঠে যেতে বলছিলেন। কিন্তু ওপরে যাওয়ার পথ ছিল অত্যন্ত সরু। লোহার সিঁড়ি দিয়ে একসঙ্গে একজন করে উঠতে পারছিলেন। নিচে নামারও কোনো সুযোগ ছিল না। ঘন ধোঁয়ার কারণে এক হাত দূরের কিছুই দেখা যাচ্ছিল না।

আরও পড়ুন: কলকাতায় হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে বাংলাদেশিসহ ৯ জনের মৃত্যু

তিনি জানান, দরজা খোলার সঙ্গে সঙ্গে ধোঁয়া দ্রুত ভেতরে ঢুকে পড়ে এবং পুরো জায়গা অন্ধকার হয়ে যায়। পরে মোবাইলের টর্চ জ্বালিয়ে কোনোভাবে ওপরে উঠে প্রাণে বেঁচে যান তিনি।

অগ্নিকাণ্ডের পর হোটেল কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়েও অভিযোগ করেছেন কয়েকজন বোর্ডার। তাদের দাবি, আগুন লাগার পর হোটেল কর্মীদের মধ্যে পর্যাপ্ত তৎপরতা দেখা যায়নি। এমনকি হোটেলে প্রয়োজনীয় অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা বা যন্ত্র ছিল না বলেও অভিযোগ করেছেন তারা।

এদিকে, পরিবারের সদস্য ও সন্তানকে নিয়ে ওই ভবনের নিচতলার আরেকটি হোটেলে উঠেছিলেন বাংলাদেশি নাগরিক কাউসার হোসেন। তিনি জানান, প্রথমে তারা আগুনের বিষয়টি বুঝতে পারেননি। পরে হোটেলকর্মীরা দরজায় ধাক্কা দিয়ে ঘুম থেকে জাগিয়ে দিলে তারা দ্রুত বাইরে বেরিয়ে আসেন।

তবে বাইরে আসার পর কাউসারের মনে পড়ে, ঘরের ভেতর পাসপোর্ট রয়ে গেছে। পরে ঝুঁকি নিয়ে তিনি আবার হোটেলের ভেতরে ঢুকে পাসপোর্ট নিয়ে বেরিয়ে আসেন।

কলকাতার ওই অগ্নিকাণ্ডে এখন পর্যন্ত ৯ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। নিহতদের মধ্যে ছয়জন পুরুষ, দুজন নারী ও একটি শিশু রয়েছে। তাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি নাগরিক বলে জানা গেছে।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

স্বাধীন সাংবাদিকতায় সরকারের কোনো বিধিনিষেধ নেই: তথ্যমন্ত্রী

স্বাধীন সাংবাদিকতায় সরকারের কোনো বিধিনিষেধ নেই: তথ্যমন্ত্রী

কলকাতায় অগ্নিকাণ্ড: একই পরিবারর চার জনের মৃত্যু

কলকাতায় অগ্নিকাণ্ড: একই পরিবারর চার জনের মৃত্যু

পর্নোগ্রাফিক কনটেন্ট বিক্রির অভিযোগে সুমাইয়া গ্রেপ্তার

পর্নোগ্রাফিক কনটেন্ট বিক্রির অভিযোগে সুমাইয়া গ্রেপ্তার

নিরাময়কেন্দ্রেই বন্দিশালা, তমিজীকে নিয়ে হারুনের বিস্ফোরক তথ্য

নিরাময়কেন্দ্রেই বন্দিশালা, তমিজীকে নিয়ে হারুনের বিস্ফোরক তথ্য

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App